default-image

সবকিছু ঠিক থাকলে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পেছনে মার্কিন সরকারের বার্ষিক ব্যয় হবে ১০ লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ ছাড়াও তিনি পাবেন আকর্ষণীয় নানা সুবিধা। তবে ইতিমধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত ট্রাম্পের বিচার চলছে সিনেটে। সিনেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর জানা যাবে, তিনি এই সুবিধা পাবেন কিনা।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপিটল ভবনে তাঁর সমর্থকদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিশংসিত হয়েছেন ট্রাম্প। সিনেটে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা তাঁর পাওয়ার কথা, তা পাবেন কিনা সেসব বিষয় নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ট্রাম্প বেশ কিছু সুবিধা খোয়াতে পারেন। তবে, আইনজীবীদের কেউ কেউ ভিন্নমত পোষণ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যে আইন আছে তাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে সুযোগ-সুবিধা পেতে অভিশংসনের প্রভাব পড়বে না। সিনেটে বিচারে দোষী হলেও ট্রাম্প সব সুবিধা পাবেন।

আইনে কী আছে


১৯৫৮ সালে প্রণীত ‘দ্য ফরমার প্রেসিডেন্টস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, সাবেক প্রেসিডেন্টদের আজীবন কিছু সুবিধা দেওয়া হয়। সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য সুবিধা হিসেবে বরাদ্দ থাকে অফিসের জন্য জায়গা, সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা, কর্মী রাখার জন্য বছরে প্রায় এক লাখ ডলার ও পেনশন হিসেবে বছরে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।
সাবেক প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানকে সহায়তা দিতে এ আইনটি করা হয়। ১৯৫৩ সালে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার পর ব্যবসা উদ্যোগ নিয়ে দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। ওই আইনের আওতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্ষিক সুযোগ-সুবিধা মূল্যমান ১০ লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

default-image


সরকারি খরচ নজরদারি সংস্থা ন্যাশনাল ট্যাক্সপেয়ার্স ইউনিয়ন ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতারা প্রতি বছর চারজন জীবিত প্রেসিডেন্টের পেছনে ৪০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে অফিসের জায়গা। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ডাব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামাকে করদাতাদের অর্থ থেকে প্রত্যেককে ৫ লাখ ডলার করে দিতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পকে এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে?

মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক ব্রায়ান কাল্ট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট অভিশংসিত হলেও রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রাপ্য সুবিধা নিতে তা বাধা হবে না। কারণ, তাঁকে অপসারণ করা হয়নি, তিনি পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই এসব সুবিধা তাঁর প্রাপ্য।
তবে এ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। আইন বদলাতে পারে। কিছু আইনজীবী মনে করেন, সাবেক প্রেসিডেন্টদের জন্য করা এ আইনটি অপ্রয়োজনীয় খরচের আইন ছাড়া আর কিছু নয়। এখনকার আধুনিক প্রেসিডেন্টদের অনেক আকর্ষণীয় সুযোগ থাকে। তাই ক্ষমতা ছাড়লে তাদের জনগণের সাহায্যের দরকার পড়ে না।
২০১৬ সালে কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা এ নিয়ে একটি বিল এনেছিলেন। কিন্তু বারাক ওবামা তাতে ভেটো দেন। আইনটির সংস্কারের প্রয়োজনের কথা স্বীকার করলেও তা সাবেক প্রেসিডেন্টদের অফিসের জন্য অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি করবে বলে মত দেন ওবামা।

ট্রাম্পের অফিস কোথায় হবে সে সিদ্ধান্ত কে নেবে?

অধ্যাপক ব্রায়ান কাল্টের মতে, আইন অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর পছন্দ অনুযায়ী অফিসের জায়গা বেছে নিতে পারেন। তিনি যদি তাঁর ভবনের মধ্যেই অফিস খুলে বসেন তবুও তিনি নিজের ভবনের জন্যও ভাড়া পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের সংস্থা জেনারেল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তাঁর অফিস ঠিকভাবে প্রস্তুত করে দেবে।
বাইডেনের শপথের আগে গত ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস ছেড়ে ফ্লোরিডার পাম বিচের মার-আ-লোগোতে থাকতে শুরু করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের নতুন অফিস

হোয়াইট হাউসের ছাড়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন একটি অফিস খুলেছেন ট্রাম্প। তিনি মার-আ-লোগোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অফিস খুলেছেন। এই অফিস থেকেই এখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। ট্রাম্পের নতুন এই অফিস থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্টের এই অফিস থেকে ট্রাম্পের প্রতিনিধি ব্যবস্থাপনা, জনগণের কথা জানানো এবং দেশের স্বার্থে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই অফিস জনগণের সক্রিয়তার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের নানা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন