বিজ্ঞাপন

‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটি’ সফল হলে এর মধ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির মূল কমিটি ঘোষণা আসত। তবে জিল্লুর রহমান ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া দায়িত্ব পাওয়ায় অনেকে এ কমিটিকে মেনে নেননি। ফলে এ কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ ১২ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটি’ থেকে বের হয়ে গেছেন কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস আহমেদ, যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ, যুগ্ম সদস্যসচিব কাজী আজম, যুগ্ম আহ্বায়ক আকতার হোসেন, প্রভাবশালী নেতা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। তাঁরা বের হয়ে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটি’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটির মধ্যেও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে।

এ দিকে ১২ জুলাই সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও নির্বাচনের সমালোচনা করা হয়। এতে গিয়াস আহমেদ, মোস্তফা কামাল পাশা, গিয়াস উদ্দিন, এম এ বাতিন, মনসুর চৌধুরী ও কামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তবে এ সময় মঞ্চে নেতাদের ১২ বছর আগের বিলুপ্ত কমিটির পদ-পদবি ধরে সম্বোধন করায় সংবাদ সম্মেলনে চেঁচামেচি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

এ সময় তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ বলেন, ‘আপনারা এভাবে বিলুপ্ত হওয়া কমিটির পদ-পদবি নিয়ে সম্বোধন করতে পারেন না।’

পদ-পদবির বিষয়ে বিএনপির নেতা গিয়াস আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১২ বছর আগে কমিটি গঠনের পর আর কোনো কমিটি গঠন না করায়, আমরা পুরোনো পদ ধরেই সবাইকে সম্বোধন করেছি।

এ সময় জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাঁরা বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যানারে বিলুপ্ত কমিটির পদ-পদবি ব্যবহার করতে পারেন না এবং এ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনও করতে পারেন না।’

এদিকে সুবর্ণজয়ন্তী নিয়েও কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। সেই বিভক্ত কয়েকটি পক্ষকে একত্রিত করেন পারেন পারভেজ সাজ্জাদ। অথচ তাঁকে মঞ্চের বাইরে রেখে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বিএনপি নেতা খলকুর রহমান।

দলীয় কোন্দলের বিষয়ে যুবদলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী বলেন, এখানে অভিবাসন সুবিধার জন্য বিএনপির বাইরে অনেক লোক দলে যুক্ত হয়েছে। মূলত তাঁরা বিএনপির কেউ নন। তাঁদের কারণে কোন্দল মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।

বিএনপির নেতা মোতাহার হোসেন বলেন, যেকোনো বড় দলেই কোন্দল আছে। বিএনপিতেও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে বৃহৎ স্বার্থে বিএনপির নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাজী আজম বলেন, অনেক দিন বিএনপির কমিটি না থাকায় দলীয় কোন্দলের কথা স্বীকার করেন। তবে হাই কমান্ড যদি কমিটি গঠন করে দেয় তাহলে কোন্দল থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে একাধিক পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যার কারণে দলে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবীরা।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন