default-image

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার টিকাদান কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ করোনার পূর্ণ ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের বেশ কিছু কাউন্টিতে টিকাদান প্রায় শেষ পর্যায়ে। আবার কিছু এলাকায় এখনো টিকা নিতে মানুষের অনাগ্রহ রয়েছে। কাউন্টিগুলোতে টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কমেছে টিকার চাহিদা। এসব কারণে অনেক কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের গণটিকাদান কেন্দ্র বন্ধ করে দিচ্ছে, টিকার চালানও কমিয়ে দিচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষ করোনার অন্তত এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। দেশে এ পর্যন্ত ২০ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে দেশের নানা এলাকায় টিকার চাহিদা কমে আসছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই ১০ কোটি ডোজ করোনার টিকাদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তাঁর ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন হতে এখনো বাকি আছে। এরই মধ্যে ১০ কোটি ডোজের লক্ষ্য পেরিয়ে দ্বিগুন মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে বাইডেন প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সাত দিনে দেশে টিকার চাহিদা কিছুটা কমে এসেছে। গত সপ্তাহে দেশে করোনা টিকার চাহিদা ছিল ৩৩ লাখ ৮০ হাজার। ২৩ এপ্রিলে সেটা কমে এসে দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ ৬০ হাজারে।

তবে কিছু কিছু এলাকায় করোনার টিকা অসমভাবে বণ্টন করার অভিযোগ রয়েছে। কোনো এলাকায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। আবার কোনো এলাকায় সরবরাহের তুলনায় টিকার চাহিদা এখনো অনেক বেশি। যেমন সিয়াটলে এখনো দুই লাখের বেশি মানুষ টিকা নেওয়ার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় কর্মকর্তারা ফেডারেল কর্মসূচির আওতায় টিকার অতিরিক্ত ডোজ পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন।

২৩ এপ্রিল হোয়াইট হাউসের কোভিড-১৯ রেসপন্স কো-অর্ডিনেটর জেফ্রে ডি. জিন্টস বলেন, জাতীয়ভাবেই টিকাদানের গতি কমছে। আমরাও আশা করি, প্রতিদিন টিকা দেওয়ার হার ওঠানামা করবে। আমরা টিকাদান কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নিয়েছি। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শতভাগে পৌঁছাতে এখনো সময় লাগবে। এই পরিস্থিতিতে ২৩ এপ্রিল কেনটাকিতে আরও দুটি ফেডারেল টিকাদান কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এই কেন্দ্র দুটিতে সপ্তাহে সাত হাজার মানুষ টিকা নিতে পারবে।

default-image

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টিকার চাহিদা কমে যাওয়া ও এ কারণে কিছু কাউন্টিতে গণটিকাদান কেন্দ্র বন্ধের কথা বলা হলেও এসবের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

এদিকে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সিডিসি জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকাদান কর্মসূচি আবার চালুর বিষয়টি অনুমোদন করেছে। তবে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকির বিষয়টি নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২৩ এপ্রিল বিকেলে সিডিসির উপদেষ্টা প্যানেলের সুপারিশের পর সিডিসি এবং ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জনসনের টিকার স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার কথা জানায়।

নির্দেশ প্রত্যাহার করার অল্প সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে টিকাদান শুরু হতে পারে। এ সপ্তাহে ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার ওপর বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯০ লাখ ৫০ হাজার জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের টিকা অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।

মার্কিন সরকারের উপদেষ্টা বোর্ড পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সামান্য ঝুঁকির চেয়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য টিকাটির ব্যবহার বেশি জরুরি বলে মনে করছে। তবে টিকাটি নেওয়ার সময় সতর্কবার্তা থাকবে। ৫০ বছরের নিচের নারীদের রক্ত জমাট বাধার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮০ লাখ মানুষকে জনসনের টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। তাঁদের সবাই নারী এবং বেশির ভাগের বয়স ৫০ বছরের নিচে।

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের ১৬ বছর থেকে বেশি বয়সীরাও করোনার টিকা নেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের মার্সার কাউন্টিতে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে ২৭ শতাংশ মানুষ অন্তত এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। এরপরও আগামী ৭ মের মধ্যে এই কাউন্টির গণটিকাদান কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মার্সার কাউন্টির হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জেসন মেনসহোফার বলেন, কাউন্টির টিকাদান কেন্দ্র ইন্ডিয়ানা সীমান্তে অবস্থিত। এখানে ৪১ হাজার মানুষের বাস। চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসে এই কেন্দ্রে এক-দুই ঘণ্টার মধ্যেই টিকা নেওয়ার জন্য নির্ধারিত ৪০০ অ্যাপয়েন্টমেন্ট পূরণ হয়ে যেত। গত কয়েক সপ্তাহ থেকেই এখানে টিকার চাহিদা কমে এসেছে। গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো দুই ডোজ টিকা নষ্ট হয়েছে এই কাউন্টিতে।

এদিকে ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী মে মাসের শেষের দিকে কাউন্টির তিনটি গণটিকাদান কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে। চলতি সপ্তাহে এই কেন্দ্রগুলোতে ১৬ হাজার মানুষের টিকা নেওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা থাকলেও, কেবল ছয় হাজার এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছেন। এসব বন্ধ করে দিয়ে তিনটি ভ্রাম্যমাণ টিকাদান কেন্দ্র চালু হবে, যা দিনে ৫০০ ডোজ করে টিকা দেবে।

টেক্সাসের গ্যালভেস্টন কাউন্টির প্রধান জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফিলিপ কেইজার বলেন, কাউন্টি পার্কে অবস্থিত গণটিকাদান কেন্দ্র ক্লিনিকটি আগামী ১ মের পর থেকে আর পরিচালনা করা হবে না। এই কেন্দ্র দিনে পাঁচ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হতো। গত তিন সপ্তাহ থেকে এই কেন্দ্র টিকার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার হার কমে গেছে।

ফিলিপ কেইজার বলেন, তিনি রাজ্যে আর টিকার সরবরাহ না বাড়ানোর জন্য বলেছেন। কারণ, টিকা নেওয়ার গতি ধীর হওয়ায়, অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগেই টিকার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন