ট্রাম্প বাইরের দেশ থেকে বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন
ট্রাম্প বাইরের দেশ থেকে বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন ছবি: এএফপি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়ের পর নানা কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। জো বাইডেনের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরই শরণার্থীদের জন্য এ দেশের দরজা খুলে যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাইরের দেশ থেকে বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। জো বাইডেনের সরকার বছরে এই সংখ্যা এক লাখ ২৫ হাজারে উন্নীত করবে বলে ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওতে (এনপিআর) এ সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব বাস্তবতার প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বছরে বাইরের দেশ থেকে এ দেশে ১ লাখ ১০ হাজার শরণার্থী আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছিলেন।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এই সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কারণেই বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

জো বাইডেন এ ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেছেন। বছরে পর্যায়ক্রমে এক লাখ ২৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রকে উন্মুক্ত করার কথা বলেছেন বাইডেন।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বে নানাভাবে নিপীড়িত ও উদ্বাস্তু হওয়া মানুষকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিশ্বের আশ্রয়হীন মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জো বাইডেন সরকার আবার শরণার্থীদের ব্যাপারে তাদের আগের অবস্থান গ্রহণ করবে বলে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক বেকা হেলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একেবারে হয়তো বছরে ১৫ হাজার থেকে এক লাখ ২৫ হাজারে উন্নীত করতে পারবে না। তবে তা ক্রমান্বয়ে করা হবে বলে তিনি মনে করেন। প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতাবলেই বছরে কতজন এমন শরণার্থী গ্রহণ করা যেতে পারে, তাঁর সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারেন। ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী জো বাইডেন নির্বাচনের প্রচারণায় এ ক্ষেত্রে উদার অবস্থান নেবেন বলেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

শরণার্থী সেটেলমেন্টের জন্য অর্থ বরাদ্দে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। এর মধ্যেই লক্ষাধিক শরণার্থীর আবেদন পড়ে আছে। ইরাক যুদ্ধে যেসব ইরাকি যুক্তরাষ্ট্রের সৈনিকদের সাহায্য করেছে, তাদের আশ্রয় আবেদনের বিশাল লাইন জমা পড়ে আছে।

নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে পাওয়া বিভক্ত একটি কংগ্রেসের বাধা অতিক্রম করে বাইডেন প্রশাসনকে এই পথে হাঁটতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই অভিবাসন নিয়ে কোন যুগান্তকারী কিছু ঘটার আশা করছে না অভিবাসী পক্ষগুলোও।

ভালোয় ভালোয় ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর বাইডেন সরকারের প্রথম কাজ হবে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করা। দ্বিতীয় দফা সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা প্রতিদিন নাজুক হচ্ছে। এর মধ্যেই নানা প্রত্যাশিত ঘটনার মধ্য দিয়ে অভিবাসনের নানা ক্ষেত্রে একটা সহনীয় অবস্থা ফিরে আসার আশা করছে অভিবাসী গ্রুপগুলো।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0