default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি একটি নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে আবার কূটনীতি ফিরে আসবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বলেছেন, দেশে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসকদের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে।

গতকাল ৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে দেওয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাঁর প্রশাসনের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতির বিবরণ দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস পররাষ্ট্র দপ্তরে যান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন।
বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বমঞ্চে আবার পদার্পণ করেছে। বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বাইডেন বলেন, ‘আমাদের সামনে থাকা বিশাল সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বৈশ্বিক সর্বজনীন অধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাই হবে আমাদের শক্তির ভিত্তি।’

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, ‘যদিও এই মূল্যবোধের অনেক বিষয়ই সাম্প্রতিক সময়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। আমরা নিজেরাও তার জন্য লড়াই করছি।’
বিশ্বের কর্তৃত্ববাদী শাসকদের মোকাবিলা প্রসঙ্গে বাইডেন বলেন, কেবল একা কাজ করার মধ্য দিয়ে তা অর্জন করা সম্ভব হবে না।

বিজ্ঞাপন

বাইডেন বলেন, আমেরিকার গণতন্ত্রের মূল ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ঐতিহ্যগত মিত্রদের গুরুত্ব দেওয়াসহ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা-মর্যাদাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবে।

আমেরিকা তার জোট পুনর্গঠনে মনোযোগী হবে বলে জানান বাইডেন। এ প্রসঙ্গে বাইডেন বলেন, ‘জোট হচ্ছে আমাদের বড় সম্পদের মধ্যে একটি। কূটনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়া মানে জোট ও অংশীদারদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।’

পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাঁর পূর্বসূরির সব নীতি ঝেড়ে ফেলার ইঙ্গিত দেন। বিশেষ করে ইয়েমেন যুদ্ধকে একটি ‘মানবিক বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে বাইডেন বলেন, তাঁর প্রশাসন এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি দ্বন্দ্ব ও বিরোধ নিরসনে একজন কূটনৈতিককে নিয়োগ দেবে। ইয়েমেনে সৌদি আরবের সব আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হবে বলে ঘোষণা দেন বাইডেন।

বাইডেন জানান, জার্মানিতে মার্কিন সেনাদের পুনরায় মোতায়েন বন্ধ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণের বার্ষিক সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই নানা ফন্দি করে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এই পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম ছিল বছরে মাত্র ১৫ হাজার শরণার্থী গ্রহণের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা কারণে বিতাড়িত হওয়া লোকজনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে মানবিক আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বাইডেন প্রশাসন শরণার্থী গ্রহণের স্তর কী পরিমাণে উন্নীত করবে, তা তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেননি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজারে উন্নীত করার পক্ষে বাইডেন প্রশাসন।

স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখা, ইতিবাচক সম্ভাবনাকে উৎসাহ দেওয়া, সর্বজনীন অধিকারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাসহ প্রতিটি মানুষকে মর্যাদার সঙ্গে আচরণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর হামলার কথা স্মরণ করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, এসব ঘটনা থেকে উতরে আসা আমেরিকা এখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার জন্য আরও বেশি যত্নশীল। কারণ, তাঁরা নিজেরাও এমন লড়াই করেছেন।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলবেন বলে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তিনি বলেন, মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমেরিকার হারিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্যতা ও নৈতিক অবস্থান বৃদ্ধি করা হবে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাঁর বক্তব্যে চীন সম্পর্কে বেশি কিছু বলেননি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, চীনের অর্থনৈতিক পীড়নকে মোকাবিলা করা হবে। মানবাধিকারের ওপর চীনের আক্রমণ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের নেতিবাচক দৌরাত্ম্যকে যুক্তরাষ্ট্র মোকাবিলা করবে।

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক সমঝোতাসহ ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি বিরোধ নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরে উপস্থিতসহ নানা প্রান্ত থেকে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেওয়া মার্কিন কূটনীতিকদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারিস ক্ষমতা নিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। কাজের মাধ্যমে জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন কীভাবে হবে, এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য তাঁরা মার্কিন কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন