default-image

মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন জো বাইডেন। এই বাস্তবতা এখনো স্বীকার করেননি ট্রাম্প। হার স্বীকার করে বা বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়ে কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য তাঁর দিক থেকে আসেনি। বরং উল্টো ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক সময়ের ইতিহাসে এমন নজির আর নেই। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে সমালোচনা হচ্ছে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের করণীয় নিয়ে তাঁর উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যেই বিভক্তি তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়ে-জামাই জ্যারেড কুশনার ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বাইডেনের বিজয় মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু ঠিক বিপরীত অবস্থানে রয়েছেন প্রেসিডেন্টের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রসহ ঘনিষ্ঠজনেরা। তাঁরা তাঁকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ইভানকা ট্রাম্পের বর ও প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ফল মেনে নেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে বলেছেন। একইভাবে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার সময় এসেছে বলে ট্রাম্পকে ব্যক্তিগত আলাপের সময় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া বলেছেন বলে জানিয়েছে আরেকটি সূত্র।

অবশ্য কুশনার ট্রাম্পকে ফল মেনে নিতে বলছেন—এমন খবরকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের মুখপাত্র জেসন মিলার। এ সম্পর্কিত এক টুইটে মিলার বলেন, এই খবর সত্য নয়। নির্ভুল ফল নিশ্চিতের জন্য জ্যারেড ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি উপায় অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

জেসন মিলার এই খবর উড়িয়ে দিলেও জ্যারেড কুশনারের এই অবস্থান সম্পর্কে প্রচারিত খবরের বিষয়ে নিজেরা অটল অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

default-image
বিজ্ঞাপন
default-image

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তাঁরা ট্রাম্প সমর্থক ও রিপাবলিকান নেতাদের প্রতি ফল প্রত্যাখ্যান করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায় সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর ও ট্রাম্পের কড়া সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লিন্ডসে গ্রাহামের কথা। ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি বলেন, ট্রাম্পের উচিত নয় পরাজয় মেনে নেওয়া। একই পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্পের এক সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ও টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ। তাঁর দৃষ্টিতে পরাজয় স্বীকার করার জন্য ট্রাম্পের আরও অপেক্ষা করা উচিত। একই অবস্থানে রয়েছেন মিজৌরির সিনেটর রয় ব্লান্ট, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জিলিয়ানি, ফ্লোরিডার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি ও প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা কোরি লেভানডোভস্কি ও ডেভিড বোসির মতো নেতারা।

তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকে কিছু বার্তা প্রচারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এসব বার্তার মূল উপজীব্য হবে—ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যগুলোয় ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ চুরি করা হয়েছে।

এর আগে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা এমন কিছু দাবি করেছেন, যা ছিল একেবারে অসত্য। সিএনএন জানায়, প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার নিউট গিনগ্রিচ, সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রিচার্ড গ্রেনেলের মতো নেতারা মিশিগানে মৃত ব্যক্তির নামে ভোট পড়ার অভিযোগ তোলেন। এর পক্ষে কোনো প্রমাণ পর্যন্ত না দিয়ে তাঁরা এ দাবি করতে থাকেন। পরে সিএনএনের নিজস্ব তদন্তে এমন একটি ভোট পড়ারও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

default-image

এদিকে ট্রাম্পের অবস্থান কী? বাইডেনের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার খবর প্রচারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্জিনিয়ার স্টার্লিংয়ে নিজের গলফ ক্লাবে গলফ খেলছিলেন। তার পর বিবৃতির মাধ্যমে এই ফল প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। জনপরিসরে ফল প্রত্যাখ্যান করলেও তিনি ব্যক্তিগত পরিসরে এই ফলকে খারিজ করেননি বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু তিনি এই ফলের সরকারি ঘোষণাকে বিলম্বিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে তাঁর আইনজীবীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন। একই সঙ্গে এই ফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো ইঙ্গিতও দেননি।

তবে বাইডেনের বিজয়ের খবর সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রচারের পর ট্রাম্পের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন এখনো শেষ হয়নি। ওই বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘গণতন্ত্রে যেমনটা হওয়া উচিত সে অনুযায়ী মার্কিন জনগণ ন্যায্য ভোট গণনা ও তার ফল না পাওয়া পর্যন্ত আমি বিশ্রাম নেব না।’ এতে এই ফলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ স্থানীয় সময় আজ সোমবার নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিসের প্রচার শিবিরের উপব্যবস্থাপক কেট বেডিংফিল্ড গত শনিবার রাতে জানান, বাইডেন ও ট্রাম্পের মধ্যে এবং এমনকি দুই শিবিরের প্রতিনিধি পর্যায়েও ফল ঘোষণার পর থেকে কোনো মতবিনিময় হয়নি। গতকাল রোববার ক্যাপিটল হিল থেকে কিছু রিপাবলিকান নেতা যোগাযোগ করলেও তাঁরা কেউ হোয়াইট হাউসের নন বলে জানিয়েছেন বাইডেনের প্রচার শিবিরের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সায়মন স্যান্ডার্স।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0