করোনা মহামারিতে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে আরেক দফা নাগরিক প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের করোনা সহায়তা প্যাকেজের পরিকল্পনা করছেন নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ আবার ১ হাজার ৪০০ ডলারের নগদ অর্থ পাবেন। এ খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে এই অর্থ পেতে বিলম্ব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন ঘোষিত এ নতুন প্রণোদনা প্যাকেজটি কংগ্রেসে পাস হতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় কারা এ নগদ প্রণোদনা পাবেন এবং সর্বোচ্চ প্রাপ্তির অঙ্কও বদলে যেতে পারে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন ২৫ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে নিজেও স্বীকার করেন, ১ হাজার ৪০০ ডলারের পরিমাণ নিয়ে একটি সমঝোতা ও শর্ত তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটি কেবল প্রক্রিয়ার শুরু। মার্কিনদের এই অর্থ পেতে অপেক্ষা করতে হবে।’

বিগত ডিসেম্বরে বাইডেন ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ৪১৫ বিলিয়ন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় প্রণোদনা হিসেবে ৪৪০ বিলিয়ন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই প্যাকেজে প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম ফেডারেল মজুরি ১৫ ডলারে করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। হাউস ও সিনেট উভয় ক্ষেত্রেই ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, কংগ্রেসের মাধ্যমে প্যাকেজটি দ্রুত পাশ করা সহজ নাও হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিগত ডিসেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদ জনপ্রতি ২ হাজার ডলার করে নগদ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। পরে এর পরিমাণ ৬০০ ডলারে চলে আসে। আগের প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে এই ১ হাজার ৪০০ ডলারের নগদ প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে রেইমন্ড জেমসের ওয়াশিংটন নীতিবিষয়ক বিশ্লেষক এড মিলস বলেন, ‘এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো, কোনটি দ্রুত করা দরকার এবং কোনটির প্রাধান্য বেশি—এর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। যদি আইন প্রণেতারা দ্রুত অগ্রসর হন, তবে ১ হাজার ৪০০ ডলারের চেকে সম্ভবত সংকোচন আনা হতে পারে।’

মিলস বলেন, সমস্যা মোকাবিলায় আরও বড় একটি প্যাকেজের প্রক্রিয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন মিলস। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১ হাজার ৪০০ ডলারের প্রণোদনা চেকটি পাওয়া দরকার।

মিলস বলেন, ডেমোক্র্যাটরা আগামী সপ্তাহগুলোতে স্টিমুলাস চেক নিয়ে আলোচনা শুরুর আশা করছেন। মার্চ মাসের মাঝামাঝি বেকারত্বের প্রভাব কিছুটা কমে আসলে চেকটির পরিমাণ নিয়ে কংগ্রেসের সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে। তিনি বলেন, ‘আইনপ্রণেতাদের দ্রুত সম্মতির ওপর এই অর্থ মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে, তা নির্ভর করছে।’

২০০৯ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ঘণ্টায় জাতীয় ন্যূনতম মজুরি সোয়া সাত ডলার থেকে বাড়ানো হয়নি। তবে আইনপ্রণেতারা নতুন উদ্দীপনা চুক্তির মাধ্যমে বাধ্যতামূলক প্রতি ঘণ্টার উচ্চতর মজুরি হারের ওপর চাপ দিতে প্রস্তুত নন।

২৪ জানুয়ারি এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বাইডেন প্রশাসন ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে রাজি হবে কিনা জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ রন ক্লেইন বলেন, এই বিলটি পাসের বিষয়ে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডেমোক্র্যাটরা ২৫ জানুয়ারি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ন্যূনতম ফেডারেল মজুরি ঘণ্টায় ১৫ ডলার করার বিলটি আবার উপস্থাপন করেছে।

বিশ্বের শীর্ষ করোনা সংক্রমণের দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ১৭ হাজার ২৬২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৩৩৮ জনের। সারা দেশে লাখ লাখ মানুষ এখনো কর্মহীন। বন্ধ হয়ে পড়েছে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। যারা টিকে আছে তাদেরও দৈন্যদশা অবস্থা। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, কঠিন এই সময় থেকে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত ফেডারেল সরকার জনগণের পাশে থাকবে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন