default-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষানীতি পরিষদ (ডিফেন্স পলিসি বোর্ড) থেকে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞকে অপসারণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রশাসনের উচ্চপদে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জো বাইডেনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত দপ্তরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছাই মূল নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছে। যেসব কর্মকর্তাকে ট্রাম্প নিজের বিরোধী হিসেবে মনে করছেন, তাঁদের প্রশাসন থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, হঠাৎ করেই প্রতিরক্ষানীতি পরিষদের কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে অপসারণ করা হলো। হঠাৎ করে অপসারিত হওয়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডেলিন অলব্রাইট ও হেনরি কিসিঞ্জার, প্রতিনিধি পরিষদের ইনটেলিজেন্স কমিটির সাবেক সদস্য জেন হারম্যান ও প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সাবেক নেতা এরিক ক্যান্টর।

সাবেক অভিজ্ঞ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উপদেষ্টামণ্ডলী ডিফেন্স পলিসি বোর্ডের মূল কাজ হচ্ছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাবেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মতামত নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে এই বিশেষ পরিষদ গঠন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত তৃতীয় আরেক সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে যে পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছিল, তারই অংশ হিসেবে ডিফেন্স পলিসি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যকে অপসারণ করা হয়েছে বলে আমি নিশ্চিত করছি। আমরা তাঁদের সেবা, নিবেদন ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানের জন্য ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। পরিষদে নতুন কারা যুক্ত হবে, তা পরে জানানো হবে।’

দুটি সূত্ররে বরাত দিয়ে সিএনএন জানায় ডিফেন্স পলিসি বোর্ডের অপসারিত সদস্যদের মধ্যে আরও রয়েছেন নেভাল অপারেশনসের সাবেক প্রধান অ্যাডমিরাল (অব.) গ্যারি রগহেড, পেন্টাগনের সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রুডি ডি লিয়ন ও সাবেক জর্জ বুশ প্রশাসনের ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার জে ডি ক্রাউচ (দ্বিতীয়)।

এর আগে এ সম্পর্কিত এক বিবৃতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মিলার প্রতিরক্ষানীতি পরিষদে আনা পরিবর্তনের কথা জানান। ওই বিবৃতিতে তিনি অপসারণ করা বিশেষজ্ঞদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে দ্রুতই নতুন সদস্যদের নাম ঘোষণা করার কথা বলেন। তবে তিনি কারা বাদ পড়েছেন, তাঁদের নাম জানাননি। কারা আসতে পারেন, সে বিষয়েও কোনো ইঙ্গিত দেননি।

এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারকে বরখাস্ত করার পর পেন্টাগনের বেশ কয়েকটি উচ্চপদে পরিবর্তন হয়। অনেক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেসব পদে আনা হয় ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য রয়েছে—এমন কর্মকর্তাদের। এবার যে পদক্ষেপ নেওয়া হলো, সেখানেও একই ধরনের ঘটনা ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন