default-image

যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। প্রথম দফায় সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই বিচারেই বিশ্বের সবচেয়ে আক্রান্ত দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর এখন দ্বিতীয় দফায় গোটা বিশ্বেই করোনা সংক্রমণ আবার বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে যত মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন, তার প্রায় এক-চতুর্থাংশই হয়েছে চলতি মাসে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ কোভিড-১৯-এ মারা গেছে। নতুন এ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন দেশটির ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে ২৮ লাখ সংক্রমণই হয়েছে চলতি নভেম্বর মাসে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মোট করোনা সংক্রমণের প্রায় এক-চতুর্থাংশই হয়েছে এ মাসে। নভেম্বর মাস এখনো শেষ হয়নি।

এমনিতেই করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শীতের আগে থেকেই দ্বিতীয় দফায় দেশটি ভয়াবহভাবে আক্রান্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু শুধু নভেম্বরেই যে পরিমাণ করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, তা একেবারে অভাবনীয়। শীত একেবারে দোরগোড়ায়। থ্যাংকসগিভিং ডে সামনেই। বড় দিন আছে অপেক্ষায়। উৎসবের এই সময়ে গণজমায়েত রোধ করা গেলেও সামাজিক মেলামেশা একেবারে রুদ্ধ করাটা বেশ কঠিন। ফলে অনেক আগে থেকেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সময়ের জন্য বিশেষ সতর্কতার কথা বলে আসছিলেন। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের হাসপাতালগুলোতে কোভিড-১৯ রোগী ভর্তির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে টানা ১৯ দিন দৈনিক ১ লাখের বেশি নতুন করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত বসন্ত ও গ্রীষ্মে দৈনিক নতুন সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা কখনো ৬০ হাজার অতিক্রম করেনি।

এ অবস্থায় আমেরিকান হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএইচএ) বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে অন্তত ২৪টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়েছে, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে শিগগিরই স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে এএইচএর মান ও রোগী নিরাপত্তা সম্পর্কিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ন্যান্সি ফস্টার বলেন, হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, তাতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়বে।

প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ১ কোটি ২০ লাখের চেয়ে অনেক বেশি
অধ্যাপক ড. ইসথার চু, ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি

সিএনএন জানায়, শুধু নভেম্বরেই কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ২৪ হাজার ২৯১ জন মারা গেছে, যা চলমান মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রে মোট মৃত্যুর ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

এই যে পরিসংখ্যান দেওয়া হলো, তা মূলত শনাক্ত হওয়া সংক্রমণের সংখ্যা। এর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। এ বিষয়ে ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ইসথার চু সিএনএনকে বলেন, ‘প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ১ কোটি ২০ লাখের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ, অনেকেই পরীক্ষার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘সংক্রমণের হার যেভাবে বাড়ছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। অনেকগুলো অঙ্গরাজ্যেই করোনা শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে।’

এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত সামনের উৎসবের মৌসুম নিয়ে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় থ্যাংকসগিভিং থেকে শুরু হবে এ উৎসব মৌসুম, যার শেষ হবে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে। এই সময়ে পর্যটন যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে সামাজিক মেলামেশা ও গণজমায়েত। সঙ্গে রয়েছে শীত। ফলে এই সময়ে করোনাভাইরাস ভয়াবহভাবে বিস্তার পেতে পারে, যদি না সাধারণ মানুষ সতর্কতা মেনে না চলে। এ কারণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সামনের এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষত শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) গত সপ্তাহে থ্যাংকসগিভিং ডে উপলক্ষে ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বলেছে, করোনা সংক্রমণের ৫০ শতাংশের বেশি ঘটে এমন ব্যক্তি থেকে, যাদের মধ্যে কোভিড-১৯-এর কোনো লক্ষণই নেই।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই এই আহ্বানে সাড়া দেবেন না হয়তো। বরাবরের মতোই অনেকেই নিজেদের পরিবারের কাছে উৎসবের এই সময়টিতে যেতে চাইবেন। এতে করে তাঁরা নিজের অজান্তেই নিজের প্রিয়জনদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেবেন, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। কেউ যদি তারপরও উৎসবের সময়টিতে পরিবারের কাছে যান, তাহলে তাঁদের উচিত হবে কোনো লক্ষণ না থাকলেও ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ/একা থাকা) থাকা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0