ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হলে মার্কিন রাজনীতিতে তাঁর পরিবার আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে
ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হলে মার্কিন রাজনীতিতে তাঁর পরিবার আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবেফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফলাফল পেতে দেরি হবে। ইতিমধ্যে পাওয়া ফলাফলে বাইডেন ২৩৮ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ২১৩ ইলেকটোরাল কলেজ নিশ্চিত করেছেন। জয়ের জন্য ২৭০ ইলেকটোরাল কলেজ পেতে লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হবে, তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সুইং স্টেট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা, উইসকনসিনসহ কয়েকটি রাজ্যের ভোট গণনা এখনো শেষ হয়নি। এসব রাজ্যের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে হোয়াইট হাউসে আগামী ৪ বছর কে থাকছেন।

ইতিমধ্যে রিপাবলিকানপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী জো বাইডেন জয় দাবি করছেন। বাইডেন বলছেন, তিনিই জিততে চলেছেন। ট্রাম্প বলছেন, তিনি বড় জয়ের আশা করছেন। সমর্থকদের প্রতি বাইডেনের শেষ বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।

তবে সুইং স্টেটের সর্বশেষ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, দুজনের ভাগ্য দুলছে পেন্ডুলামে। জয় যে কারও হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার বিজয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আরেকটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। আর সেই নতুন সূচনা না রিপাবলিকান দল, না যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ—কারও স্বার্থে নয়। সেই নতুন দিগন্তের পুরো ফায়দা পাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মার্কিন রাজনীতিতে আবার পরিবারতন্ত্র দেখা যাবে বলে ধারনা করছেন অনেকে।

২০১৬ সালের নির্বাচনে বহিরাগত হিসেবেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতিতে আগমন। একই সঙ্গে রাজনীতির পাদপ্রদীপ থেকে সম্পূর্ণ বাইরে থাকা তাঁর পরিবারও চলে আসে রাজনীতির আলোচনায়। ট্রাম্পের ছায়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার রাজনীতিতে ছেলে, মেয়ে ও মেয়ে জামাই নিজেদের প্রভাবশালী করে তোলেন

যুক্তরাষ্ট্রের গত শতাব্দীর রাজনীতিতে এমন পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি আলোচিত হয় নানা কারণে। রুজভেল্ট, কেনেডি, বুশ পরিবারের পর ক্লিনটন পরিবারের রাজনীতি নিয়ে নানামুখী আলোচনা ছিল মার্কিন রাজনীতিতে।

২০১৬ সালের নির্বাচনে বহিরাগত হিসেবেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতিতে আগমন। একই সঙ্গে রাজনীতির পাদপ্রদীপ থেকে সম্পূর্ণ বাইরে থাকা তাঁর পরিবারও চলে আসে রাজনীতির আলোচনায়। ট্রাম্পের ছায়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার রাজনীতিতে ছেলে, মেয়ে ও মেয়ে জামাই নিজেদের প্রভাবশালী করে তোলেন।

বিজ্ঞাপন

রাজনীতিতে শূন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে ইভানকা ও তাঁর স্বামী প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হয়েছেন। হোয়াইট হাউসে বসবাস করেছেন। বাবা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাত ধরে বিশ্ব নেতাদের কাছে সহজেই নিজেকে উপস্থাপন করতে পেরেছেন ইভানকা ট্রাম্প। একইভাবে ট্রাম্পের ছেলেকেও ব্যবসা-বাণিজ্য সামাল দেওয়ার চেয়ে রাজনীতির মাঠেই দেখা গেছে বেশি। ট্রাম্পকে ঘিরে রিপাবলিকান দল নয়, তাঁর ছেলে, মেয়ে ও মেয়ে জামাই মিলেই গত চার বছর ক্ষমতার বলয় তৈরি করেছেন।

নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। তাঁরা সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এ নির্বাচন শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নয়। পরিবারের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর একটি উপলক্ষ। তাই ট্রাম্প পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে ভোট দেওয়ার জোর আবেদন জানানো হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে গেলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ থমকে দাঁড়াবে। তাঁকে অন্যান্য নানা সমস্যায় পড়তে হবে। ট্রাম্প আবার জয়ী হলে, এই জয়ের জন্য তিনি রিপাবলিকান দল নয়, নিজেকে ও পরিবারকে বাহবা দেবেন।

ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁর অবস্থানকে নিজের পরিবারের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই কাজে লাগাবেন। নিজের বিষয়কেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সব সময় প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। এক সময় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমলা হ্যারিস নয়, ইভানকাকে মানাবে ভালো।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বৈরী পাহাড় ডিঙিয়ে আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প জয়ী হলে, সেটি শুধু তাঁর নিজের বিজয় হিসেবেই থেমে থাকবে না। এর জের থাকবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিজয়ের জন্য রিপাবলিকান দলকে নয়, নিজেকেই কৃতিত্ব দেবেন। মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্প পরিবারের অভিষেক ঘটবে বেশ শক্তভাবেই।

মন্তব্য পড়ুন 0