default-image

টিকটকের পাশাপাশি চীনের মালিকানাধীন সব সফটওয়্যার যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, চীনের সফটওয়্যার তাঁর দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। প্রেসিডেন্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, মাইক পম্পেও বলেছেন, চীনের শাসক দল কমিউনিস্ট পার্টির কাছে সরাসরি তথ্য পৌঁছে দেয়—এমন সফটওয়্যারগুলোর একটি হচ্ছে চীনের ভিডিও অ্যাপ টিকটক। এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি টিকটক বন্ধ করে দেবেন।

ভিডিও শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয় অ্যাপ টিকটকের প্রতিষ্ঠান অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা চীন সরকারের নিয়ন্ত্রিত নয় বা সরকারের কাছে তথ্য সরবরাহ করে না।

পম্পেও ফক্স চ্যানেলকে বলেন, ‘অগুনতি’ প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করছে। তারা চীনের সরকারের কাছে তথ্য সরবরাহ করে থাকতে পারে। সেসব ডেটায় মুখ শনাক্ত করার প্যাটার্ন, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ-সংশ্লিষ্ট বিষয় যুক্ত থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “যথেষ্ট হয়েছে”। এবার আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।’

এর আগে শুক্রবার এয়ার ফোর্স বিমানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক বন্ধে তিনি নির্বাহী আদেশে সই করতে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে মাসে সক্রিয় টিকটক ব্যবহারকারী রয়েছে আট কোটি। বেশির ভাগের বয়স ২০ বছরের নিচে। অ্যাপটি চীনের প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের তৈরি।

বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর যুক্তরাষ্ট্রে বাইটড্যান্সের ব্যবসা বন্ধের সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছেন। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম টুইটারে লিখেছেন, ‘ঠিক জবাবটা কী? মাইক্রোসফটের মতো একটি আমেরিকান কোম্পানি থাকা, যে টিকটককে টেক্কা দিতে পারবে। যা দুই পক্ষেরই জয়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। এটি প্রতিযোগিতাকে জিইয়ে রাখবে এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কবল থেকে তথ্য-উপাত্ত রক্ষা করবে।’

মার্কিন টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ব্যবসা কিনে নেওয়ার জন্য তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলা এ ব্যাপারে গত রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

বাণিজ্য, করোনাভাইরাস ব্যবস্থাপনাসহ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নানা ইস্যুতে উত্তেজনা রয়েছে। এর মধ্যে চীনের মালিকানাধীন টিকটক এবং অন্যান্য সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের প্রধান কার্যালয় বেইজিংয়ে। অ্যাপটি চীনে জনপ্রিয় হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনাও বেড়েছে। টিকটকের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির কয়েকজন সিনেটর এর বিরুদ্ধে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ভারত গত ৩০ জুন টিকটক, উইচ্যাটসহ চীনা ৫৯টি অ্যাপ বন্ধ করে দেয়। নয়াদিল্লি এসব অ্যাপকে দেশের জন্য বিপজ্জনক অভিযোগ তুলে তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও ১৫ জুন লাদাখে চীনের সঙ্গে সীমান্ত-সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত হওয়ার পর দিল্লি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0