default-image

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার কমছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারির ফলে সৃষ্ট নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হচ্ছে। ২ এপ্রিল মার্কিন শ্রম দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেকারত্বের হার এখন ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। মার্চ মাসে শ্রমবাজারে ৯ লাখ ১৬ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হলেও কবে পরিস্থিতি মহামারি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে, তা নিয়ে কেউ কোনো অনুমান করতে পারছেন না। কোভিড-১৯ মহামারি সংক্রমণ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ। এ দেশের কর্মসংস্থানের ইতিহাসে করোনাভাইরাস শুরুর আগে সবচেয়ে ভালো অবস্থা ছিল বলে বিবেচনা করা হয়।

২ এপ্রিল শ্রম বিভাগের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আশাবাদের কথা উচ্চারণ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের দুই মাসের মধ্যেই তাঁর প্রশাসন ৯ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছে। শতাব্দীর সবচেয়ে নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য আরও বহু পথ পাড়ি দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আইন প্রণয়ন করতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে ঘোষিত ঐতিহাসিক এই অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভালো মজুরির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি জানান। যুক্তরাষ্ট্রের বহু সড়ক, মহাসড়ক, সেতু নির্মাণ ও সংস্কার করার মহাউন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে শ্রমবাজার পরিস্থিতির যেমন উন্নতি হবে, তেমনি অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চাকরি সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন শ্রমবিভাগ বলেছে, সেবা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে গত মাসে ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়েছে। হোটেল, মোটেল খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পর্যটন খাতেও অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

গত বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড–১৯ সংক্রমণ শুরু হলে পুরো দেশে লকডাউন শুরু হয়। এ দেশের অর্ধেক কর্মজীবী কর্মহীন হয়ে পড়ে। এখনো বহু কর্মজীবী কাজে ফিরে যেতে পারেনি। সর্বশেষ নাগরিক প্রণোদনা আইনে কর্মহীনদের জন্য ভাতার মেয়াদ ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। নিয়মিত বেকার ভাতার সঙ্গে সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩০০ ডলার করে দেওয়া হচ্ছে কর্মহীন কর্মজীবীদের।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন