default-image

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কে জিতলেন কে হারলেন—সেই চূড়ান্ত ফল জানতে এ দেশের মানুষের মতো সারা বিশ্ব অপেক্ষায় আছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন—সুতোয় ঝুলছে দুজনের ভাগ্য। ডাকযোগে পাওয়া ভোটের গণনা চলছে।

সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান রাজ্য হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নেভাদা, অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়ার মতো রাজ্যের সব ভোট গণনা না হওয়া পর্যন্ত ফল জানা যাবে না। যেকোনো দিকে যেতে পারে এই ফল। এর মধ্যে কোন নাটকীয় ঘটনাও ঘটতে পারে। ট্রাম্পের আগাম হুমকি দেখে মনে হচ্ছে, বিরোধ আদালতেও যেতে পারে। ফলে চূড়ান্ত ফল জানতে অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের দখল নিতে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই যে হচ্ছে, সেটি মানুষ ইতিমধ্যে জেনে গেছে। কিন্তু এবারের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ প্রতিষ্ঠানগুলো যে পূর্বাভাস দিয়েছিল তা মোটেই মিলছে না। তাই, বলা যায় এসব জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালের মতো আবার হেরে গেল।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জরিপকে আস্থার সঙ্গে নেওয়া হয়ে আসছে। এ দেশের মানুষ, এমনকি বিশ্ববাসী মার্কিন জরিপ ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখেছে সব সময়। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো সব জরিপ আর পণ্ডিতদের বোকা বানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন
এবারের নির্বাচনেও যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠিত জনমত জরিপ ও পণ্ডিতদের মতামত এখন পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচনে জো বাইডেন শেষ পর্যন্ত জয়ী হলেও জরিপকারীরা সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়ার আর কোন সুযোগ নেই।

ইতিহাসের একবার এমন ঘটনাকে ব্যতিক্রম হিসেবে নেওয়া হয়। দ্বিতীয়বারের মতো ঘটলে, তা আর ব্যতিক্রম থাকে না। এবারের নির্বাচনেও যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠিত জনমত জরিপ ও পণ্ডিতদের মতামত এখন পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচনে জো বাইডেন শেষ পর্যন্ত জয়ী হলেও জরিপকারীরা সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়ার আর কোন সুযোগ নেই।

রক্ষণশীল জরিপকারী ফ্রাঙ্ক লান্থজ ৪ নভেম্বর সকালে বলেন, জরিপকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন অবস্থা ক্ষমার অযোগ্য। জরিপে, রাজ্য অনুযায়ী জনমতের বিষয়টি যেমন ভুল প্রমাণিত হয়েছে, তেমনি জাতীয় জনমতও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনের চেয়ে কোন কোন জরিপ ২০১৬ সালে ভালো ছিল বলেও আলোচনায় আসছে।

২০১৬ সালের নির্বাচনে রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিকস নামের জরিপ নির্বাচনের আগের দিন বলেছিল, হিলারি ক্লিনটন তিন দশমিক দুই শতাংশ জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন। নির্বাচনী ফলাফল জাতীয়ভাবে দুই দশমিক এক শতাংশ ভোট ট্রাম্পের চেয়ে বেশি পেয়েছিলেন হিলারি।

এবারের নির্বাচনে জাতীয় জনমতের গড় ছিল ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী জো বাইডেন সাত দশমিক দুই শতাংশে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে। ৪ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত গণনা হওয়া ভোটে দেখা যাচ্ছে, বাইডেন জাতীয়ভাবে ট্রাম্পের চেয়ে মাত্র এক দশমিক ছয় শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছেন।

ওহাইও এবং আইওয়ার মতো রাজ্যে জনমত জরিপের সব ফলাফলকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভুল প্রমাণ করেছেন। ফ্লোরিডায় ট্রাম্প তিন দশমিক চার শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যের ২৯টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে গেছেন। অথচ সব জরিপেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ রাজ্যে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ভোটে এগিয়ে ছিলেন বলে বলা হয়েছিল

ওহাইও এবং আইওয়ার মতো রাজ্যে জনমত জরিপের সব ফলাফলকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভুল প্রমাণ করেছেন। ফ্লোরিডায় ট্রাম্প তিন দশমিক চার শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যের ২৯টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে গেছেন। অথচ সব জরিপেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ রাজ্যে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ভোটে এগিয়ে ছিলেন বলে বলা হয়েছিল। উসকনসিনে ছয় শতাংশের বেশি বাইডেনকে এগিয়ে থাকার কথা বলেছিল প্রায় সব জরিপ প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ভোটের ব্যবধান এক শতাংশের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এখন আর আগের মতো জরিপে অংশ নেয় না। অনেকই মনে করে, তার দেওয়া মতামত ও তথ্য নানাভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। অনেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে মুখ খুলতেই রাজি হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ ব্যবস্থা গত অর্ধ শতাব্দী ধরে মানুষের আস্থায় ছিল। যে ব্যবস্থায় এসব গড়ে উঠেছে, তা সময়কে ধারণ করতে পারে না বলেই এখন কথা উঠেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকেরা এসব জরিপ নিয়ে আগে থেকেই কথা বলে আসছেন। ট্রাম্পের সব আক্রমণ সত্য না হলেও জরিপের বেশির ভাগ অনুমান এবারও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এখন এসব জরিপকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘মার্জিন অব এরর’ নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0