default-image

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু আবারও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁ, বার ও জিমে নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করেছেন রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। ১৩ নভেম্বর থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।

১০ নভেম্বর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুসারে, দেশটিতে ১০ নভেম্বর ২৪ ঘণ্টায় ২ লাখ ১ হাজার ৯৬১ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। আর এদিন করোনায় সংক্রমিত হয়ে ১ হাজার ৫৩৫ জন মারা গেছেন। এটি গত কয়েক মাসের মধ্যে এটি রেকর্ড।

দেশটিতে ১১ নভেম্বর ১ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৪০০ জনের। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ২ হাজার ২৭৩ জনের। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৮০৮ জনের।

কোভিড ট্র্যাকিং প্রজেক্টের তথ্য বলছে, দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিজ্ঞাপন

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিউইয়র্কেও ছড়িয়ে পড়ছে। রাজ্য এ পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৩ হাজার ৮৪৮ জনের। রাজ্যে হাসপাতালে করোনায় সংক্রমিত রোগী ভর্তির হারও বাড়ছে। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসার হার ২ দশমিক ৫২। এখন প্রতিদিন নগরে গড়ে ৫৫০ জন করে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছেন রাজ্য গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। ১০ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ১৩ নভেম্বর থেকে রাজ্যের রেস্তোরাঁ, বার ও জিম রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। নিউইয়র্ক সিটিতে রেস্তোরাঁর বাইরে রাত ১১টা এবং ভেতরে বসে খাবার ব্যবস্থা রাত ১২টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। তবে খাবার ডেলিভারির ক্ষেত্রে কোনো বিধি-নিষেধ জারি করা হয়নি। রাত ১০টার পরও খাবার ডেলিভারি করা যাবে।

গভর্নর বলেন, নিউইয়র্কে নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যাও বেড়েছে।

নিউইয়র্কের চেয়েও পাশের রাজ্য নিউজার্সিতে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার বেশি। তাই নতুন করে উৎকণ্ঠা চারদিকে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নিউজার্সির গভর্নর ফিল মারফিও রাজ্যে রেস্তোরাঁ খোলার ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। এ ছাড়া আইওয়া, উইসকনসিন ও টেক্সাসেও করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয়ের অন্যতম কারণ মনে করা হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁর প্রশাসনের ব্যর্থতাকে। তবে প্রথম থেকেই করোনাকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন নির্বাচনে ট্রাম্পকে পরাজিত করা জো বাইডেন। তিনি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন, করোনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে তাঁর প্রশাসন।

এদিকে করোনা মহামারিতে আশার আলো দেখিয়েছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজারের তৈরি ভ্যাকসিন। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁদের তৈরি ভ্যাকসিনে হয়তো মহামারি থেকে মানুষকে মুক্তি দেবে।

নিজেদের তৈরি ভ্যাকসিনের ৯০ শতাংশ কার্যকারিতা দাবি করেছে ফাইজার ও বায়োএনটেক। ছয়টি দেশের ৪৩ হাজার ৫০০ জন মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালিয়েছে ফাইজার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0