বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এর পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ নিয়ে তাঁর অবস্থান পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। ১৭ এপ্রিল ডেলোয়ার রাজ্যের উইলমিংটন শহর ত্যাগের আগে বাইডেন বলেছেন, বছরে ১৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমাটি বাতিল করা হবে। আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেও এ বছর ঠিক কতজন শরণার্থী গ্রহণ করা হবে, তা অবশ্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন উল্লেখ করেননি।

দক্ষিণের সীমান্ত দিয়ে অভিবাসী প্রবাহ সামাল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিক শরণার্থী গ্রহণের চাপ অভিবাসন বিভাগ গ্রহণ করতে পারবে না বলে প্রেসিডেন্ট বাইডেন উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা একাধিক কাজ এক সঙ্গে করতে পারব না। তবে আগের প্রশাসনের সময়ে গ্রহণ করা সর্বোচ্চ সংখ্যার চেয়ে বেশি শরণার্থী গ্রহণ করা হবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন উপদেষ্টাদের সঙ্গে এ নিয়ে পরামর্শ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ফিসক্যাল ইয়ার সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয়। এ বছরে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৬২ হাজার ৫০০ জন শরণার্থী গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব নাও হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কংগ্রেসওমেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, আমেরিকার প্রগতিশীল আন্দোলনের ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রতিফলন ঘটেছে এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বের ৮০ মিলিয়ন লোকজন নানা কারণে স্বদেশ থেকে বিতাড়িত। এসব লোকজনের কোনো রাষ্ট্র নেই। কখনো রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে, কখনো দেশগুলোর ক্ষমতাসীনদের পীড়নে সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্বে উদ্বাস্তুর সংখ্যা বেড়েছে। সিরিয়া থেকে বিতাড়িত হওয়া হাজারো মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের জন্য অপেক্ষা করছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের মানবিক কর্মসূচির আওতায় বছরের পর এসব শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছিল। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতাড়িত মানুষদের শেষ আশ্রয়ের অন্যতম জায়গা হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। সব সময়েই মানবিক কারণে এসব শরণার্থীকে নিয়মের মাধ্যমে আশ্রয় দিয়ে আসছিল।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এ নৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসে। বছরে ১৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উদারনৈতিক রাজনৈতিক পক্ষ ও নাগরিক সংগঠনগুলো এ নিয়ে আন্দোলন করে আসছিল। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে উদারনৈতিক এ পক্ষগুলোর অবস্থানের জয় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন