default-image

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য দক্ষিণের সীমান্তে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের সঙ্গে শিশুদের ভাড়া খাটাচ্ছে একটি দালাল চক্র। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, নিজের সন্তান দাবি করা লোকজনের সঙ্গে শিশুর ডিএনএ মিলছে না। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে মানবিক সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে।

মার্কিন রক্ষণশীল সিনেটর টেড ক্রুজ ২৮ মার্চ নিউজম্যাক্স টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন।

টেড ক্রুজ বলেন, অন্য শিশুকে নিজের সন্তান বলে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার ঘটনায় নতুন মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে দেশের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।

সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, ডেমোক্রেটিক দলও জানে সীমান্ত দিয়ে আসা লোকজনকে মেক্সিকো থেকে যাচাই করার আগেই প্রবেশ করতে দেওয়ার পরিণাম ভয়াবহ হবে। হয়েছেও তাই। ডেমোক্রেটিক দল চায় নথিপত্রহীন লোকজনের ব্যাপক আগমন। এরপর এসব লোকজনকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে এবং এঁরাই ভোট দিয়ে ডেমোক্রেটিক দলকে আজীবন ক্ষমতায় রাখবে বলে দলটি মনে করছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের সীমান্ত দিয়ে আদমপাচারের জন্য দালালেরা এসব শিশু ভাড়া করছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে আসা লোকজনের প্রতি ভিন্ন ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুদের সঙ্গে আসা তাদের মা-বাবাকে বিচ্ছিন্ন না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। এ সুযোগ গ্রহণ করে দক্ষিণের সীমান্ত দিয়ে এখন দালালেরা শিশুদের সংগ্রহ করছে বিভিন্ন দেশ থেকে। এসব শিশুদের রীতিমতো ভাড়া করে এনে যুক্তরাষ্ট্রে নথিপত্রহীন লোকজনের সঙ্গে মোটা অর্থের বিনিময়ে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

সীমান্তে প্রতিদিন হাজারো এমন লোকজনের প্রবেশ ঘটছে। বিশেষ করে সীমান্ত পাড়ি দিতে আসা একলা পুরুষেরা অর্থের বিনিময়ে দালালদের কাছ থেকে শিশু ভাড়া নিচ্ছেন। নিজের সন্তান দাবি করা লোকজনের সঙ্গে শিশুর ডিএনএ মিলছে না। আর এসব অভিবাসীদের আবাসন, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।

টেড ক্রুজ সীমান্তরক্ষী ও সীমান্তে নিয়োজিত অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মানবিক কাজ করার ঘোষণা দিয়ে বাইডেন প্রশাসন মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। সীমান্তে আটক অনেক লোকজনকে একসঙ্গে রাখতে গিয়ে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ছে। অবিলম্বে এ সংকট সমাধানের জন্য তিনি ট্রাম্প সময়ের সীমান্ত নীতিমালা চালু করার আহ্বান জানান।

সীমান্তে প্রতিদিন হাজারো এমন লোকজনের প্রবেশ ঘটছে। বিশেষ করে সীমান্ত পাড়ি দিতে আসা একলা পুরুষেরা অর্থের বিনিময়ে দালালদের কাছ থেকে শিশু ভাড়া নিচ্ছেন। নিজের সন্তান দাবি করা লোকজনের সঙ্গে শিশুর ডিএনএ মিলছে না

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় মার্কিন অভিবাসন কঠিন থাকায় সীমান্তে জনপ্রবাহ কম ছিল। ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পরই লোকজনের প্রবেশ মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। আবহাওয়া উষ্ণ হওয়ার কারণে এবং মহামারিতে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে চলমান অর্থনৈতিক মন্দাকে এর অন্যতম কারণ বলেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে আসছেন, তিনি একটি সুরক্ষিত সীমান্ত রেখে ক্ষমতা ত্যাগ করেছেন। তাঁর সময়ে গর্হিত নীতিমালার কারণে নথিপত্রহীন লোকজন মেক্সিকোতে থেকেই আশ্রয়ের আবেদন করার নিয়ম চালু করেছিলেন। মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমঝোতা ছিল। ট্রাম্প বলেছেন, বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পরই মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্ক এখন আর ভালো নেই। তাই দক্ষিণ আমেরিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত অভিমুখী জনপ্রবাহ ঠেকাতে মেক্সিকো কোনো সাহায্য করতে অনীহা প্রকাশ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর শুরু করা সীমান্ত দেয়ালের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করলেই সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে মনে করেন।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন