default-image

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সবার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। করোনা সংক্রমণের প্রথম ধাপেই দেশটি ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়। দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পর পরিস্থিতি আরও বাজে আকার ধারণ করেছে। দৈনিক সংক্রমণে একের পর এক রেকর্ড ভাঙছে। এই পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানাল আরও বড় দুঃসংবাদ। তাদের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে একজন করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হলে, বাদ পড়ে যাচ্ছে আটজন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণের প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি বলে জানিয়েছে সিডিসি।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা জানতে একটি সিডিসি হিসাব করেছে। এতে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৩০ লাখের মতো। অথচ সে সময় পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ছিল এর আট ভাগের এক ভাগ।

সিডিসি মনে করে, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ মোট সংক্রমিত ব্যক্তির সাড়ে কোটিই ছিলেন ঘরে। মাত্র ২৪ লাখ লোক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে সিডিসি বলছে, নভেম্বরে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির হার ভয়াবহ রূপ নেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হওয়া করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ১ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ২৫৬। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্যই এই সংখ্যার ভিত্তি। এই সংখ্যাটি মূলত পরীক্ষার আওতায় আসা ব্যক্তিদের সংক্রমণের চিত্র তুলে ধরে। কিন্তু বহুসংখ্যক মানুষ এই করোনা পরীক্ষার আওতার বাইরে রয়ে গেছেন। এই সব লোককে আমলে নিলে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণের প্রকৃত সংখ্যা এরই মধ্যে ১০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

নিউইয়র্ক পোস্ট বলছে, সিডিসির হিসাব যদি ঠিক থাকে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের করোনা পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের হার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বেড়েছে কোভিড-১৯ রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লোকের সংখ্যাও। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। একের পর এক রেকর্ড ভাঙছে।

এই পরিস্থিতিতে সিডিসির বক্তব্যকে আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কারণ, শীত আসছে। একই সঙ্গে ২৬ নভেম্বর থ্যাংকসগিভিং ডে উদ্‌যাপনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হলো উৎসবের মৌসুম, যা চলবে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আগ পর্যন্ত। এ অবস্থায় খুব সচেতন না হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে, যা নিয়ন্ত্রণে আনা ভীষণ কঠিন হয়ে পড়বে।

মন্তব্য করুন