বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফোবানার অনুষ্ঠান দেখছি। এক ভদ্রলোক আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন, ‘তুমি তো বইটই পড়ো, তাই না?’ তাঁকে আগে একবার দেখেছি। কিন্তু নাম মনে করতে পারলাম না। বইয়ের কথা শুনে বললাম, ‘জি, পড়ি তো।’ তিনি বললেন, ‘বাংলা সাহিত্যে কিন্তু একজন খুব ভালো ছোট গল্পকার ছিলেন, নাম ত্রৈলোক্যনাথ। তাঁর লেখা পড়েছ?’

নাম শুনে মনে হলো বঙ্কিমেরও আগের এবং তাঁর থেকেও খটমটে ভাষায় লেখা গল্প হবে। অবশ্য বঙ্কিম আমার প্রিয় একজন লেখক, কিন্তু ত্রৈলোক্যনাথে ভরসা পেলাম না। কে পড়ে অখ্যাত লেখকের লেখা? কত নামীদামি লেখকের লেখাই পড়া হয়নি। তার ওপর ঊনবিংশ শতাব্দীর গ্রাম্য ধরনের গল্প-টল্প হবে নিশ্চয়ই। উত্তরে কী বলেছিলাম মনে নেই। সচরাচর, সত্যটাই বলি। পড়া হয়নি বা এই নাম আসলে শুনিনি, এমনটা। আবার মান বাঁচানোর জন্য দুর্বল গলায় ‘ও হ্যাঁ, পড়েছি, অনেক আগে’, সেটাও কদাচিৎ বলে ফেলি। তিনি বললেন, ‘তাঁর লেখাগুলো কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে। এখন আর পাওয়াই যায় না। তাই আমি তাঁর একটি রচনা সংগ্রহ বের করেছি।’

তখন খেয়াল করলাম, ভদ্রলোকের ঘাড়ে একটি ঝোলা। সেখানে বেশ কিছু বই। এতটা আশা করিনি। তবে বই কেনায় আমার কোনো অনাগ্রহ নেই। আমার বই যখন মানুষ কেনে বা কিনতে বাধ্য হয়, আমি অন্যের বই বা অন্যের বের করা বই কিনব না কেন?

প্রায় ডিকশনারির মতো সাইজের মোটা একটি বই। এই বই পড়ার আমার কোনো ইচ্ছা নেই, তবে কেনার ইচ্ছা আছে। বেচারা এত থাকতে কোত্থেকে কোন ত্রৈলোক্যনাথের লেখার সংকলন করে বের করেছেন। তা-ও প্রবাসে থেকে। এক কপি কিনে নিলাম। অল্প পরিচিতদের সঙ্গে আমি আড়ষ্ট হয়ে থাকি। প্রতি বাক্যের পরেই নতুন কী বলব সেটা ভাবতে হয়। আবার চুপচাপ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকলে অস্বস্তি লাগে। তিনি আমার অস্বস্তি দূর করে দিয়ে অন্য দিকে চলে গেলেন। পুরো বিষয়টাতে বেশ আশ্চর্য হলাম। কত রকমের মানুষ আছে! এই ভদ্রলোক গাঁটের পয়সা খরচ করে কোনো অখ্যাত লেখকের লেখা বের করে বসে আছেন! বই বের করা যে একটি লোকসানের বিনিয়োগ, সেটা আমি বহু আগে থেকেই জানতাম।

সেই বইটি খুলে দেখার প্রয়োজন মনে করিনি। প্রতি বছর আমার ১০-২০টির মতো বই পড়ার নিয়ত থাকে। আবার বিজ্ঞান বিষয়ক বই-ই থাকে অর্ধেক। সেগুলো ইংরেজিতে এবং অনেক মোটা আকারের। আমার পড়ার গতি এমনিতেই শ্লথ। তার ওপর ভিনদেশি ভাষা, বহুদিন লাগিয়ে পড়ি। সব মিলিয়ে হয়তো ২-৩টি এক বছরে পড়ে শেষ করতে পারি। অন্যগুলো আমার মুখ দেখে না, পরিশেষে হারিয়ে যায়। কাজেই, ওই বইটার দিকে কোনো মনোযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি, একটি পাতাও উল্টে দেখিনি। উৎসর্গ কাকে করা হয়েছে, ভূমিকায় কী লেখা আছে, কিছুই না। ওহ, এই পর্যায়ে বলতেই হয়, আপনি যদি আমার প্ররোচনায় পড়ে আমার বই কিনে পাঁচ বছরে একটি পাতাও না পড়ে ফেলে রাখেন, তবে মোটেও শরমিন্দা হবেন না। আমিও আপনার দলে, আমিও একদম সেটাই করি।

তারপর বহু বছর কেটে গেছে। সূর্যকে বহুবার প্রদক্ষিণ করেছে পৃথিবী। শিশুরা যুবক-যুবতী হয়ে গেছে, চারাগাছ হয়ে গেছে বিশাল মহীরূহ। এর মধ্যে আমার স্থানীয় বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যা বেড়েছে। প্রায় পুরো সেটই চেঞ্জ হয়ে গেছে। আমার ধারণা, প্রতি সাত বছরে বন্ধু-বান্ধবের মূল সেটটি চেঞ্জ হয়। স্থান পরিবর্তন করলে হঠাৎ করে পুরো সেটটাই চেঞ্জ হয়ে যায়। সে নিয়ে আমার মোটেও অভিযোগ নেই। সবই জগতের নিয়ম, আমরা দর্শক মাত্র।

একদিন আমার খুব কাছের এক সিনিয়র বন্ধু বললেন, ‘তোমাকে যে ত্রৈলোক্যনাথের বইটা দিয়েছিলাম, সেটা কি পড়েছ? নাকি পড়ার সুযোগ হয়নি?’ বুকটা ধক্‌ করে উঠল। এই অঞ্জন ভাই তাহলে সেই ভদ্রলোক, যিনি সেদিন ফোবানায় আমাকে বইটি দিয়েছিলেন? হায় হায়, সব তো ভুলে বসে আছি? বইটা এই ১৪ বছরে চোখেও দেখিনি। এর মধ্যে দুইবার বাসা বদল করেছি।

তিনি আমাকে মোটেও বিব্রত করলেন না। জানা গেল, এই বইটি তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের অর্থায়নে প্রকাশ করেছে সাহিত্য প্রকাশ, সম্পাদনা করেছেন ড. আনিসুজ্জামান, আর প্রচ্ছদ করেছেন কাইয়ুম চৌধুরী। ভেতরে-ভেতরে চমকে উঠলাম। এ তো সাংঘাতিক ব্যাপার! সব ডাকসাইটে মানুষেরা বইটার পেছনে কাজ করেছেন! আর সাহিত্যানুরাগী অঞ্জন ভাই এবং তাঁর অগ্রজ চন্দন ভাই কিনা সেই বইয়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

কিন্তু বই তো হারিয়ে গেছে। আর আমার কি এত সময় আছে এই সব দেখার? আরও দুইটি বছর পার হলো। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকা বাংলা সাহিত্য পরিষদ নামের একটি সাহিত্য সংগঠনের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। স্বনামধন্য সাহিত্যিক দম্পতি জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত এবং পূরবী বসুর গড়ে তোলা এই সাহিত্য সংগঠন। একদিন আমাকে জানালেন, সমাবেশ আছে, ওখানে একটা ওয়ার্কশপ হবে, ছোট গল্পের ওপরে। আমাকে কোনো একটা অংশ নাকি সঞ্চালনা করতে হবে। সম্মতি জানালাম।

এক সপ্তাহ পরে জানালেন, যাঁদের ওয়ার্কশপে বক্তব্য রাখার কথা, তাঁদের একজন ব্যস্ত থাকায় আসতে পারবেন না, তাঁর জায়গায় আমাকেই আধুনিক ছোট গল্প লেখার কলাকৌশলের ওপরে ২০ মিনিটের বক্তব্য দিতে হবে।

একই সঙ্গে খুশি এবং আশঙ্কায় নিপতিত হলাম। আশঙ্কার কারণ, আমার অজ্ঞতা সব বেরিয়ে পড়বে। ভাবলাম, সাত দিনের প্রিপারেশনে বড় বড় পরীক্ষা পাস হয়ে যেতে পারে, তো এই ২০ মিনিটের ওয়ার্কশপ আমি করতে পারব না কেন? আবার সম্মতি দিলাম। তারপর আদাজল খেয়ে পড়া শুরু করলাম। পড়তে পড়তে দেখি, আমার আসলে উপন্যাসের ভান্ডার ছোট গল্পের চেয়ে ভালো। গদ্যের উদাহরণ মনে করতে গেলেই মনে পড়ে পুতুল নাচের ইতিকথা, চিলেকোঠার সেপাই, লা নুই বেঙ্গলি, আনা কারনেনা—এসব। এগুলো আবার আধুনিক কিনা কে জানে? দেব নাকি ছোটগল্পের নাম করে উপন্যাস মেরে? ভাষা তো একই? শুধু ঘটনা ছোট আর বড়।

ভাবলাম, না। এই সব চোট্টামি করা যাবে না। দেখি কারা কারা বাংলা ভাষার প্রথিতযশা গল্পকার। হাতের কাছে আছে সার্চ ইঞ্জিন। সার্চ দিতে অনেক জানা নাম বেরোল, অজানা নামও বেরোল। খোদ এই সংগঠনের পুরোধা জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের নাম বারবার আসায় মোটেও অবাক হলাম না। তিনি আধুনিক ছোটগল্পের একজন গুরু। কিন্তু অবাক হলাম যখন ত্রৈলোক্যনাথের নাম কয়েকবার এল। তিনি নাকি বাংলা সাহিত্যের ব্যঙ্গ কৌতুক রসের স্রষ্টা! তাঁর গল্পকে রবীন্দ্রনাথের সমতুল্য, এমনকি কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথের ওপরেও স্থান দিচ্ছেন! আমি ভেবেছিলাম কীসব বিরস, এক শতাব্দী আগের প্যানপ্যানানি গল্প! দু-এক লাইন উদাহরণ বিভিন্ন আর্টিকেলে দিয়ে রেখেছে। সেগুলো পড়েই চমৎকৃত হলাম। যেমন এই তিনটি লাইন—‘...কিন্তু একটা হুজুগ লইয়া বাঙ্গালী অধিক দিন থাকিতে পারে না। হুজুগ একটু পুরাতন হইলেই বাঙ্গালী পুনরায় নূতন হুজুগের সৃষ্টি করে। অথবা এই বঙ্গভূমির মাটির গুণে আপনা হইতেই নূতন হুজুগের উৎপত্তি হয়।’

ডমরু চরিতের এই অংশটাও অসাধারণ—“‘মহাশয়! এ লোকটি অতি ধার্ম্মিক, অতি পুণ্যবান। পৃথিবীতে বসিয়া এ বারো মাসে তেরো পার্ব্বণ করিত, দীন-দুঃখীর প্রতি সর্ব্বদা দয়া করিত, সত্য ও পরোপকার ইহার ব্রত ছিল। এই কথা শুনিয়া যম চটিয়া গেলেন। তিনি বলিলেন—‘চিত্রগুপ্ত! তোমাকে আমি বারবার বলিয়াছি যে, পৃথিবীতে গিয়া মানুষ কি কাজ করিয়াছে, কি কাজ না করিয়াছে, তাহার আমি বিচার করি না। মানুষ কি খাইয়াছে, কি না খাইয়াছে, তাহার আমি বিচার করি। ব্রহ্মহত্যা, গো-হত্যা, স্ত্রী-হত্যা করিলে এখন মানুষের পাপ হয় না, অশাস্ত্রীয় খাদ্য খাইলে মানুষের পাপ হয়। …এই কথা বলিয়া যম নিজে সেই লোকটিকে জেরা করিতে লাগিলেন—কেমন হে বাপু! কখনো বিলাতি বিস্কুট খাইয়াছিলে? ”

সে উত্তর করিল—‘আজ্ঞে না।’ যম জিজ্ঞাসা করিলেন—‘বিলাতি পানি? যাহা খুলিতে ফট করিয়া শব্দ হয়? যাহার জল বিজবিজ করে?’ সে উত্তর করিল—‘আজ্ঞে না।’ যম পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন—‘সত্য করিয়া বল, কোনোরূপ অশাস্ত্রীয় খাদ্য ভক্ষণ করিয়াছিলে কিনা?’ সে ভাবিয়া-চিন্তিয়া উত্তর করিল—‘আজ্ঞা একবার ভ্রমক্রমে একাদশীর দিন পুঁইশাক খাইয়া ফেলিয়াছিলাম।’

যমের সর্ব্বশরীর শিহরিয়া উঠিল। তিনি বলিলেন—‘সর্ব্বনাশ! করিয়াছ কি! একাদশীর দিনে পুঁইশাক! ওরে! এই মুহূর্ত্বে ইহাকে রৌরব নরকে নিক্ষেপ কর। ইহার পূর্ব্বপুরুষ, যাহারা স্বর্গে আছে, তাহাদিগকেও সেই নরকে নিক্ষেপ কর। পরে ইহার বংশধরগণের চৌদ্দপুরুষ পর্যন্তও সেই নরকে যাইবে। চিত্রগুপ্ত! আমার এই আদেশ তোমার খাতায় লিখিয়া রাখ।’

যমের এই বিচার দেখিয়া আমি তো অবাক। এইবার আমার বিচার। কিন্তু আমার বিচার আরম্ভ হইতে না হইতে আমি উচ্চৈঃস্বরে বলিলাম—‘মহারাজ! আমি কখন একাদশীর দিন পুঁইশাক ভক্ষণ করি নাই।’

আমার কথায় যম চমৎকৃত হইলেন। হর্ষোৎফুল্ল লোচনে তিনি বলিলেন—‘সাধু সাধু! এই লোকটি একাদশীর দিন পুঁইশাক খায় নাই। সাধু সাধু! এই মহাত্মার শুভাগমনে আমার যমালয় পবিত্র হইল। যমনীকে শীঘ্র শঙ্খ বাজাইতে বল। যমকন্যাদিগকে পুষ্পবৃষ্টি করিতে বল। বিশ্বকর্মাকে ডাকিয়া আন—ভূঃ ভুবঃ স্বঃ মহঃ জনঃ তপঃ সত্যলোক পারে ধ্রুবলোকের ওপরে এই মহাত্মার জন্য মন্দাকিনী-কলকলিত, পারিজাত-পরিশোভিত কোকিল কুহরিত, অপ্সরাপদ-নূপুর-ঝুনঝুনিত হীরা-মাণিক-খচিত নূতন একটি স্বর্গ নির্ম্মাণ করিতে বল।”’ (পৃ.৭৮৭-৭৮৮, প্রাগুক্ত)

হাসিচ্ছলে এ অনেক বড় মাপের কথা। বিষয়টি স্বর্গ/মর্ত্যের নয়, মানুষের ক্ষুদ্র এবং অপাঙেক্তয় বিষয়ে ভয়ানক বাড়াবাড়ি করা নিয়ে। একটি নিয়ম বানিয়ে রেখে কার্যকারণ বা ফলাফলের গুরুত্ব না ভেবেই তার ভেতরে নির্বোধের মতো সমাজকে আটকে রাখা, বড় বিষয় নিয়ে না ভেবে ছোট বিষয় নিয়ে প্রাণপাত করা, এসব।

তাঁর জীবনীও খুবই অদ্ভুত। এইটুকু পড়লেই বোঝা যাবে—‘ন বছর বয়সে নতুন এক ভাষা সৃষ্টিতে এবং তার উপযোগী বর্ণমালা উদ্ভাবনে প্রবৃত্ত হন। কাঠের ফলকে ও মাটির চাকতিতে এই বর্ণমালা খোদাই করে তিনি মুদ্রণের আয়োজন করেন। এই পদ্ধতিতে সেই অল্প বয়সেই তিনি হেঁয়ালি, শ্লোক ও গান রচনা করেছিলেন। পিতামাতার মৃত্যুর পরে তিনি এক নিকটাত্মীয়ের আশ্রয়ে থাকেন, কিন্তু সেখানেও দারিদ্র্য প্রবল। ১৮৬৫ সালে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে মানভূমে এক আত্মীয়ের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যেখানে এসে তাঁর টাকা-পয়সা ফুরিয়ে যায়, সেখান থেকে তার গন্তব্য বনজঙ্গল-পর্বতময় এলাকা দিয়ে তিন দিনের হাঁটাপথ। তিনি হাঁটতে থাকলেন। পথে এক কুলি-সরবরাহকারীর পাল্লায় পড়েন। কুলির দল নিয়ে সে ব্যক্তি যখন যাত্রা করেন, তখন পথের মধ্যে ত্রৈলোক্যনাথ পালিয়ে যান এবং কেবল বন্য কুল খেয়ে পদব্রজে মানভূমে পৌঁছোন।’

আমি তো মোক্ষম সব তথ্য পেয়ে গেলাম? সেই বিরল বইটি গেল কোথায়? তড়িঘড়ি বুক শেলফে গিয়ে খুঁজতে লাগলাম। কী আশ্চর্য, বইটা তো বহাল তবিয়তে সেখানে বসে আছে! অথচ এত বছর আমার চোখেই পড়েনি! কোথায় আমার আধুনিক গল্প লেখার কায়দা নিয়ে বক্তব্য তৈরি করার কথা, সেসব তুলে রেখে আমি ত্রৈলোক্যনাথের ১৬ বছরের পুরোনো বইটি পড়া শুরু করলাম। পড়তে পড়তে অভিভূত হলাম, মাঝে মাঝে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়লাম।

বই পড়ে অঞ্জন ভাইকে ফোন লাগলাম। তাঁকে বললাম, এ বই তো সাংঘাতিক! তিনি বললেন, তাহলে আর বলছি কী, ওই ‘...পৃথিবীতে গিয়া কে কী খাইয়াছে’ অংশটা পড়েছ?

বুঝলাম, এটা একেবারে ত্রৈলোক্যনাথের পাঞ্চ লাইন। ওয়ার্কশপের কথা শুনে তিনি খুশি হলেন। বললেন, বইটাও একটু দেখিয়ে দিয়ো।

শেষ পর্যন্ত ত্রৈলোক্যনাথের নাম বলারও সুযোগ পেলাম না। সময় হলো না। তার ওপর ব্যাপারটা ছিল আধুনিক গল্প নিয়ে। আমি ত্রৈলোক্যনাথকে যতই আধুনিক বলি না কেন, শ্রোতারা মানবেন বলে ভরসা হলো না। কাজেই শহীদুল জহির এবং মুরাকামির গল্প থেকে উদাহরণ দিলাম। সে ক্ষেত্রে আধুনিকতা নিয়ে কেউ প্রশ্নই তুলবেন না। সে বইগুলোও আমার সংগ্রহে ছিল। মুরাকামির বাংলা অনুবাদ গল্পের বইটি দেখাব ভেবেছিলাম, তারপর শহীদুল জহিরের ‘ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প’ দেখানো যেত। কিন্তু কাজের সময় কোনোটাই খুঁজে পাওয়া গেল না।

ছোটগল্প লেখার কলাকৌশল ওয়ার্কশপে আমার বক্তব্যে কারও হয়তো কোনো লাভ হয়নি। কিন্তু আমার অনেক লাভ হয়েছে। সেই সুবাদেই ত্রৈলোক্যনাথ সম্পর্কে জানলাম, তাঁর লেখা উপভোগ করতে পারলাম। একই সঙ্গে একজন বন্ধুকেও শেষমেশ খুশি করা হলো।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন