default-image

সব মানুষ একদিন ‘আত্মহত্যা’ করেই পরলোকগমন করে। তবে সবাই এই ‘আত্মহত্যা’ করতে রশি বা বিষ ব্যবহার করে না। শুধু যারা তাৎক্ষণিক পরিতৃপ্তি চায়, তারাই রশি, গামছা বা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। আবার অনেকে ব্রিজ বা বড় দালানের ওপর থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে। কেউ আবার নতুন নতুন উপায়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে।

প্রত্যেক মানুষই আপন মৃত্যুর শিল্পী। মৃত্যুকে কাছে পেতে মানুষ নানা সৃষ্টিশীল উপায় খুঁজে নেয়। অনেকে তাৎক্ষণিক পরিতৃপ্তি চায় না, তাই তারা ধীরে ধীরে আত্মহত্যা করে। ধীরে ধীরে আত্মহত্যায় ভিন্ন রকমের মৃত্যুর স্বাদ পাওয়া যায়।

তাহলে এবার জানা যাক, মানুষ কীভাবে ধীরে ধীরে আত্মহত্যা করে। সারা বিশ্বে মানুষ নানা উপায়ে ধীরে ধীরে আত্মহত্যা করে থাকে। তবে বাংলাদেশে মানুষ সাধারণত দুটি প্রধান উপায়ে ধীরে ধীরে আত্মহত্যা করে। এক. মসলাদার ও তৈলাক্ত খাদ্য খাওয়া, যা একসময় হৃদ্‌রোগের কারণ হয়। বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটি ৭৯ লাখ মানুষ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এটি মৃত্যুর ১ নম্বর কারণ। তিন. জেনেশুনে কেমিক্যাল মিশ্রিত খাবার খাওয়া—যা একসময় ক্যানসারে পরিণত হয়। পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় এক কোটি মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

প্রতিবছর পৃথিবীতে প্রায় আট লাখ মানুষ দ্রুত আত্মহত্যা করে মারা যায়। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, মানুষ ধীরে ধীরে আত্মহত্যা করতে পছন্দ করে। পাঠক হয়তো বলতে পারেন, মসলাদার ও তৈলাক্ত খাদ্যের সঙ্গে আত্মহত্যার সংযোগ কোথায়? তাহলে আত্মহত্যার অর্থটা আমরা বোঝার চেষ্টা করি। আত্মহত্যা হচ্ছে—নিজের ইচ্ছায় মৃত্যুবরণ করা। আত্মহত্যার সংজ্ঞাতে সময়ের উল্লেখ নেই। আজ গলায় রশি পেঁচিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করা এবং জেনেশুনে কুখাদ্য খেয়ে আত্মহত্যার করার মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে? আপনি তো জেনেশুনে নিজের ইচ্ছায় আত্মহত্যা করেছেন। এতে শুধু আত্মহত্যার পদ্ধতি এবং সময়ের পার্থক্য আছে, আর কিছু না।

মানুষ আসলে একেকজন মৃত্যুর শিল্পী। মৃত্যুকে কাছে পেতে মানুষ নানা সৃষ্টিশীল উপায় খুঁজে নেয়। তার মধ্যে তৈলাক্ত বা মসলাদার খাবার, রসগোল্লা বা সিগারেট টানাও একেকটি উপায়। শুধু গলায় রশি দিলেই তাকে আত্মহত্যা বলা যায় না। নিজের ইচ্ছায় পেটে কুখাদ্য বা বিষ প্রবেশ করানোর মাধ্যমেও আত্মহত্যা হয়। মৃত্যুতেই পরম শান্তি, তাই আমরা প্রতিনিয়ত নানা উপায়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার চেষ্টা করি। অনেকের আবার তর সয় না, তাই তারা সহজ উপায়ে বা গলায় রশি দিয়ে মৃত্যুকে সহজে আলিঙ্গন করে।

অনেক ডায়াবেটিসের রোগী একটি রসগোল্লা খাওয়ার আগে বলে, ‘মরলে মরছি, তারপরেও খেয়েদেয়ে মরব!’ অথবা একজন ধূমপায়ী তার দিনের প্রথম সিগারেটের মাথায় আগুন দেওয়ার আগে বলে, ‘সিগারেট টানিয়া মরলেও সুখ আছে।’ আবার একজন মৃত্যুর তাৎক্ষণিক পরিতৃপ্তির পাওয়ার আশায় চিরকুটে লিখে, ‘আর পারছি না—মরে একটু শান্তি পাব।’ তাহলে একটু শান্তির জন্যই আমরা আত্মহত্যা করি বা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করি!

ডায়াবেটিস রোগীর কাছে রসগোল্লায় মৃত্যু আলিঙ্গন করাতে শান্তি, ক্যানসারের রোগীর সেই সুখ সিগারেটে, আবার কারও সেই সুখ ছোট্ট একটি রশিতে। সবই তো হচ্ছে নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু, তাই না? আর নিজের ইচ্ছায় মৃত্যুকে আমরা আত্মহত্যাই বলে থাকি। একজন যথার্থ সুস্থ মানুষ কখনো এভাবে আত্মহত্যা করতে পারে না। বয়স বাড়লে একটি সময় মানুষের মৃত্যু হয় যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য, মানুষের হৃদ্‌যন্ত্র আপনা-আপনি বন্ধ হয় না। তার পেছনে কোনো না কোনো কারণ অবশ্যই থাকে। আর সে কারণটির জন্য সেই ব্যক্তিই দায়ী। সেটা ময়নাতদন্ত করলে জানা যায়।

যেহেতু আমাদের চোখে অন্যের শরীরের বাহ্যিক কিছু ছাড়া অভ্যন্তরীণ সমস্যা ধরা পড়ে না। তাই আমরা বলে থাকি, ‘আহা রে, কেমন একজন সুস্থ মানুষ এই অসময়ে মারা গেল!’ যেমন একজন ব্যক্তি হঠাৎ মারা গেল। তার ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ পাওয়া যাবে। সঙ্গে সঙ্গে তার জীবনে কোন কাজের মাধ্যমে সে তার নিজের মৃত্যুর কারণ হয়েছে, তা–ও জানা যাবে। যেমনটি আমরা জানতে পারি, গলায় রশি দিয়ে একজন ত্বরিত আত্মহত্যাকারীকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0