default-image

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবী দাবি করছেন, তাদের কাছে এত প্রমাণ আছে, যা একত্র করাই তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের কাছে কয়েক টন তথ্যপ্রমাণ জমা পড়েছে।

আইনজীবী সিন্ডি পাওয়েল ২১ নভেম্বর রাতে নিউজম্যাক্স টিভিকে বলেন, ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির ঠাসা প্রমাণ নিয়ে শিগগিরই তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হচ্ছেন। এ সপ্তাহের মধ্যেই সব একসঙ্গে করা সম্ভব হবে। জর্জিয়া রাজ্যের নির্বাচনে ভোটার মেশিন দিয়ে কারচুপি থেকে শুরু করে অর্থের লেনদেনের বিস্ময়কর প্রমাণ তাঁরা আদালতে হাজির করবেন।

পেনসিলভানিয়া রাজ্যের আদালতে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প টুইট করে বলেছেন, তিনি আপিল করবেন। নির্বাচনে নিজের জয় ঘোষণা করে এখনো অনড় অবস্থানে তিনি। এর মধ্যেও একের পর এক রিপাবলিকান নেতা তাঁকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট টমি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প ইতিমধ্যে সব আইনি বিকল্প দেখে নিয়েছেন। সিনেটর টমি এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিসকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে দ্রুত এক টুইট বার্তায় বলেন, পেনসিলভানিয়া রাজ্যের বিচারক তাঁর আইনজীবীদের নির্বাচনে কারচুপির তথ্য উপস্থাপনেরও সুযোগ দেননি। সিনেটর প্যাট টমি তাঁর বন্ধু নন।

বিজ্ঞাপন
কয়েকটি রাজ্যের ভোট সার্টিফিকেশন বন্ধের ওপর আইনগত হস্তক্ষেপ চেয়ে রাজ্যের আদালতে ট্রাম্প হেরে গেছেন। নতুন করে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনার আবেদন জানানো হয়েছে ট্রাম্প শিবির থেকে

পৃথক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তিনি বুঝতে পারছেন না, কেন জো বাইডেন তড়িগড়ি তাঁর প্রশাসন ঠিক করতে উঠে পড়ে লেগেছেন! নির্বাচনের ফল এখনো আদালতের মাধ্যমে পাল্টে যেতে পারে বলে তাঁর বিশ্বাস।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে গেছেন—এমন কথা তাঁর সমর্থকেরা মানছে না। রিপাবলিকান দলের অধিকাংশ সমর্থক ট্রাম্পের জালিয়াতির অভিযোগ বিশ্বাস করে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প বন্ধুর পথে হাঁটছেন। অবশ্য তাঁর নতুন করে হারানোর কিছু নেই।

কয়েকটি রাজ্যের ভোট সার্টিফিকেশন বন্ধের ওপর আইনগত হস্তক্ষেপ চেয়ে রাজ্যের আদালতে ট্রাম্প হেরে গেছেন। নতুন করে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনার আবেদন জানানো হয়েছে ট্রাম্প শিবির থেকে। জর্জিয়া, মিশিগান ও পেনসিলভানিয়ার ভোট সার্টিফিকেশন নিয়ে বিরোধ উপস্থাপন করে তিনি সার্কিট কোর্টে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখন পর্যন্ত ট্রাম্প শিবির থেকে ভোট পাল্টে দেওয়ার মতো কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

১৪ ডিসেম্বরের আগে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ভোটের সার্টিফিকেশনের বিরুদ্ধে রায় পাবেন—এমন আশায় এখন ট্রাম্প সমর্থকেরা। এমন রায় পাওয়া সম্ভব হলে রাজ্যের আইন সভা ইলেকটোরাল ভোট কোন প্রার্থীর পক্ষে যাবে, তা নির্ধারণ করতে পারবে।

আইনি পদক্ষেপ হিসেবে এই সূক্ষ্ম সম্ভাবনার কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মহলই মনে করেন না, সুপ্রিম কোর্ট এমন কোন সিদ্ধান্ত দিয়ে দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন কখনো ঘটেনি। যদিও সাংবিধানিকভাবে শপথ নেওয়া মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের মধ্যে এখন রক্ষণশীলদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0