default-image

কোভিড-১৯ বিশ্ব অর্থনীতির ভিত যেমন নাড়িয়ে দিয়েছে, তেমনি অনেক মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারকে দুঃসহ কষ্টে ফেলে দিয়েছে। এমন অস্থির সময়ে বাংলাদেশে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক গত ২৪ জুলাই ২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ২ কোটি টাকার ‘কোভিড রিকভারি স্কলারশিপ’ ঘোষণা দেয়। প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী এই স্কলারশিপ পেতে আবেদন করেন। তাদের মধ্য থেকে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে ২ হাজার শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপের জন্য চূড়ান্ত করা হয়।

১২ সেপ্টেম্বর ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘কোভিড রিকভারি স্কলারশিপ ২০২০’–এর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি হোসেনে আরা বেগম (এনডিসি), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব)। ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিপলএনটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারহানা হানিপ, লিয়াকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক (আমরাই ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরাম), পিপলএনটেকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মো. ইউসূফ খান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মো. ইউসূফ। বিশেষ অতিথি লিয়াকত হোসেন বলেন, প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুললে সেটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বিজ্ঞাপন

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারহানা হানিপ পিপলএনটেকের নানা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে, যাদের বেশির ভাগই মেয়ে। এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম একটি লক্ষ্য হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে সিঙ্গেল কিংবা বেকার মায়েদের প্রযুক্তিভিত্তিক কাজ শিখিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

আবুবকর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কেউ ব্যাচেলর কিংবা মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করে এন্ট্রি লেভেলে চাকরি নিলে বছরে সর্বোচ্চ ৪৫-৫০ হাজার ডলার আয় করতে পারে। ১০০-১২০ হাজার ডলার আয় করতে হলে তাকে ৬/৭ বছর চাকরি করতে হয়। পিপলএনটেক মাত্র ৪ মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ১২০-১৪০ হাজার ডলারের চাকরি দিতে সক্ষম হয়েছে।

পিপলএনটেকের সিইও আবুবকর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও নতুন এক শিক্ষা মডেল তৈরি নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে বলেন, এই মডেলের মূল লক্ষ্য বেকারত্ব দূর ও শিক্ষার্থীদের কম সময়ে আরও দক্ষ করে তোলা। এই মডেল অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম তিন বছর একাডেমিক পড়াশোনা করবে। চতুর্থ বছর থেকে সে তার পছন্দের যেকোনো একটি বিষয় বেছে নিয়ে সে বিষয়ে স্পেশালিস্ট হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবে। যেন চাকরিতে ঢুকেই সে মিড লেভেল পর্যায়ের দক্ষতা নিয়ে কাজ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

পিপলএনটেকের ২ কোটি টাকার আইটি বৃত্তিতে মোট ৯টি কোর্স রয়েছে। স্কলারশিপের শিক্ষার্থীরা কেউ পরে অ্যাডভান্স কোর্স করতে চাইলে সে ক্ষেত্রে তারা ৫০% স্কলারশিপের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। যারা এবার স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হননি, ভবিষ্যতে পিপলএনটেকের যেকোনো স্কলারশিপের ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন।

প্রধান অতিথি হোসেনে আরা পিপলএনটেকের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। সেই সঙ্গে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশে ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তিনি কোভিড রিকভারি স্কলারশিপ নামের এই উদ্যোগে ২ হাজার শিক্ষার্থীকে আইটি প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

মন্তব্য পড়ুন 0