যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেল

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনাভাইরাস মহামারিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপের দেশগুলো যখন লকডাউন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাব্য পথ খুঁজছে, এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ পেরিয়ে গেল।

লকডাউন তুলে নিলে সংক্রমণ আরও বেশি ছড়াবে বলে আশঙ্কায় অনেক দেশের বড় বড় শহরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আজ বুধবার জার্মানিতে সব দোকানে মুখে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


এএফপির তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে ২ লাখ ১৪ হাজার মানুষ মারা গেছে। এর এক–তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্রের। এ ছাড়া দেশটিতে করোনা পরিস্থিতিতে লাখো মানুষ এখন বেকার।


অনেক পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে, এক শতকের সবচেয়ে বাজে মন্দা আসতে যাচ্ছে, যেখানে পণ্যের চাহিদার সঙ্গে ভ্রমণ ও পর্যটন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


ব্রিটিশি এয়ারওয়েজ সম্প্রতি সতর্ক করেছে, তাদের এক–তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই করতে হবে। লেবাননে অর্থনৈতিক সংকটের আরও গুরুতর লক্ষণ দেখা গেছে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের সেনাসদস্যদের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড ফিলিপের ভাষ্য, বর্তমানে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরাটাও ঝুঁকিপূর্ণ। আগামী মাস থেকে ফ্রান্সে দোকান, বাজার ও স্কুল খুলছে। সেখানে যাতায়াতের সময় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। জার্মানিতেও গণপরিবহনের পাশাপাশি দোকানে ঢুকতে মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্স ইউরোপে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ । প্রতিটি দেশেই ২৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসে বিশ্বের ৩০ লাখের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। অনেক দেশে শুধু মারাত্মক পরিস্থিতিতে পড়া ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।


এ মহামারির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার চীনের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। তবে বেইজিং বরাবরই তা অস্বীকার করছে।


চীনে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে টানা ১৩ দিন কোনো মৃত্যুর ঘটনা জানা যায়নি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬০০ জন মারা গেছেন। তবে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।


লাতিন আমেরিকায় নতুন ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ব্রাজিল। সেখানে ৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন।


করোনাভাইরাসে বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন গবেষকেরা। তবে এর বাইরেও নানা উপায় নিয়ে কাজ চলছে। আল্ট্রাভায়োলেট রেডিয়েশন কীভাবে ভাইরাসটিকে ধ্বংস করে দেয়, সে সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গবেষণা করছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে কথা বলে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন