default-image

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনের এখনো দুই মাস বাকি। এর মধ্যেই সম্প্রতি প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান দলের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন। মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে এমনটি এর আগে আর দেখা যায়নি।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি জরিপ ও বাজার গবেষণা সংস্থা এসএসআরএস পরিচালিত সিএনএনের একটি নতুন জরিপে এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে জো বাইডেনকে সমর্থন করছেন ৫১ শতাংশ আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন আছে ৪৩ শতাংশ ভোটারের। জো বাইডেনের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশ বাড়ছে। কনভেনশনের পর বাইডেনের গ্রহণযোগ্যতার হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ শতাংশে আর তাঁর অগ্রহণযোগ্যতার হার হলো ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতার হার নিম্নমুখী। কনভেনশনের পর তাঁর অগ্রহণযোগ্যতার হার দাঁড়িয়েছে ৫৬ শতাংশে আর তাঁর গ্রহণযোগ্যতার হার হলো মাত্র ৪০ শতাংশ। বাইডেনের চেয়ে ট্রাম্পের অগ্রহণযোগ্যতার হার ১৩ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। এই পছন্দের আর কোনো হেরফের হবে না। আর মাত্র ১৩ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ভোটের সময় আসতে আসতে তাঁদের পছন্দের প্রার্থী পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের মধ্যে কে আমেরিকানদের সবচেয়ে বেশি নিরাপদে রাখবেন—এমন প্রশ্নের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বাইডেনের পক্ষে সায় দিয়েছেন ৫১ শতাংশ আর ট্রাম্পের পক্ষে সায় এসেছে ৪৫ শতাংশ ভোটারের।

দেশের সমস্যা সমাধানে কোন প্রার্থীর সুষ্ঠু পরিকল্পনা রয়েছে—এমন প্রশ্নে বাইডেনের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪৯ শতাংশ আর ট্রাম্পের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪৩ শতাংশ ভোটার। দুই দলের কনভেনশনের আগে ও পরে এই প্রশ্নে দুই প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতার হারে কোনো তারতম্য ঘটেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন এই জরিপে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের স্ত্রীর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও যাচাই করা হয়েছে। দেখা গেছে, কনভেনশনের পর ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা ২০১৮ সালের চেয়ে ১০ পয়েন্ট নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার হার ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে জো বাইডেনের স্ত্রী জিল বাইডেনকে আমেরিকানরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। তাঁর গ্রহণযোগ্যতার হার ৪৬ শতাংশ। স্ত্রীর গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকেও ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে বাইডেন।

জরিপে আরও দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যেও বাইডেনের গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে গেছে। ৫৬ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ ভোটার বাইডেনের পক্ষে, আর ট্রাম্পের পক্ষে ৪০ শতাংশ ভোটার। অশ্বেতাঙ্গ ভোটারদের কাছেও বাইডেনের গ্রহণযোগ্যতা ৫৯ শতাংশ, যেখানে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা মাত্র ৩১ শতাংশ। এ ছাড়া ৫৭ শতাংশ নারী ভোটার বাইডেনের পক্ষে। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই হার ৩৭ শতাংশ।

এর আগে রিপাবলিকান কনভেনশনের পর এবিসি নিউজ/ইপসস পরিচালিত জরিপের ফলাফলও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ঠিক সুখকর নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের মধ্যে কোন প্রার্থী বেশি গ্রহণযোগ্য—এ প্রশ্নই হাজির করা হয়েছিল জরিপে। সাধারণত বড় দলের জাতীয় কনভেনশনের পর ওই দলের প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। কিন্তু এবার দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।

বিজ্ঞাপন

জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৩১ শতাংশ। অথচ এক সপ্তাহ আগে একই ধরনের জরিপে এ হার ছিল ৩২ শতাংশ। বেড়েছে প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেনের গ্রহণযোগ্যতা। এক সপ্তাহ আগে বাইডেনের গ্রহণযোগ্যতা ৪৫ শতাংশ হলেও রিপাবলিকান কনভেনশনের পর তা বেড়ে ৪৬ শতাংশে দাঁড়ায়।

রয়টার্স/ইপসস পরিচালিত আরেকটি জরিপের তথ্য বলছে, নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৭ শতাংশই জো বাইডেনের পক্ষে অবস্থান করছেন। আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান করছেন ৪০ শতাংশ ভোটার।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরবর্তী জরিপের তথ্যগুলোও যদি একই রকম থাকে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিপদেই পড়তে যাচ্ছেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের গত ৭০ বছরের ইতিহাসে বড় দলের জাতীয় কনভেনশনের পরও পিছিয়ে পড়া প্রার্থী জয়ী হওয়ার তেমন রেকর্ড নেই।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন