default-image

করোনায় আক্রান্ত হয়ে পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি মার্কিন ইয়াসিন ওয়াহিদের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। তাঁর স্ত্রীও বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ইয়াসিন ওয়াহিদ স্ত্রী উন্মে সালমা টেসি ও একমাত্র সন্তান সায়ান ওয়াহীদকে (৪) রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মার্চের মাঝামাঝি পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইয়াসিন নিউইয়র্কে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। বেড়ানো শেষে পথে বাজার-সদাই করে তাঁরা ফিলাডেলফিয়ায় ফিরে যান।

সূত্র জানায়, বাড়ি ফেরার কয়েক দিন পর ইয়াসিনের প্রবল কাশি শুরু হয়। কয়েক দিনের মধ্যে কাশির সঙ্গে জ্বর ও ডায়রিয়া দেখা দিলে তিনি নিকটস্থ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে পরীক্ষায় ইয়াসিনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। সাত ঘণ্টা ইমার্জেন্সিতে অবস্থানের পর তাঁকে বাসায় ফেরত পাঠানো হয়। বলা হয়, তার শারীরিক অবস্থা তেমন খারাপ নয়। হাসপাতাল থেকে তাঁকে করোনা বিধি মেনে বাসায় আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

স্বজন সূত্রে জানা যায়, দুদিন পর ইয়াসিনের স্ত্রী উম্মে সালমা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ঘরে নিজেদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা নিতে থাকেন। তবে তাদের চার বছর বয়সী ছেলে সায়ান ওয়াহিদের কোনো করোনার উপসর্গ দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, ২১ মার্চ দুপুরে ইয়াসিনকে বাথরুমে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত ৯১১ কল করলে প্যারামেডিকরা এসে তাকে মৃত বলে শনাক্ত করে। স্ত্রী সালমার অবস্থার আকস্মিক অবনতি হলে স্বামী ইয়াসিনের মরদেহ ঘরে রেখেই আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স কল করে তাঁকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। বাচ্চা রক্ষণাবেক্ষণ করার মতো কোনো নিকটাত্মীয় কাছাকাছি না থাকায় সঙ্গে নেওয়া হয় ৪ বছরের ছেলে সায়ানকেও। হাসপাতালে করোনা পরীক্ষায় সালমা এবং ছেলে সায়ান— দুজনেরই করোনা পজিটিভ আসে।

সায়ানের কোনো করোনা উপসর্গ না থাকলেও সালমার শরীরে নিউমোনিয়ার লক্ষণ ধরা পড়েছে। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

ইয়াসিন পরিবার নিয়ে আগে বাস করতেন নিইইয়র্কের ব্রঙ্কসে। ২০২০ সালের মার্চে বাড়ি কিনে তারা ফিলাডেলফিয়ায় বসবাস শুরু করেন। ইয়াসিনের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলায়।

কোভিড-১৯ মহামারির বর্ষপূর্তি চলছে যুক্তরাষ্ট্রে। দ্রুততম সময়ে তিনটি কার্যকর টিকার অনুমোদন, বিতরণ ও প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তবে করোনা এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নিউইয়র্কের অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও অন্যান্য অনেক রাজ্যে করোনার সংক্রমণ এখনো বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন