default-image

আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নানা শ্রেণিপেশার মানুষের মতো শিক্ষকদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের প্রতি সমর্থন। তবে বছরের বাজেট পরিকল্পনায় ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা বাজেট থেকে বিলিয়ন ডলার কাটছাট করে বেসরকারিকরণে বাজেট বাড়ানোর প্রস্তাবে শিক্ষক মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। প্রতিবাদে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের অনেকে ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না বলে জানাচ্ছেন।

ট্রাম্প এবার আমার ভোট পাচ্ছে না—ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন স্পেশাল এডুকেশন শিক্ষক ন্যান্সি শিভেলি (৬০)। ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিটি প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দিয়ে আসছেন ওকলাহোমাবাসী স্পেশাল এডুকেশন শিক্ষক ন্যান্সি। কিন্তু এবার তিনি ভোটার নিবন্ধনকে স্বতন্ত্র করে দিয়েছেন। নভেম্বরে জো বাইডেনকে ভোট দেবেন বলে মত পরিবর্তন করেছেন।

ন্যান্সি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমরা শিক্ষকেরা অবহেলিত। সরকারি স্কুলে থাকা শিশুদের সুবিধা কাটছাট করে বেসরকারি নতুন ক্যারিয়ারের শিক্ষকদের দেওয়া, কেবল অপ্রয়োজনীয় নয়, সম্পূর্ণ অপমানজনক। যে ব্যক্তিকে আমি চার বছর আগে ভোট দিলাম, তিনিই আজ আমাদের স্বাস্থ্য এবং জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে কাজে যেতে বাধ্য করছেন।’

করোনাভাইরাস মহামারির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষানীতিতে বিরল পরিবর্তন এনেছে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত কীভাবে স্কুলগুলো আবার নিরাপত্তা নিয়ে চালু করা হবে এবং ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সে সম্পর্কীয় ট্রাম্প-বাইডেন বিতর্ক কেবল শিক্ষানীতির উদ্বেগ নয়। আসন্ন নির্বাচনী ব্যালটে এর প্রভাব থাকবে। রিপাবলিকান দলের প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্রেটিক দলের জো বাইডেন কীভাবে এই ইস্যু নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকসহ আরও অনেকের কাছে যাবেন, সেটিও দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষকদের ভোট এবার ট্রাম্পের বক্সে কমই যাবে বলেই ধারনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প ও বিতর্কিত শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বেটসি ডিভোসের ওপর ক্ষিপ্ত অনেক শিক্ষক। কারণ, চার্টার স্কুল, বেসরকারি ও ধর্মীয় বিকল্প স্কুলগুলোতে অর্থায়নে পাবলিক স্কুলের তহবিল থেকে বাজেট কাটার দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশনা। গ্রীষ্মকালীন স্কুলগুলোকে ব্যক্তিগত শিক্ষার জন্য পুনরায় চালুতে বাধ্য করাও ক্ষোভের একটি কারণ। সেই সঙ্গে ট্রাম্পের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, বন্দুক নিয়ন্ত্রণ ও ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের নাগরিক স্বাধীনতাসহ অন্যান্য নীতিকে একত্রিত করে বলা যায়, স্কুলগুলোকে তাঁর প্রশাসন একটি নিজস্ব দখলদারি ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়েছে, যা এক শ্রেণির ভোটারদের জন্য বিরক্তির কারণ।

অন্যদিকে, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কলেজের আর্থিক সামর্থ্য ও শিক্ষার্থীদের ঋণ সংকটের দিকে মনোনিবেশ করেছেন বেশি। তিনি ওবামা যুগের অনেক গাইডলাইন ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এসব কারণেই মূলত ট্রাম্প শিক্ষকদের মধ্যে জনমতে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন। শিক্ষকেরা ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনকে দেখছেন না। তাঁরা ভাবছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ–সুবিধা আর সমস্যা নিয়ে।

রিজউডে বসবাসরত এলিমেন্টারি শিক্ষক রাইমন্ডা ডি বলেন, ‘স্কুলের নিরাপত্তা, কলেজগুলোতে আর্থিক সামর্থ্য, যৌন নির্যাতনের নীতি ও চার্টার স্কুলগুলোর দিক নির্দেশনা পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে নভেম্বরে কাকে ভোট দেবেন শিক্ষকেরা।’

তবে এটা স্পষ্ট, ট্রাম্প ও ডিভোসের লক্ষ্য ছিল ডিপার্টমেন্টের প্রস্তাবিত বাজেট কর্তন ও ফেডারেল গাইডলাইন শিথিল করাসহ শিক্ষার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের যে ভূমিকা ছিল, তা কমানো।

জুলাইয়ের শেষের দিকে স্কুলগুলো যখন করোনার হটস্পটে ছিল, তখনো ট্রাম্প প্রতিটি জেলায় সক্রিয়ভাবে স্কুলগুলো খোলার প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার প্রশ্নে ট্রাম্পের উদ্যোগের বিষয়টির সমালোচনা করেছেন অনেক শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা। দুটি বৃহৎ শিক্ষক ইউনিয়ন স্বাক্ষরিত জুলাইয়ের বিবৃতিতে ট্রাম্পের উদ্যোগকে ‘শিক্ষাবিরোধী নির্দেশিকা’ ও ‘ব্যাপক পরিকল্পনার অভাব’ বলে সমালোচনা করা হয়। শিক্ষা তহবিল থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলার কেটে প্রাইভেট স্কুলগুলোতে দেওয়ার চেষ্টা ব্যাপক সমালোচিত হয়।

শিক্ষানীতি ছাড়াও ট্রাম্প স্কুলগুলোকে অন্যান্য বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে স্কুলে শুটিং প্রতিরোধে শিক্ষকদের সশস্ত্র হওয়ার আহ্বান, ক্যাম্পাসগুলোতে ইহুদি ও ইসরায়েলবিরোধী সমালোচনার বিরুদ্ধে পুনরায় তদন্ত চালু করা ও ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের বাথরুম ও লকার রুম ব্যবহারের বিতর্কিত বক্তব্য রয়েছে।

ওবামা যুগের ফেডারেল তহবিল থেকে পাওয়া স্কুলগুলোতে যৌন বৈষম্য নিষিদ্ধকারী একটি আইন (টাইটল আই-এক্স) ছিল। স্কুলগুলো কীভাবে যৌন নির্যাতনের মামলাগুলো পরিচালনা করবে, আইনটি তাতে মূখ্য ভূমিকা পালন করত। কিন্তু ট্রাম্প ও ডেভোস সেই আইনটি বদলে দিয়েছিলেন। তাদের এই পরিবর্তন স্কুলগুলোতে যৌন আচরণকে আরও বেশি সংকীর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0