default-image

প্রেসিডেন্ট হিসেবে মার্কিন সমাজকে বিভক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে নিয়োগ নিয়ে নানা তুলকালাম কাণ্ড করেছেন, টুইটের পর টুইট করেছেন। লাগামহীন কথাবার্তা বলেছেন। একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। ট্রাম্পের এ সবকিছুই পরের একজন প্রেসিডেন্ট এসে উল্টে দিতে পারেন। কিন্তু তাঁর সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগকে উল্টে দিতে পারবেন না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসারীরা মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের কারণেই ট্রাম্প ইতিহাসে তাঁর স্থান করে নিচ্ছেন।

সময় ও সুযোগ হাতছানি দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী কয়েক যুগ ধরে রক্ষণশীলদের প্রিয় পাত্র হিসেবেই তাঁকে স্মরণ করা হবে। অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আদর্শিকভাবে পরিবর্তন হয়ে গেল তাঁর হাত দিয়ে। এ পরিবর্তনের জন্য নিজের কৃতিত্ব কী, তার হিসেব না করেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নায়ক হয়ে উঠেছেন। এর পরিণাম মার্কিন সমাজের জন্য কতটা ভালো, কতটা মন্দ—এ নিয়ে আলোচনা চলবে, বিতর্ক হবে। উদার নৈতিকতার বিপক্ষে মার্কিন সমাজের পশ্চাৎপদতার কথা উঠবে। তারপরও ইতিহাস মিথ্যা হয়ে যাবে না। ইতিহাস পাল্টানোও যাবে না।

বিজ্ঞাপন
default-image

২৬ সেপ্টেম্বর বিচারক অ্যামি কোনি ব্যারেটকে সুপ্রিম কোর্টের খালি হওয়া পদে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অ্যামি ব্যারেটের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ডেমোক্রেটিক দল হুমকি দিলেও সময় ও সংবিধান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে। ডেমোক্রেটিক দল হয়তো সময়ক্ষেপণ করতে পারে।

আগামী ১২ অক্টোবর অ্যামি ব্যারেটের মনোনয়ন নিশ্চিত করার শুনানি শুরু হবে বলে জানা গেছে। যদিও নিউইয়র্কসহ উদারনৈতিক নগরীগুলোতে ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলেই প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। সিনেটে ডেমোক্রেটিক দলের নেতা চার্লস শুমারকে শুধু বক্তৃতা না দিয়ে অ্যামি ব্যারেটের মনোনয়ন আটকে দেওয়ার কাজ করে দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে নিউইয়র্কের এক সমাবেশ থেকে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি সুপ্রিম কোর্টের তিনজন বিচারপতি নিয়োগের সুযোগ পেলেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি সুপ্রিম কোর্টের তিনজন বিচারপতি নিয়োগের সুযোগ পেলেন। অ্যামি ব্যারেটের মনোনয়ন নিশ্চিত হলে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রক্ষণশীলদের নিশ্চিত অবস্থানে চলে যাবে।

এদিকে নিজেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চেয়ে এগিয়ে রাখতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার জন্য বারাক ওবামাকে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ স্মরণ করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমনই কিছু রেখে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। সময় তাঁকে এ সুযোগ করে দিয়েছে। অ্যামি ব্যারেটের মনোনয়ন ঘোষণা দেওয়ার সময় উৎফুল্ল ট্রাম্প তাই বলছিলেন, তাঁর জন্য এ এক ঐতিহাসিক ও গর্ব করার মুহূর্ত।

মার্কিন প্রেসিডেনশিয়াল হিস্টোরিয়ান ডগলাস ব্রিঙ্কলি বলেছেন, সময় ও সুযোগ এখন ট্রাম্পের পক্ষে। সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির অন্তর্ভুক্তি একাধিক প্রজন্মকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ডগলাস মনে করেন।

default-image
বিজ্ঞাপন
সময় ও সুযোগ এখন ট্রাম্পের পক্ষে। সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির অন্তর্ভুক্তি একাধিক প্রজন্মকে প্রভাবিত করতে পারে
ডগলাস ব্রিঙ্কলি, মার্কিন প্রেসিডেনশিয়াল হিস্টোরিয়ান

মার্কিন সমাজে সাম্প্রতিক সময়ে নারী অধিকার, নাগরিক অধিকার, সমকামীদের অধিকার, অভিবাসীদের অধিকার, এমনকি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমার অধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অধিকাংশ সময়ে উদারনৈতিক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। আইনপ্রণেতারা কংগ্রেসে যে আইন প্রণয়ন করে থাকেন, সেখানে থাকে অনেক অস্পষ্টতা। সংবিধানের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট এসবের ব্যাখ্যা দিয়ে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারেন।

শত বছরের টানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনজীবনে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার, গর্ভপাত, গাঁজা আইনসিদ্ধ করা, সমলিঙ্গের মধ্যে বিয়ে বা সমলিঙ্গ পরিবারকে স্বীকৃতি দেওয়া, পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষার জন্য নানা রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতার মতো ইস্যুগুলো নিয়ে মার্কিন সমাজ খুবই বিভক্ত। এসব বিতর্ক সুপ্রিম কোর্টে যখনই গেছে, ভাবাদর্শের বিভক্তি তখনই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

অ্যামি ব্যারেট তাঁর মনোনয়ন গ্রহণ করে বলেছেন, নিজের ব্যক্তিগত চিন্তার বদলে সংবিধানকেই তিনি বিচারের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বলে মনে করেন। রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের আইনজ্ঞদের মধ্যে অ্যামি ব্যারেট গত কয়েক বছরে একজন ভালো বিচারক হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

উৎফুল্ল ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের নাম ঘোষণা করেই নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তাঁর প্রচার সভায় শোভা পাচ্ছে—‘ফিল দ্য সিট’ ব্যানার। রিপাবলিকান সিনেটররা বলছেন, নির্বাচনের আগেই তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক মনোনয়ন সম্পন্ন করতে চান। এমনও হতে পারে, আসছে তিন নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হতে পারে সুপ্রিম কোর্টে। এ নিয়ে রিপাবলিকান দল আগাম কোনো সুযোগই হাতছাড়া করতে চায় না।

বিজ্ঞাপন
default-image

ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে শুনানি নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যামি ব্যারেট নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা হুমকির মুখে পড়বে বলে তাঁরা মনে করেন। ওবামা কেয়ার বাতিল করার উদ্যোগ নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প—এমন ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0