নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও সাইবার হ্যাকিংয়ের অভিযোগে ১৫ এপ্রিল রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাইডেন প্রশাসন। একইসঙ্গে ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে অবস্থানরত কয়েকজন রুশ কূটনীতিককে বহিস্কার করা হয়েছে। তাদেরকে এক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে।

বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সোলারউইন্ডস নামের সফটওয়্যার হ্যাকিংয়ে রাশিয়া জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় এবং মার্কিন নির্বাচনে তাদের হস্তক্ষেপের চেষ্টার কারণে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ওয়াশিংটন থেকে ১০ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অবরোধ আরোপ করেছে প্রায় তিন ডজন রুশ কোম্পানি ও ব্যক্তিবিশেষের ওপর।

এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিনদের ওপর হামলার জন্য তালেবান জঙ্গিগোষ্ঠীকে রাশিয়া মদদ দিচ্ছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অভিযোগ করছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি প্যাস্কভ এক বিবৃতিতে এমন অবরোধ আরোপের নিন্দা জানিয়েছেন। রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা বলেছেন, মস্কোতে অবস্থানরত মার্কিন দূতকে কড়া বার্তা দেওয়ার জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। এই কথাবার্তার মধ্যে কী থাকছে, এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু করেনি রুশ পররাষ্ট্র দপ্তর।

বিজ্ঞাপন

হোয়াইট হাউসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ার ক্ষতিকর পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ড প্রতিরোধসহ যেকোন বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এই নির্বাহী আদেশ সহায়তা করবে।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলেভান দিনটিতে ‘নতুন দিন’ উল্লেখ করে সিএনএনকে বলেন, ‘পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত না করে বাইডেনের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সাড়া দেওয়া।’ তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া একটি স্থিতিশীল ও গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক তৈরি এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

এর আগে ১৪ এপ্রিল রাতে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপিয়ান মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করেই যুক্তরাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। গৃহীত ব্যবস্থার মধ্যে রুশ গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা, কিছু প্রতিষ্ঠান এবং কতিপয় ব্যক্তিবিশেষের ওপর মার্কিন অবরোধ আরোপ হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর ও ট্রেজারি বিভাগের সমন্বয়ে অবরোধের বিষয়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সোলারউইন্ডস নামের সফটওয়ারের মাধ্যমে মার্কিন শীর্ষ পাঁচ শতাধিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। মার্কিন সরকারের বেশ কিছু বিভাগ এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে। হ্যাকিং করে বহু প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা সম্প্রতি ধরা পড়ে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা এমন অপকর্মের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করছেন।

১৫ এপ্রিলের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সোলারউইন্ডস হ্যাকিংয়ের জন্য রুশ পররাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থার নাম বলেছে। ওই হ্যাকিংয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বেসরকারি খাতের বিরাট একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক উষ্ণ ছিল। রুশ মার্কিন সম্পর্কের দীর্ঘ বৈরিতা তখন অনেকটাই কমে আসছিল। অভিযোগ আছে, গত নির্বাচনে যাতে জো বাইডেন জয়ী হতে না পারেন, এ নিয়ে রাশিয়া গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সব সময় অস্বীকার করে আসছে।

শপথ নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক সাক্ষাৎকারে রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনকে খুনি বলে উল্লেখ করেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোনো তৎপরতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে পরিণতির জন্য পুতিনকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও বাইডেন প্রশাসন কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্মুক্ত রেখেছে। ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিতীয় ফোন কলে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাঁদের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠকের কথাও আলোচনা করেছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে রাশিয়ায় নিয়োগ করা রাষ্ট্রদূতকে বহাল রেখেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। এ মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু সম্মেলনে অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে যোগ দিতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন