default-image

ভোট গণনা নয়, এবার রাজ্য আইন সভাগুলোকে প্রভাবিত করতে লবিং করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যা কখনো হয়নি, ঠিক তেমনটাই করছেন তিনি। ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানিও এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁরা বেশ কয়েকটি রাজ্যের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে লবিং করছেন।

ট্রাম্প শিবিরের আশা, রাজ্যের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ভোটের ফলকে পাশ কাটিয়ে ইলেকটোরাল কলেজ নিয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এ কাজে ট্রাম্প সফল না হলেও শেষ মুহূর্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন, যা গণতন্ত্রের জন্য খারাপ উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২৭ নভেম্বর নিউজম্যাক্স টিভিতে ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে জুলিয়ানি বলেছেন, তাঁরা এখন দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ করছেন। একদিকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া, অন্যদিকে সুইং স্টেটগুলোর রাজ্য আইনসভাকে ভোটের ফল পাল্টে দিতে সম্মত করার কাজ করা। জুলিয়ানি বলেন, তাঁদের কাছে ভোট কারচুপির যথেষ্ট প্রমাণ আছে, কিন্তু তাঁদের হাতে সে পরিমাণ সময় নেই। যেকোনো একদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করছেন।

রুডি জুলিয়ানি বলেন, জনগণের সামান্যই ধারণা আছে যে, তাঁদের কাছে কী পরিমাণ জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে।

ট্রাম্প শিবিরের আশা, রাজ্যের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ভোটের ফলকে পাশ কাটিয়ে ইলেকটোরাল কলেজ নিয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এ কাজে ট্রাম্প সফল না হলেও শেষ মুহূর্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন
বিজ্ঞাপন
default-image

এদিকে ২৭ নভেম্বর পেনসিলভানিয়ার ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের মামলা খারিজ করেছেন। বিচারক বলেছেন, মামলায় কোনো প্রমাণ নেই, সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।

এ বিষয়ে জুলিয়ানি বলেন, এসব বিচারক রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে নিয়োগ পাওয়া বিচারক ভোট জালিয়াতি এবং কারচুপির বিষয়টা বেরিয়ে আসুক তা চান না। তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে এফিডেভিটসহ প্রমাণ আছে। এফিডেভিটে লোকজন বলেছেন, ভোট গণনার সময় এক ব্যালট পাঁচবার গণনা করতে তাঁরা দেখেছেন। ব্যালট পেপার পাওয়ার পর তা সংশোধন করা হয়েছে উল্লেখ করে জুলিয়ানি বলেন, তাঁদের এসব প্রমাণ নিয়ে আদালত শুনানি করতেই সম্মত হননি।

ভোট কারচুপির যথেষ্ট প্রমাণ আছে, কিন্তু হাতে সে পরিমাণ সময় নেই। যেকোনো একদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পাওয়া যাবে
রুডি জুলিয়ানি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবী

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে পেনসিলভানিয়া থেকে বেশি কারচুপি হয়েছে উল্লেখ করে জুলিয়ানি বলেন, এভাবে নেভাদা ও উইসকনসিন রাজ্যেও ভোটে কারচুপি হয়েছে, তাঁদের কাছে প্রমাণ আছে। নির্বাচনের রাতে ট্রাম্প এগিয়ে ছিলেন। পরে জালিয়াতি করে বাইডেনকে জয়ী করানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

রুডি জুলিয়ানির এসব অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যম কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না।

default-image

রাজ্য পর্যায়ের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নিজের সমর্থক খুঁজছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইং স্টেটগুলোর রাজ্য আইন সভা রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে ট্রাম্পের আইনজীবী চাচ্ছেন, যেকোনো অবস্থায় এই বিরোধ রাজ্য পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য। এ ক্ষেত্রে তাঁদের একটা উদ্যোগ দেখা গেছে। পেনসিলভানিয়া রাজ্য আইনসভার রিপাবলিকান দলের লোকজন নাগরিক শুনানি গ্রহণ করেছেন। এ শুনানিতে নিজেদের কিছু সমর্থকদের নিয়ে এসে ভোটে কারচুপির সাক্ষ্য দিয়েছেন। নির্বাচনী আইনে সরাসরি এমন শুনানির কোনো নিয়ম নেই।

পেনসিলভানিয়ার রাজ্য সিনেটর রিপাবলিকান ডাগ মাস্ট্রিয়ানো বলেছেন, তাঁদের রাজ্যের উভয় কক্ষের অধিকাংশ আইনপ্রণেতা মনে করেন, ইলেকটোরাল ভোটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁদের আছে। রাজ্যের ভোটের ফলকে অগ্রাহ্য করে ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে রাজ্য আইনসভার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো নজির নেই।

ট্রাম্প আশা করছেন, সাংবিধানিক আইনের কোনো ফাঁকে সুইং স্টেটের আইনসভায় নিজের দলের লোকজনকে দিয়ে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে।

বিজ্ঞাপন

তবে এই চেষ্টার কোনো ফল না পেলেও সমর্থকদের উদ্দীপ্ত রাখছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিভক্ত সমাজে তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল লোকজনেরও অভাব নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধিকাংশ সমর্থক বিশ্বাস করে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্প সমর্থকদের এমন বিশ্বাস গণতন্ত্রের জন্য হুমকির কারণ। ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মেলাবে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প তো বলেই রেখেছেন, তিনি ইলেকটোরাল ভোটে হেরে গেলেও, পরাজয় স্বীকার করবেন না। তিনি মনে করেন ভোটে কারচুপি ও জালিয়াতি হয়েছে।

ভোট জালিয়াতি নিয়ে অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে রুষ্ট উত্তর দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২৬ নভেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে এমন প্রশ্ন না করার জন্য বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। কখনো কোনো প্রেসিডেন্টকে এমন প্রশ্ন করবেন না।’

মন্তব্য করুন