default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর জো বাইডেন ট্রাম্প সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি থেকে বেরিয়ে আসার এবং ভেঙে পড়া অভিবাসনব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করারও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর পূর্বসূরিদের মতোই মেক্সিকো সীমান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে ইতিমধ্যেই প্রতিশ্রুত সুর পাল্টাতে শুরু করেছেন বাইডেন।

অভিবাসী সহায়ক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ সুনাম আছে। এ কারণে সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য শরণার্থী ভিসা বা অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এসব শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয়ব্যবস্থা বা অ্যাসাইলাম সিস্টেমে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে এমন শরণার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। দক্ষিণ সীমান্তে জড়ো হওয়া এসব শরণার্থীদের জন্য সব সময় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং মতবিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও এখন চাপের মুখে পড়ে এসব শরণার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুত জায়গা থেকে ক্রমেই সরে আসছেন বলে মনে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

২০২০ সালের অর্থবছরের জন্য ট্রাম্প সরকার ১৮ হাজারের বেশি শরণার্থী আবেদন গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছিল। ১৯৮০ সালে কংগ্রেসে শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি চালুর পর এটাই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বনিম্ন শরণার্থী আবেদন গ্রহণ করার সংখ্যা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা হিসেবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৯ সালের জুনে মেক্সিকোর সরকারকে গুয়াতেমালা সীমান্তে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদেশ অমান্য করলে মেক্সিকোর পণ্যের আমদানির ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বাইডেন সরকারের কারণে আবার মেক্সিকোতে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।

মেক্সিকো শহরের ইবেরো-আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসনবিষয়ক প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী জাভিয়ার আরবানো বলেন, অভিবাসন নীতি কঠোর করে যুক্তরাষ্ট্র যে সুফল পেয়েছে তা এখন পরিবর্তন করার কোনো মানে হয় না। তিনি বলেন, ‘আমরা এটা পছন্দ করি বা না করি, ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নীতি বিষয়ে মেক্সিকোর সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন