default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই চেয়েছিল সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন রাজপরিবার। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে বাদশা সালমান ও তাঁর ছেলে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। গত চার বছর ধরে বিশ্বব্যাপী কর্তৃত্ববাদী নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের সখ্যের বিষয়টি ছিল লক্ষণীয়। আর এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকেই প্রত্যাশা করেছিল সৌদি রাজপরিবারের ক্ষমতাসীন অংশ।

সিএনএন-এর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেটিক এডিটর নিক রবার্টসন এক বিশ্লেষণে এমন তথ্যই তুলে ধরেছেন।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সদ্য নির্বাচিত জো বাইডেনের প্রেসিডেন্সি খুব সুসংগঠিত হবে। তাঁর যে পররাষ্ট্রনীতি, তাতে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুব গভীর হবে না।

বিশ্লেষণে বলা হয়, মার্কিন নির্বাচনে এক সপ্তাহ আগে সৌদি আরবের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক তাঁকে জানিয়েছিলেন, মার্কিন নির্বাচনে যে জিতবেন, রিয়াদ তাঁর পক্ষেই কাজ করতে রাজি আছে। আরেকটি রাজনৈতিক আলোচনায় দেশটির আরেকজন কূটনীতিক জানিয়েছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাঁরা অপ্রত্যাশিতভাবে একজন ভালো মিত্র হিসেবেই পেয়েছিলেন।

কিন্তু নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই জো বাইডেনের দেওয়া বক্তব্য নিশ্চিত করে যে, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে খুব কঠোর হবেন। আর ডেমোক্র্যাটরা রিয়াদকে অতটা পাত্তাও দেবে না।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ হামলার দায় স্বীকার করে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তবে কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি ও গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানই ওই হামলার জন্য দায়ী। সৌদি আরবও হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। যদিও তেহরান ওই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ ইরানে পাল্টা হামলা করে উত্তেজনা না বাড়ানোর অনুরোধ করে।

বিজ্ঞাপন
default-image
সৌদি আরব প্রসঙ্গে বাইডেন বলেছেন, আমি স্পষ্ট বলে দিতে চাই, আমরা আর তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চাই না

সৌদি কর্তৃপক্ষের এখন দুশ্চিন্তা হচ্ছে, তারা মনে করছে বাইডেন হয়তো সুসংগঠিতভাবে ওবামা সময়ের নীতিরই প্রতিফলন ঘটাবেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানের প্রতি অনেক নমনীয় হবে। যাতে সৌদি আরবের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।

এর আগে বহুজাতিক পারমাণবিক চুক্তিতে তেহরানের সঙ্গে আবারও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জো বাইডেন।

সৌদি আরব প্রসঙ্গে বাইডেন বলেছেন, আমি স্পষ্ট বলে দিতে চাই, আমরা আর তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চাই না।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনে সৌদি আরবের সঙ্গে বাইডেনের কাজ করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এটা একটা সুযোগও বটে। আর এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রায় সব মার্কিন প্রেসিডেন্ট অপেক্ষায় থাকেন। এ লক্ষ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পও অনেক দূর এগিয়েছিলেন।

ওই সৌদি কূটনীতিক সিএনএনকে বলেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সুদানকে অনুসরণ করতে রিয়াদের ওপর খুব চাপ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প ও তাঁর জামাতা জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এই অঞ্চলে কিছু ক্ষেত্রে সফল হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছেন।

বিশ্লেষণে বলা হয়, সৌদি কূটনীতিক তাঁকে জানিয়েছেন, সৌদি বাদশাহ ট্রাম্পের পরিকল্পনা ৯০ শতাংশ সমর্থন করেন। কিন্তু যখন তাঁর ছেলে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতা গ্রহণ করবেন, তখন হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকবেন বাইডেন। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে আগের সব হিসাব বদলে যাবে।

নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জো বাইডেনকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ নভেম্বর সৌদি বাদশাহ সালমান ও তাঁর ছেলে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিসকে শুভেচ্ছা জানান।

জো বাইডেনের সঙ্গে না থাকলেও ট্রাম্পের সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অনেক ভালো সম্পর্ক। এ কারণে তাঁরা এবারও প্রত্যাশা করেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই হোক। কিন্তু তাঁদের সে আশায় গুঁড়েবালি। এ কারণেই হয়তো নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ারও অনেক পরে বাইডেনকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুভেচ্ছা জানাতে হলো তাঁদের।

মন্তব্য পড়ুন 0