default-image

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন—তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনো আসেনি। তবে কে হচ্ছেন না, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এ তালিকায় রয়েছেন র‌্যাপার কেনি ওয়েস্ট। এবারের নির্বাচনে পড়া রেকর্ড ১৬ কোটি ভোটের মধ্যে মাত্র ৬০ হাজার ভোট পাওয়া কেনি ওয়েস্ট অবশ্য হাল ছাড়ছেন না। ২০২৪ সালেও তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন বলে এরই মধ্যে টুইটার পোস্টের মধ্য দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন।

বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে রেকর্ড প্রায় ১৬ কোটি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৬০ হাজার ভোট নিজের দিকে টানতে পেরেছেন ৪৩ বছর বয়সী র‌্যাপার কেনি ওয়েস্ট। আরেক নির্দলীয় প্রার্থী লিবারেটারিয়ান জো জোর্গেনসেন তাঁর চেয়ে ঢের বেশি ভোট পেয়েছেন। তিনি মোট ১৫ লাখ ভোট পেয়েছেন।

কেনি ওয়েস্ট অবশ্য এত কম ভোট পেয়ে হতাশ নন। বরং উজ্জীবিত বলা যায়। এরই মধ্যে তিনি এক টুইটে লিখেছেন, ‘কেনি ২০২৪।’ এর অর্থ পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাঠেও তাঁকে দেখা যাবে।

বিবিসি জানায়, এবারের নির্বাচনে ১২টি অঙ্গরাজ্যের ব্যালটে কেনি ওয়েস্টের উপস্থিতি ছিল। বাকি অঙ্গরাজ্যগুলোয় তিনি আবেদন করতে দেরি করায়, তা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে রিপাবলিকান অধ্যুষিত টেনেসি অঙ্গরাজ্যেই তিনি সর্বোচ্চ ১০ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়েছেন।

গত জুলাইয়ে যখন ওয়েস্ট নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন, তখন তিনি বলেছিলেন, তাঁর প্ল্যাটফর্মটি কল্পরাজ্য ব্ল্যাক প্যান্থারের ওয়াকান্ডার মতো। ফোর্বসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই মডেলে পুলিশি নির্যাতন বন্ধই হবে তাঁর নির্বাচনী মেনিফেস্টোর অন্যতম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষায় সামরিক শক্তির ওপরও জোর দেন তিনি। ওয়েস্টের মতে, ‘যখন আমরা জয়ী হই, তখন তা সবার জন্মদিনের উৎসবে পরিণত হয়।’

বিজ্ঞাপন
default-image

নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পর কেনি ওয়েস্ট বেশ সমালোচনার শিকার হন। একই সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়েও শঙ্কা দেখা দেয়। সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটনে এক গণসংযোগের সময় বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন ওয়েস্ট। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলোপের মতো বিষয়ও রয়েছে। গর্ভপাত নিয়ে তিনি বলেন, তাঁর মা-বাবা তাঁকে ভূমিষ্ঠ না করার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই ফেলেছিলেন। আর তাঁর মেয়েরও এমনকি জন্ম হয়তো হতো না, যদি তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসতেন।

গত বছর এই র‌্যাপার জানিয়েছিলেন, তাঁর বাইপোলার ডিজঅর্ডার রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর স্ত্রী তারকা কিম কার্দাশিয়ান ওয়েস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার প্রতি আহ্বান জানান, সবাই যেন কেনি ওয়েস্টকে সমবেদনার দৃষ্টিতে দেখেন। তিনি যা বলতে চান, তা হয়তো অনেক সময় তিনি বলতে পারেন না।

অন্যদিকে প্রথাগত নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন জো জোর্গেনসেন। সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে পুরো দেশ ঘুরে প্রচার চালিয়েছেন তিনি। এর ফলও পেয়েছেন। লিবারেটারিয়ান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন এই ৬৩ বছর বয়সী মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর দল থেকে এখনো কেউ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হননি।

এর বাইরে রয়েছেন গ্রিন পার্টির প্রার্থী হাওয়ি হকিনস। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, নির্দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে এবার তিনি ভোটের সংখ্যার দিক থেকে জো জোর্গেনসেনর ঠিক পেছনেই রয়েছেন। সারা দেশ থেকে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ভোটার তাঁকে ভোট দিয়েছেন।

কিন্তু এই তিন প্রার্থীই শুধু নন। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ জনের বেশি।

মন্তব্য পড়ুন 0