default-image

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে প্রায় সব জাতীয় জনমত জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের চেয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পিছিয়ে আছেন। নির্বাচনে হারের শঙ্কা তাঁর মাথায়। এ অবস্থায় নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে নানা বিষয়ে অভিযোগ তুলছেন। চেষ্টা করছেন চারপাশের সবকিছুকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। এমনকি শেষ বিতর্কের আগে সঞ্চালককেও বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সবই তিনি করছেন পরিকল্পিতভাবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বেশ আগে থেকেই সংশয় জোরালো করার চেষ্টা করছেন। ভোট জালিয়াতি, ডাকযোগে আগাম ভোট নিয়ে ইতিমধ্যে নানা বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক কমিশন, সাংবাদিক এমনকি তাঁর প্রশাসনের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন।

রাজনীতি, প্রশাসন, সাংবাদিকতা, সংবাদমাধ্যম—এসব নিয়ে মানুষ এমনিতেই সংশয়ে থাকে। ট্রাম্পের ভাবটা এমন, তাঁর বিরুদ্ধে এদের সবাই। সবার বিরুদ্ধে তিনি একাই লড়ছেন—এমন একটি জোরালো বার্তা তিনি সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জুলিয়ান জেলিজার বলেন, ট্রাম্প আশপাশের সবকিছুর ওপর সন্দেহকে জোরালো করার চেষ্টা করছেন। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে তিনি এমন ধারণা জোরালো করতে কিছুটা হলেও সক্ষম হচ্ছেন। তাঁর নির্বাচনী কৌশলের দিকে নজর দিলে বোঝা যায়, সবই নিজেকে নিয়ে। এমনকি তাঁর দলের লোকজনকেও তাঁর পাশে দেখা যাচ্ছে না। নিজেই একা লড়ছেন। বাকি সবকিছু সন্দেহের, সবকিছু সংশয়ের—এমন কৌশলী প্রচার শুধু তাঁর স্বভাবজাত নয়। এটা তাঁর কৌশলও বলে মনে হচ্ছে।

ট্রাম্প আশপাশের সবকিছুর ওপর সন্দেহকে জোরালো করার চেষ্টা করছেন। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে তিনি এমন ধারণা জোরালো করতে কিছুটা হলেও সক্ষম হচ্ছেন। তাঁর নির্বাচনী কৌশলের দিকে নজর দিলে বোঝা যায়, সবই নিজেকে নিয়ে। এমনকি তাঁর দলের লোকজনকেও তাঁর পাশে দেখা যাচ্ছে না। নিজেই একা লড়ছেন।
অধ্যাপক জুলিয়ান জেলিজার, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিষ্ঠিত সব এলাকায়ই তিনি আক্রমণ চালিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্ট, এমএসএনবিসিসহ এমন কোনো সংবাদমাধ্যম নেই, যাকে তিনি আক্রমণ করেননি। এমনকি নিজের পক্ষে না গেলে রক্ষণশীলদের প্রিয় বলে পরিচিত ফক্স নিউজকেও তিনি ছাড়েন না

ট্রাম্প বলছেন, আমি শুধু জো বাইডেনের বিরুদ্ধেই লড়ছি না। লড়ছি বামপন্থী সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে। লড়ছেন বড় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, ওয়াশিংটনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা শক্তিশালী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে। অ্যারিজোনা রাজ্যে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, আমি একাই লড়ছি সবার বিরুদ্ধে।

২০১৬ সাল থেকেই আমেরিকার রক্ষণশীলরা অভিযোগ করে আসছে, সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি পক্ষপাতদুষ্ট। সম্প্রতি এসব নিয়ে ট্রাম্প শিবিরের আক্রমণ জোরালো হয়েছে। ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেপরোয়া বক্তব্য একই কারণে বলেই পরিকল্পিত বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলার চেষ্টা করছেন, সবাই তাঁর বিরুদ্ধে লেগেছে।

হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ মার্ক মেডোউস সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগ করেছেন, এসব কোম্পানি দুই নীতি পালন করে আসছে। তাদের প্রচার নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো বৈরী আচরণ করছে।

সংবাদমাধ্যম আর সাংবাদিকদের নিয়ে রাজনীতিবিদ ও জনগণের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযোগ অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিষ্ঠিত সব এলাকায়ই তিনি আক্রমণ চালিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্ট, এমএসএনবিসিসহ এমন কোনো সংবাদমাধ্যম নেই, যাকে তিনি আক্রমণ করেননি। এমনকি নিজের পক্ষে না গেলে রক্ষণশীলদের প্রিয় বলে পরিচিত ফক্স নিউজকেও তিনি ছাড়েন না।

২২ অক্টোবর শেষ নির্বাচনী বিতর্কের আগে বিতর্কের সঞ্চালক ক্রিসটেন উয়েলকার, বিতর্ক কমিশনেরও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এরা সবাই ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনের প্রতি পক্ষপাত করে আসছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের উপদেষ্টা জেসন মিলার বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একজন ব্যক্তি, যার সঙ্গে দাঁড়ালে জানা যায় ঠিক কোথায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি। আমার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।’

যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে মারা গেলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে কোনো দায়িত্ব নিচ্ছেন না। উল্টো তাঁর নিজের টাস্কফোর্সের সদস্য অ্যান্থনি ফাউসিকে আক্রমণ করছেন একের পর এক। ধারণা দিচ্ছেন, এসব স্বাস্থ্যসেবীরাই যেন করোনা মহামারিকে বড় করে দেখাচ্ছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন ডেভিড এক্সেলরড। তিনি মনে করেন, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে প্রাধান্য দিয়েছেন জনগণের আহত হওয়ার বিষয়টি। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রচারের মূল লক্ষ্যই হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজে নানা কারণে কতটা আহত বোধ করছেন—তা নিয়ে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনে পরাজয়ের দায়টা নিজের কারণে নয়, অন্যদের কারণে হয়েছে—এমন একটি ধারনা দিতে চান। আখেরে হেরে গেলে সমর্থকদের তো বলতে পারবেন, তিনি হারেননি। সবাই মিলে তাঁকে হারিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0