default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। নির্বাচনী প্রচারের এই শেষ বেলায় এসে জনমত জরিপে ‘সুইং স্টেট’ হিসেবে পরিচিত উইসকনসিনে ১২ ও মিশিগানে ৮ শতাংশ ব্যবধানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন।

তবে ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য অ্যারিজোনা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্প-বাইডেনের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। এই দুই রাজ্যে দুজনের জনসমর্থনের ব্যবধান আগের চেয়ে কমে এসেছে।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি জরিপ ও বাজার গবেষণা সংস্থা এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের একটি নতুন জনমত জরিপ প্রকাশিত হয়। ট্রাম্প ও বাইডেনের ব্যবধানের এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উইসকনসিন, মিশিগান, অ্যারিজোনা ও নর্থ ক্যারোলাইনা—২০১৬ সালের নির্বাচনে এই চার রাজ্যেই জয় পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটসংখ্যা ৫৩৮। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট পেতে হয়। আসছে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে এই রাজ্যের যেকোনো একটিতে ট্রাম্প হেরে গেলে, তাঁর পক্ষে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে উঠবে।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে যেসব ভোটার ডাকযোগে বা নিজে উপস্থিত হয়ে আগাম ভোট দিয়েছেন, তাঁদের একটা বড় অংশই বাইডেনের পক্ষে আছেন। আর যারা ৩ নভেম্বর ভোট দেবেন তাঁদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থক বেশি।

বিজ্ঞাপন
১১টি ইলেকটোরাল ভোটের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের চেয়ে মাত্র ৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন বাইডেন। রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত এই অঙ্গরাজ্যে এবার বাইডেন বিস্ময়করভাবে এগিয়ে রয়েছেন

নতুন এই জনমত জরিপে দেখা গেছে, ১১টি ইলেকটোরাল ভোটের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের চেয়ে মাত্র ৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন বাইডেন। রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত এই অঙ্গরাজ্যে এবার বাইডেন বিস্ময়করভাবে এগিয়ে রয়েছেন। এই রাজ্যে বাইডেনকে সমর্থন করেন ৫০ শতাংশ ভোটার, আর ট্রাম্পের পক্ষে আছেন ৪৬ শতাংশ ভোটার। উইসকনসিনে রয়েছে ১০টি ইলেকটোরাল ভোট। এই অঙ্গরাজ্যে এবার বাইডেন বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এখানে বাইডেনের পক্ষে আছেন ৫২ শতাংশ ভোটার, আর ৪৪ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পকে সমর্থন করেন।

নর্থ ক্যারোলাইনায় রয়েছে ১৫টি ইলেকটোরাল ভোট। গত দুটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটিতে রিপাবলিকানরা জয় পেলেও এবার ভিন্ন কিছু হতে পারে। এবার এখানে ট্রাম্পের চেয়ে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বাইডেন। এখানে বাইডেনের পক্ষে আছেন ৫১ শতাংশ ভোটার, আর ট্রাম্পের পক্ষে ৪৫ শতাংশ ভোটার। চলতি সপ্তাহে এনবিসি নিউজ/ম্যারিস্ট কলেজ পরিচালিত একটি জরিপেও এই রাজ্যে ট্রাম্পের চেয়ে সামান্য ব্যবধানে বাইডেনকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

মিশিগানেও ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান ভালো। অঙ্গরাজ্যটিতে রয়েছে ১৬টি ইলেকটোরাল ভোট। অঙ্গরাজ্যটিতে বাইডেনের প্রতি ভোটার সমর্থন ৫৩ শতাংশ। আর ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন ৪১ শতাংশ ভোটার।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মিশিগান ও উইসকনসিনের শ্বেতাঙ্গ ভোটারের বড় অংশেরই সমর্থন বাইডেনের পক্ষে। এই দুই রাজ্যে কলেজ ডিগ্রি নেওয়া শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে বাইডেনকে সমর্থন করেন ৬১ শতাংশ, অ্যারিজোনায় সমর্থন করেন ৫০ শতাংশ ও নর্থ ক্যারোলাইনায় সমর্থন করেন ৫১ শতাংশ। আর এসব রাজ্যে কলেজ ডিগ্রি নেই এমন শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের অধিকাংশই ট্রাম্পের পক্ষে। নর্থ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের এই হার ৬৪ শতাংশ।

এবারে মার্কিন নির্বাচনে দেশের অর্থনীতি ও করোনা মহামারি—এই দুটি ইস্যু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই দুই ইস্যু কোন প্রার্থী সবচেয়ে ভালো মোকাবিলা করতে পারবেন—এর ওপর ভিত্তি করে ভোটাররা মূলত ভাগ হয়ে গেছেন। এ ক্ষেত্রেও ভোটারদের আস্থায় আছেন বাইডেন

এই চার রাজ্যেই ৫৫ শতাংশের বেশি নারী ভোটার বাইডেনকে সমর্থন করেন। নর্থ ক্যারোলাইনা ও অ্যারিজোনার পুরুষ ভোটাররা সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে ট্রাম্পের সমর্থক। তবে মিশিগান ও উইসকনসিনে পুরুষ ভোটারের সমর্থনের হার ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে।

এবারে মার্কিন নির্বাচনে দেশের অর্থনীতি ও করোনা মহামারি—এই দুটি ইস্যু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই দুই ইস্যু কোন প্রার্থী সবচেয়ে ভালো মোকাবিলা করতে পারবেন—এর ওপর ভিত্তি করে ভোটাররা মূলত ভাগ হয়ে গেছেন। এ ক্ষেত্রেও ভোটারদের আস্থায় আছেন বাইডেন। করোনা মহামারি মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভোটারদের আস্থায় অ্যারিজোনায় ৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন বাইডেন। তবে অর্থনীতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে আস্থার দিক থেকে অ্যারিজোনা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের চেয়ে পিছিয়ে আছেন বাইডেন। অ্যারিজোনায় ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের আস্থার হার ৫৪ শতাংশ, আর বাইডেনের ৪৩ শতাংশ। নর্থ ক্যারোলাইনায় ৫ পয়েন্টে পিছিয়ে বাইডেন। এই রাজ্যে ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের আস্থার হার ৫১ শতাংশ, আর বাইডেনের ৪৬ শতাংশ। আর দুই ইস্যুতেই মিশিগান ও উইসকনসিনে ট্রাম্প-বাইডেনের প্রতি ভোটারদের আস্থার হারের ব্যবধান খুব সামান্য। মিশিগানে ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের আস্থার হার ৪৯ শতাংশ, বাইডেনের ৪৮ শতাংশ। উইসকনসিনে বাইডেনের প্রতি ভোটারদের আস্থার হার ৪৯ শতাংশ, ট্রাম্পের ৪৮ শতাংশ।

জরিপে দেখা গেছে, অ্যারিজোনা ও মিশিগানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অগ্রহণযোগ্যতার হার বেশি। অ্যারিজোনায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ওপর অগ্রহণযোগ্যতা আছে ৫১ শতাংশ ভোটারের। আর মিশিগানে তা ৫৬ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের সমর্থকদের প্রতি ১০ জনের সাতজন জানিয়েছেন, তাঁরা বাইডেনের বিরোধিতা নয়, বরং প্রেসিডেন্টকে পছন্দ করেই ভোট দেবেন। উইসকনসিনে এই হার ৭৯ শতাংশ, অ্যারিজোনায় ও মিশিগানে ৭৭ শতাংশ এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় ৭১ শতাংশ।

অন্যদিকে উইসকনসিনে বাইডেনের সমর্থকদের মধ্যে ৫২ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা মূলত ট্রাম্পের বিরোধিতা নয়, বরং বাইডেনকে পছন্দ করেই ভোট দেবেন। ৪৩ শতাংশ ট্রাম্পের বিরোধিতা করে বাইডেনকে ভোট দেবেন। আর অ্যারিজোনায় বাইডেনের সমর্থকদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ ট্রাম্পের বিরোধিতা করে তাঁকে ভোট দেবেন এবং ৪৫ শতাংশ বাইডেনের কট্টর সমর্থক। মিশিগানে বাইডেনের সমর্থকদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ ট্রাম্পের বিরোধিতা করে তাঁকে ভোট দেবেন এবং ৪৭ শতাংশ বাইডেনের কট্টর সমর্থক। নর্থ ক্যারোলাইনায় বাইডেনের কট্টর সমর্থক ৪৫ শতাংশ এবং ট্রাম্পের বিরোধিতা করে তাঁকে ভোট দেবেন ৪৩ শতাংশ ভোটার।

দেশের সংকট মোকাবিলায় কার পরিকল্পনা স্বচ্ছ—এই প্রশ্নে মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা ও উইসকনসিনের ভোটারদের সমর্থনে ট্রাম্পের চেয়ে বাইডেন এগিয়ে। অ্যারিজোনায় এই প্রশ্নে দুই প্রার্থীর প্রতি ভোটারদের সমর্থন সমান।

এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের এই জরিপটি ২৩ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। চার রাজ্যের এক হাজার করে বয়স্ক ভোটারের ওপর টেলিফোনে এই জরিপ চালানো হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0