default-image

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন নির্বাচিত হয়েছেন বলে মনে করেন প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন। রিপাবলিকান সমর্থকদের অর্ধেকের বেশি এই দলে রয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইপসস পরিচালিত জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যই এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ফল ঘোষণা না করলেও দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে গত শনিবার সকালেই জো বাইডেনের জয় নিশ্চিত বলে ঘোষণা দেয়। এডিসন রিসার্চের সর্বশেষ তথ্যমতে, প্রেসিডেন্সি জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট এরই মধ্যে পেয়েছেন জো বাইডেন। মোট ৫৩৮ ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে বাইডেন এরই মধ্যে ২৭৯টি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২১৪টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত গণনা হওয়া মোট ভোটের মধ্যে ৭ কোটি ৬৩ লাখ ভোট পেয়েছেন বাইডেন, যা মোট ভোটের ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ট্রাম্প পেয়েছেন ৭ কোটি ১৬ লাখ ভোট, যা মোট গণনা হওয়া ভোটের ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

তারপরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা এই ফল মেনে নেননি। তাঁরা নির্বাচনের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাচ্ছেন। এমনকি ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে প্রশাসনিক কোনো দৃষ্টিগ্রাহ্য উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।

এ অবস্থায় রয়টার্স/ইপসস নির্বাচনের প্রাথমিক ফল গণমাধ্যমে ঘোষণার দিন গত শনিবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত একটি জনমত জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই মনে করেন বাইডেন জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া ১৩ শতাংশ মনে করেন নির্বাচনের ফল এখনো চূড়ান্ত নয়। আর ৩ শতাংশ বলেছেন ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন। তবে এখনো ৫ শতাংশ মানুষ রয়েছেন, যারা বলছেন এ ব্যাপারে তাঁরা কিছুই জানেন না।

বিজ্ঞাপন
জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দলীয় অবস্থান থেকেই মত দিয়েছেন বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া ডেমোক্র্যাটদের সবাই বাইডেনকে জয়ী বলেছেন। রিপাবলিকানদের ৬০ শতাংশও বাইডেনকে জয়ী মনে করেন

জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দলীয় অবস্থান থেকেই মত দিয়েছেন বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া ডেমোক্র্যাটদের সবাই বাইডেনকে জয়ী বলেছেন। রিপাবলিকানদের ৬০ শতাংশও বাইডেনকে জয়ী মনে করেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচনের এই ফল প্রত্যাখ্যান করছেন। এর আগে ভোট গণনা চলাকালেই কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই নিজেকে তিনি নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন। পরে নির্বাচনের ফল বাইডেনের পক্ষে যেতে থাকলে তিনি ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন। কিন্তু এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করেননি। তাঁর এই দাবিকে এখনো সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এমনকি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্ন উঠলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের পর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোলা এই ভোট জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে নেই অধিকাংশ মার্কিন। রয়টার্স/ইপসস জরিপের তথ্যমতে, ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, তাঁদের নিজ নিজ এলাকার নির্বাচনী কর্মকর্তারা সততার সঙ্গে কাজ করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের ৫৯ শতাংশ ও ডেমোক্র্যাটদের ৮৩ শতাংশই এমন মত দিয়েছেন। এ ছাড়া ৭২ শতাংশ মনে করেন, নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর অবশ্যই ফল মেনে নেওয়া উচিত। আর ৬০ শতাংশ এখনো শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ওপর আস্থা রাখেন।

রয়টার্স/ ইপসস এ জরিপ শুরু করেছিল গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর)। শনিবার নির্বাচনের প্রাথমিক ফল গণমাধ্যমে ঘোষণার পর জয়ী ও পরাজিত প্রার্থী সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে অংশ নেন ১ হাজার ৩৬৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন। এর মধ্যে শনিবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত অংশ নেন ৪৬৯ জন। এতে ‘মার্জিন অব এরর’ ধরা হয়েছে ৫ শতাংশ পয়েন্ট।

মন্তব্য পড়ুন 0