default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার এখনো কোনো ইঙ্গিত দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে ট্রাম্প শিবির থেকে লিডারশিপ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ‘সেভ আমেরিকা’ নামের এই কমিটি ট্রাম্পের পক্ষে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকে এমন কমিটি গঠনের উদ্যোগ ৩ নভেম্বর মধ্য রাতের আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এ নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের মুখপাত্র টিম মুর্তোফ বলেছেন, নির্বাচনে জয় বা পরাজয় হলেও ট্রাম্পের এমন পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। এমন অ্যাকশন কমিটির মাধ্যমে তাঁর ইস্যুগুলো নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থীদের তিনি সহায়তা করতে পারবেন। ভোট কারচুপি বা ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
একদিকে ট্রাম্প নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা রক্ষার জন্য দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন। অপরদিকে এসব অর্থ এমন একটি অ্যাকাউন্টে রাখছেন, যা তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ব্যবহার করা হবে বলে মনে হচ্ছে
পল রায়ান, পলিসি অ্যান্ড লিটিগেশন অ্যাট কমন কজ–এর ভাইস প্রেসিডেন্ট

নবগঠিত পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির অনুমোদনের জন্য ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে আবেদন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকে এর মধ্যেই অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বাছাই করা দাতাদের কাছে তহবিল চেয়ে ইমেইল করা হচ্ছে।

পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব বজায় রাখতে পারবেন। তহবিল থেকে তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতার জন্য ব্যয় করতে পারবেন। অ্যাকশন কমিটি একজন ব্যক্তির কাছ থেকে বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার চাঁদা গ্রহণ করতে পারবে। ব্যক্তি ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটির কাছ থেকে সেভ আমেরিকা চাঁদা গ্রহণ করতে পারবে।

১০ নভেম্বর ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকে আবারও বলা হয়েছে, প্রত্যেক দেশপ্রেমিক আমেরিকানকে নির্বাচনের ভাবমূর্তি রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

সেভ আমেরিকার সংগ্রহ করা অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ যাবে ট্রাম্পের নিজস্ব প্রচার তহবিলের অ্যাকাউন্টে। বাকিটা রিপাবলিকান দলের এ সংক্রান্ত তহবিলে যুক্ত করে ব্যয় করা হবে বলে ইমেইলে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের প্রচার তহবিল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে কৌশলী আচরণ করে অর্থ সংগ্রহ করছেন।

default-image

‘পলিসি অ্যান্ড লিটিগেশন অ্যাট কমন কজ’ নামক সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রায়ান বলেছেন, একদিকে ট্রাম্প নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা রক্ষার জন্য দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন। অপরদিকে এসব অর্থ এমন একটি অ্যাকাউন্টে রাখছেন, যা তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ব্যবহার করা হবে বলে মনে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রচার তহবিলের ব্যয় নিয়ে নানা অব্যবস্থাপনার কথা সব সময় বলা হয়ে থাকে। প্রচার তহবিলের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য ফেডারেল ইলেকশন কমিশন নানা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করে থাকে। সরাসরি প্রার্থীর নির্বাচনী তহবিলের বাইরে এ ধরনের পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের আরও বেশি অপব্যবহার হয় বলে বলা হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0