বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, এ দেশে করোনায় এ দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজারে। করোনায় দিনে গড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বরের তথ্যমতে, আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৯২৫ জন মারা গেছে।

শীতকাল আসতে না আসতে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে মৃত্যুর সংখ্যাও। শীতের প্রকোপ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে করোনার সংক্রমণ ব্যাপক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন মার্কিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রীষ্মের ছুটি শেষের দিকে। কিছু শিক্ষার্থী যখন স্কুলে ফিরে যাবে, তখন করোনা পরিস্থিতির আবারও অবনতি হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ইউনিভার্সিটি অব হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) এক জরিপে বলা হচ্ছে, আগামী তিন মাসে কোভিড-১৯ যুক্তরাষ্ট্রে আরও দেড় লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিবে।

ইতিমধ্যে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ৪ হাজারের বেশি স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বেশির ভাগ পাবলিক স্কুল খোলার পর থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীর মধ্যে সংক্রমণের হার ২৬ শতাংশ বেড়েছে। ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ শতাংশ বেড়েছে। মাঝে কিছুদিন সংক্রমণের গতি ধীর হলেও সম্প্রতি নর্থ ডাকোটা ও উটাহসহ ২২টি অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

করোনায় এত মানুষের মৃত্যুর পরও ৯০ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক ডা. রবার্ট রেডফিল্ডের।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি আটলান্টিক ফেস্টিভ্যালে বলেন, ‘শীত মৌসুম আসছে, আমি একটি বেসলাইন দেখতে চাই, ভাইরাসে প্রতিদিন কতজন সংক্রামিত হচ্ছেন। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, গড়ে ৩০-৪০ হাজারের সংখ্যাটা থাকছে না, বরং বাড়ছে।’

করোনা মহামারি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলেন, ‘ছয় মাস ধরে ট্রাম্পের মিথ্যাচার ও অদক্ষতার কারণে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ভয়াবহতম প্রাণহানি প্রত্যক্ষ করেছি।’ তিনি বলেন, এই সংকট একটি সত্যিকার সংকট, যেখানে প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তিনি এটি করতে চাননি। তিনি থেমে যান। ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা বিপর্যয়কে তেমন গুরুত্বই দিচ্ছেন না। জনগণকে বারবার আশ্বস্ত করছেন, নির্বাচনের আগেই ভ্যাকসিন চলে আসবে। যদিও নির্বাচনের আগে ভ্যাকসিন আসা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে স্বয়ং সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল। নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেখাতে চাচ্ছেন, সব ঠিক আছে।

মানুষের মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে রাজনীতির এই নগ্ন বাস্তবতাকে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ অসহায়ভাবে তাকিয়ে দেখছে। অপেক্ষা করছে, আর কত মৃত্যুর পর এই মহামারির অবসান হবে। অবসান হবে এ নিয়ে রাজনীতি করা লোকজনের বাগাড়ম্বর!

মন্তব্য পড়ুন 0