default-image

যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পর সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি অধ্যুষিত রাজ্য হচ্ছে মিশিগান। মোটর সিটি খ্যাত মিশিগান সব সময়ই বাংলাদেশিদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য। নিউইয়র্ক নগরের পর যে নামটি বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়, তা হলো মিশিগানের ডেট্রয়েট নগর।

মিশিমগান রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৭৫ হাজার বাংলাদেশি মার্কিন বসবাস করে। তবে মিশিগানের হ্যামট্রামিকের কাউন্সিলম্যন মোহাম্মদ হাসান অবশ্য বলেন, বাংলাদেশির সংখ্যা কমবেশি ৭০ হাজার হতে পারে।

হাসান যে হিসাবে কথা বললেন, সেটি অবশ্য করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগের। ২০২০ সালে করোনা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লে নিউইয়র্ক, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে আরও প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি মার্কিন মিশিগানে স্থানান্তরিত হয়। এদের অনেকেই সহজ জীবনযাত্রার আশায় ডেট্রয়েট শহরে বসবাস শুরু করেছেন। নিউইয়র্কে ৩০ বছর থাকার পর করোনার সময় অনেকে মিশিগানে পাড়ি জমিয়েছেন।

পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, মিশিগানের জনসংখ্যা ৯৯ লাখ। এর মধ্যে ডেট্রয়েট নগরের জনসংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার। অন্যদিকে হ্যামট্রামিক নগরীর জনসংখ্যা ২১ হাজার, যার পুরোটাই বাংলাদেশিদের নিয়ন্ত্রণে। ডেট্রয়েট-হ্যামট্রামিক রাস্তার এপাশ-ওপাশ। ওয়ারেন নগরীর জনসংখ্যা ৪৫ হাজার ৭২২ জন, যার অর্ধেক বাংলাদেশি।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে মিশিগানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি মার্কিনের বসবাস। কিন্তু সেখানে নেই বাংলাদেশি কনস্যুলেট। নতুন কনস্যুলেট হচ্ছে ফ্লোরিডায় যে রাজ্যে নেই এত বাংলাদেশি। এ নিয়ে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কোন যুক্তিতে ফ্লোরিডা রাজ্যে কনস্যুলেট হচ্ছে, কেউ হিসাব মেলাতে পারছেন না। রাজ্যের মায়ামিতে হবে এই কনস্যুলেট। অথব বাংলাদেশি বসবাস করেন সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায়, যেখান থেকে গাড়িতে মায়ামি সাড়ে তিন ঘণ্টার পথ।

কথা হয় মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা জোবারুল ইসলাম চৌধুরী, কাউন্সিলম্যান মোহাম্মদ হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা আলাউদ্দিন, মোশারফ হোসেন, বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সুফিয়ান কোরেশী, সিলেট সদর সমিতির মোরশেদ আহমদ, স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি চান মিয়া, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট ও সংবাদকর্মী সুলতান জে শরিফ, কানাইঘাট অ্যাসোসিয়েশনের জাকারিয়া রহমান, গোয়াইনঘাট অ্যাসোসিয়েশনের হেলাল আহমদ, আইটি স্পেশালিস্ট কুলাউড়া অ্যাসোসিয়েশনের মোহাম্মদ হাসান প্রমুখের সঙ্গে। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও মিশিগানের মতো বাংলাদেশি জনবহুল কমিউনিটিতে কনস্যুলেট হচ্ছে না। কম বাংলাদেশি থাকলেও কনস্যুলেট হচ্ছে ফ্লোরিডায়।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, ভৌগোলিক কারণে ফ্লোরিডার মায়ামিতে কনস্যুলেট সার্ভিস অফিস পুরো রাজ্যের নাগরিকদের সুবিধা দিতে পারবে না। অন্যদিকে মিশিগানে মাত্র ১৫ মাইলের মধ্য প্রবাসীরা এই সুবিধাটা পাবেন।

জোবারুল ইসলাম বলেন, মিশিগানে বেশির ভাগ ইমিগ্রান্ট নতুন আসেন, তাদের সিংহভাগ বাংলাদেশি পাসপোর্ট বহন করেন। তাই, কনস্যুলেটের সবচেয়ে বেশি কাজ এই শহরে হয়ে থাকে। তারপরও কেন মিশিগানকে পাস কাটানো হলো। মিশিগানে মাত্র ১৫ মাইলের মধ্যেই সিংহভাগ বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাই, এই রাজ্যে কনস্যুলেট হলে সুবিধা ভোগ করতে পারবেন ৪০/৫০ হাজার প্রবাসী।

দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে প্রবাসীরা মিশিগানে কনস্যুলেটের স্থায়ী অফিসের দাবি জানিয়ে আসছেন। মিশিগান এক্সপ্রেস নামের একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ২০১৯ সালে পাঁচ হাজার সাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল আলাউদ্দিন রেস্টুরেন্টে। ঠান্ডা উপেক্ষা করে উপচে পড়া ভিড় হয়েছিল সেই কর্মসূচিতে। উদ্যোক্তা ছিলেন কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট নাজেলসহ কয়েকজন। সেই সাক্ষর করা আবেদন ঠিক জায়গায় পৌঁছাল কিনা, সেটা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। কনস্যুলেট সার্ভিস চালু, অতি স্পর্শ কাতর এই জনদাবি যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রায় ৫০টি নানা সংগঠন থাকলেও যেকোনো কারণে ইউনিটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মিশিগানে। যে শহরে বাংলাদেশ অ্যাভিনিউ নামে একটি সড়ক রয়েছে, সেখানে স্থায়ী কনস্যুলেট কেন হবে না, এই হিসাব অনেক সাধারণ নাগরিকের প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি মিশিগানে এক বাংলাদেশি মার্কিন একটি মূলধারার লাইব্রেরিতে বাংলাদেশ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেই মিশিগানে বর্ণমালার একটি বিশালাকার সাইনবোর্ড রয়েছে। সেই কনাট স্ট্রিটের (বাংলাদেশ অ্যাভিনিউ) কর্নারে জাতির জনকের দুটো স্থাপনা রয়েছে, সেখানে প্রবাসীদের নানা সহযোগিতার জন্য কনস্যুলেট কেন থাকবে না।

কাউন্সিলম্যন হাসান বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী সিলেটের হওয়ার পরও প্রবাসীদের ভোগান্তি কমছে না। হ্যামট্রামিক, ওয়ারেন তথা মিশিগানের ৭০ হাজার প্রবাসীর মধ্যে ৬৫ হাজারের বেশি সিলেট বিভাগের প্রবাসী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে গেছেন দীর্ঘদিন। তিনি ভালো করেই জানেন, কোন রাজ্যে কনস্যুলেট বেশি দরকার। এই কনস্যুলেটের প্রয়োজনীয়তা শিকাগোর অনারারি কনসাল জেনারেল মনির আহমদও জানেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন