default-image

গেলবার মার্কিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর। পরদিন জয়-পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের পরাজয় মেনে নিয়ে নিউইয়র্ক থেকে বক্তব্য রেখেছিলেন তখনকার ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী ও সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। কোনো ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তাঁর বা তাঁর দলের দিক থেকে আসেনি। কথায় বা আচরণে হিলারি ও তাঁর প্রচার শিবিরের দিক থেকে কোনো নাটকীয়তাও করা হয়নি। এবারের মার্কিন নির্বাচনের ফল নিশ্চিত হওয়ার পর দৃশ্যটি একেবারে বিপরীত।

এখনো পরাজয় মেনে নিয়ে ভাষণ দেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সুনসান নীরবতা। রিপাবলিকান দলের সিনেটর মিট রমনি ছাড়া এখনো কোনো জ্যেষ্ঠ নেতা বাইডেনকে অভিনন্দন জানান।

হিলারি ক্লিনটন চাইলে অনেক বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারতেন। কারণ, মোট ভোটের হিসাবে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে প্রায় ৩০ লাখ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। তাঁকে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন, যা ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে পাওয়া ভোটের চেয়েও বেশি

অ্যারিজোনার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এজেডসেন্ট্রালের প্রতিবেদনে বলা হয়, হিলারি ক্লিনটন চাইলে অনেক বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারতেন। কারণ, মোট ভোটের হিসাবে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে প্রায় ৩০ লাখ ভোট বেশি পেয়েছিলেন। তাঁকে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন, যা ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে পাওয়া ভোটের চেয়েও বেশি। কিন্তু হিলারির দুর্ভাগ্য, এত ভোটও তাঁকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ইলেকটোরাল ভোট এনে দিতে পারেনি। কিন্তু এসব নিয়ে একটুও না ভেবে নিজের পাওয়া-না পাওয়ার হিসাবকে দূরে ঠেলে তিনি দেশকেই ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন। পরাজয় মেনে নিয়েছিলেন।

এজেডসেন্ট্রালের প্রতিবেদনে বলা হয়, চার বছর আগে হিলারি ক্লিনটনের এই অবস্থান ও ভূমিকা থেকে শিক্ষা নিতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হিলারি ক্লিনটন গেলবার তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে যা বলেছিলেন, তার অনেক কিছুই এবার খাটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের জন্য।

বিজ্ঞাপন
default-image

নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের এক জায়গায় সমর্থকদের উদ্দেশে হিলারি বলেছিলেন, ‘নিজের অনুভূতি দিয়েই বুঝতে পারছি, আপনারা আজ কতটা হতাশ বোধ করছেন। নিজেদের স্বপ্ন ও আশাকে পুঁজি করে যে কোটি কোটি মার্কিন এই চেষ্টাকে এগিয়ে নিয়েছিলেন, তাদের অবস্থাও একই। এটি পীড়াদায়ক, যা দীর্ঘস্থায়ী হবে। কিন্তু আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, আমাদের প্রচার কোনো এক ব্যক্তি, এমনকি একটি নির্বাচন ঘিরে ছিল না। এটি ছিল সেই দেশের জন্য, যাকে আমরা ভালোবাসি। এটি ছিল সেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, যা আশাবাদী, সমন্বয়বাদী ও বড় হৃদয়ের। আমরা দেখেছি, আমাদের জাতি অনেক গভীর থেকে বিভাজিত, যা ছিল আমাদের ধারণারও বাইরে। কিন্তু আমি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে আস্থাশীল এবং এমনই থাকব। আপনারাও যদি তেমনই হন, তবে আমাদের উচিত ফল মেনে নেওয়া ও ভবিষ্যতের দিকে তাকানো। ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। আমাদের তাঁকে খোলা মনে বিবেচনা করা এবং নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়া উচিত।’

হিলারি এখানেই থামেননি। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সাংবিধানিক গণতন্ত্র শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের নিশ্চয়তা দেয়। আমরা একে শুধু সম্মানই করি না, একে সযত্নে লালন করি। এটি আরও যেসব বিষয়ের নিশ্চয়তা দেয় তার মধ্যে রয়েছে আইনের শাসন, সবার সমান মর্যাদা ও অধিকার এবং ধর্ম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এসব মূল্যবোধকে আমরা সম্মান ও লালন করি। এগুলোকে অবশ্যই আমাদের রক্ষা করতে হবে।’

এরপরই হিলারি তাঁর তরুণ সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আর তরুণদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, আপনারা নিশ্চয়ই শুনছেন বলে আমি আশা করি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে আমি আমার পুরো জীবন কাটিয়েছি নিজের বিশ্বাসের জন্য লড়াই করে। আমি সফল হয়েছি, ব্যর্থও হয়েছি। কখনো কখনো (ব্যর্থতা মানাটা) খুবই কষ্টকর ছিল। আপনাদের অনেকেই এখনো রাজনৈতিক ও পেশা জীবনের শুরুর ধাপে রয়েছেন। আপনাদের জীবনের সাফল্য-ব্যর্থতা আসবে। এটি কষ্ট দেবে। কিন্তু দয়া করে কখনোই ভুলবেন না যে, ন্যায়ের জন্য লড়াই করাটাই মূল্যবান।’

সব শেষে হিলারি বলেন, ‘শেষতক আমি আমার দেশের কাছে এবং তার কাছ থেকে যা কিছু পেয়েছি, তার জন্য ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। একজন মার্কিন হওয়ার সৌভাগ্যের কথা আমি প্রতি দিনই স্মরণ করি। আগের যেকোনো সময়ের মতোই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা যদি একসঙ্গে থাকি এবং নিজেদের মধ্যে থাকা সব পার্থক্য সত্ত্বেও একযোগে কাজ করি, যদি নিজেদের বিশ্বাসে দৃঢ় থাকি ও এই জাতিকে ভালোবাসি, তবে এখনো সুসময় আমাদের আমাদের অপেক্ষায় আছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0