default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে পারছেন না বলে জানানোর একদিন পর তাঁর দলের শীর্ষ নেতারা জানালেন, তাঁরা এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেলসহ কয়েকজন শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, নভেম্বরের নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভোটারদের দিচ্ছেন আইনপ্রণেতারা।

গত বুধবার নির্বাচনে হেরে গেলে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন কিনা—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, জো বাইডেনের সঙ্গে তাঁর নির্বাচনী লড়াইয়ের সুরাহা সুপ্রিম কোর্টে হবে বলে তিনি মনে করেন। পরে গতকাল বৃহস্পতিবারও একই বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে তিনি মনে করেন না। এ ক্ষেত্রে তিনি ডাকযোগে এত বিপুলসংখ্যক ভোট গ্রহণের প্রেক্ষাপটকে টেনে আনেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি নিজ দলের অনেক আইনপ্রণেতাই প্রকাশ্যে তাঁর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। গত চার বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহু বিতর্কিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হবেন, তিনিই ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন। ১৭৯২ সাল থেকে প্রতি চার বছর পরপর যেভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে, ঠিক সেভাবেই এবারও হবে।
মিচ ম্যাককনেল, মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা

এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন মিচ ম্যাককনেল। এক টুইটে তিনি লেখেন, ‘৩ নভেম্বরের নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হবেন, তিনিই ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন। ১৭৯২ সাল থেকে প্রতি চার বছর পরপর যেভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে, ঠিক সেভাবেই এবারও হবে।’

রয়টার্স জানায়, মিচ ম্যাককনেল নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেও অন্য রিপাবলিকান নেতাদের মতো তিনিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি কোনো সমালোচনা করেননি। এ ক্ষেত্রে মিচ ম্যাককনেলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে ভীতি কাটাতে বক্তব্য দিয়েছেন সিনেটর মার্কো রুবিও, মিট রমনি ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলের নেতা কেভিন ম্যাককার্থি। একই দিন দুপুরে পরিস্থিতি শান্ত করতে হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যাইলি ম্যাকেননি জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট মেনে নেবেন।

গত কয়েক মাস ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে আসছেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির চেষ্টা করছেন ডেমোক্র্যাটরা। এ ক্ষেত্রে তিনি মূল প্রশ্নটি তুলছেন ডাকযোগে ভোট নিয়ে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারের মার্কিন নির্বাচনে বহু মানুষ ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন। মহামারি পরিস্থিতির কারণে ডাকযোগে ভোটের সুযোগ বাড়াতে আগে থেকেই কথা বলে আসছেন ডেমোক্র্যাটরা। আর এটিকেই সামনে এনে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির করছেন ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন

ডাকযোগে ভোটের বিষয়টিকে বিতর্কিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এতটাই তৎপর যে, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একে ‘ভৌতিক আয়োজনের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরেই ডাকযোগে ভোট হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত এ নিয়ে বড় কোনো বিপত্তি ঘটেনি।

এ বিষয়ে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ওয়াল্ডম্যান রয়টার্সকে বলেন, ভোটগ্রহণ পদ্ধতি সময়ের সঙ্গে অনেক এগিয়ে গেছে। ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়েনি। অঙ্গরাজ্যগুলো প্রতিনিয়ত তাদের এ সম্পর্কিত বিধি উন্নত করছে।

এদিকে ডেমোক্র্যাটরা বুধবারে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্যকে হুমকি হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রুথ বডার গিন্সবার্গের মৃত্যুর পর তাঁর শূন্য পদ পূরণ করতে উঠে পড়ে লেগেছেন ট্রাম্প। নির্বাচনের ফল যেন নিজেদের মতো করে তৈরি করা যায় সে চেষ্টা থেকেই এটি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিনেটে ডেমোক্রেটিক দলের নেতা চাক শুমার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনি কোনো একনায়ক নন এবং যুক্তরাষ্ট্র আপনাকে তা হতে দেবে না।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ভারমন্ট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

মন্তব্য পড়ুন 0