যুক্তরাষ্ট্র শয়তানের দেশ: সেই সৌদি যুবকের পোস্ট

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে বন্দুকধারীর গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সৌদি সেনাবাহিনীর এক প্রশিক্ষণার্থী জড়িত। এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে ওই যুবক যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শয়তানের দেশ’ বলে অনলাইনে একটি পোস্ট দেন।

গতকাল শুক্রবার ফ্লোরিডার পেনসাকোলায় নৌঘাঁটির এক শ্রেণিকক্ষে গোলাগুলির ওই ঘটনায় আটজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশের দুজন কর্মকর্তাও আছেন। তাঁরা ওই বন্দুকধারীকে আটকাতে এসেছিলেন। এ ঘটনার দুদিন আগেই বুধবার হাওয়াইয়ের পার্ল হারবার মার্কিন ঘাঁটিতে এক নাবিকের গুলিতে দুজন কর্মী নিহত হন।

দ্য সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ বলছে, ফ্লোরিডার বন্দুকধারীর নাম মোহাম্মাদ আল-শামরানি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে একটি ইশতেহার প্রকাশ করেছিলেন। এতে লেখা ছিল, ‘আমি শয়তানের বিপক্ষে। আর যুক্তরাষ্ট্র এখন শয়তানের দেশে পরিণত হয়েছে। আপনারা মার্কিন বলেই যে আমি আপনাদের বিপক্ষে তা নয়। আমি আপনাদের ঘৃণা করি, কারণ আপনারা প্রতিদিন শুধু মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো মানবজাতির বিরুদ্ধে অপরাধ করছেন। শুধু তা–ই নয়, এ অপরাধগুলোকে সমর্থন করছেন, এমনকি এসব করতে তহবিলও জোগাচ্ছেন।’

এবিসি নিউজ বলছে, এ কথাগুলো আদৌ ওই বন্দুকধারী লিখেছে কি না, তা জানার জন্য তদন্ত চলছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেয়ান্তেজ বলেন, ‘সৌদি আরব সরকারের উচিত এ ঘটনার ভুক্তভোগীদের জন্য কিছু করা। আমি মনে করি, বন্দুকধারী যেহেতু সৌদি আরবের বাসিন্দা, ফলে তাদেরও কিছু দায় আছে।’

পেনসাকোলা নৌঘাঁটিতে ১৬ হাজার সামরিক সদস্য ও ৭ হাজারের বেশি বেসামরিক লোক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পাইলটদের প্রথম দিকের প্রশিক্ষণগুলো এ ঘাঁটিতেই হয়। এ জন্য একে নৌবাহিনীর বিমান চালকদের ‘লালন কেন্দ্র’ বলা হয়। ১৯৮৫ সালে শুধু সৌদির প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী এ ঘাঁটিতে বৈদেশিক সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলে। এখন সৌদি আরব ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিকেরা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন টিমোথি কিনসেলা বলেন, বন্দুকধারী ব্যক্তি বিমান চালনা বিষয়ে প্রশিক্ষর্থী ছিলেন। নৌঘাঁটিতে তাঁর মতো কয়েক শ বিদেশি ছাত্র আছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই শুধু ঘাঁটিতে অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে পারে। এটা এখনো পরিষ্কার না যে কীভাবে ওই প্রশিক্ষণার্থী বন্দুক নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে।

সৌদি আরবের ছয় বাসিন্দাকে এ ঘটনার পর আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরো হামলার ভিডিও করেন।

সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্যমতে, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এসব ঘৃণ্য অপরাধী সৌদির জনতাকে প্রতিনিধিত্ব করে না। ট্রাম্প বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান তাঁকে ফোন দিয়ে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন