default-image

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার অঙ্গরাজ্যটির নির্বাচন ও এর ভোট গণনা পদ্ধতি নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটির রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার লি চ্যাটফিল্ড বলেছেন, আইনসভার পর্যবেক্ষক কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার এই তদন্ত শুরুর বিষয়ে বৈঠক করবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, লি চ্যাটফিল্ড শনিবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের পর্যবেক্ষক কমিটি নির্বাচন ও এর ভোট গণনা পদ্ধতি নিয়ে বৈঠকে বসবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এই নির্বাচন ও ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলো যেন তর্কের ঊর্ধ্বে থাকে সে জন্যই এ তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত এক টুইটে লি চ্যাটফিল্ড লেখেন, ‘ফল পরিবর্তন লক্ষ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য ও নিশ্চয়তা দরকার। এটা প্রয়োজন।’

চ্যাটফিল্ড এই বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, নির্বাচনে যিনিই বেশি ভোট পাবেন, তিনিই মিশিগান জয় করবেন। এখানেই গল্প শেষ। আমরা এগিয়ে যাব।’

এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জিম অ্যানানিচ। এ সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়ায় এই ডেমোক্র্যাট বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক পদক্ষেপ। এই প্রেসিডেন্ট যে গোলমালের ওপর আস্থা রাখেন, এটি শুধু তার ক্ষেত্র প্রস্তুতে কাজে লাগবে।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিশিগান রিপাবলিকান দল ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিল আগেই। কিন্তু এ সম্পর্কে কোনো প্রমাণ তারা হাজির করেনি। অঙ্গরাজ্যটিতে বাইডেন থেকে ভোটে ক্রমে পিছিয়ে পড়ার সময় থেকেই এই অভিযোগ তোলা হয়। গত ৬ নভেম্বর ভোট গণনা বন্ধে মামলাও করা হয়। অভিযোগ ছিল, ভোট গণনার নির্ধারিত স্থানে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের কাউকে সেভাবে উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সে কারণে তাদের পক্ষে ব্যালট পেপার খোলা ও ভোট গণনার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে এই অনুপস্থিতির সময় যেসব ভোট গণনা ও ব্যালট পেপার খোলা হয়েছে, সেগুলো পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানায় তারা। কিন্তু মিশিগানের আদালতের বিচারক সিনথিয়া স্টিফেনস ওই দিনই মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। স্টিফেনস বলেন, এই মামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনো ভিত্তি তিনি খুঁজে পাননি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, মিশিগানে এখন পর্যন্ত মোট সম্ভাব্য ভোটের ৯৯ শতাংশ গণনা হয়েছে। এর মধ্যে বাইডেন পেয়েছেন ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। ট্রাম্প পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। অঙ্গরাজ্যটিতে বাইডেন ট্রাম্প থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৮ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

জর্জিয়া

এদিকে জটিলতা তৈরি হয়েছে জর্জিয়ার ভোট গণনা নিয়েও। এই অঙ্গরাজ্যে দুই প্রার্থীর মধ্যে বোটের ব্যবধান কম হওয়ায় এই ভোট পুনঃগণনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির সেক্রেটারি অব স্টেট। তবে সাধারণত, এ ধরনের ভোট গণনায় ফল পরিবর্তন হওয়ার ইতিহাস যুক্তরাষ্ট্রে নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সকালে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জর্জিয়ায় জো বাইডেন ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে চার হাজারের কিছু বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটিতে মোট সম্ভাব্য ভোটের ৯৯ শতাংশ এরই মধ্যে গণনা হয়ে গেছে। ফলে সব ভোট গণনার পরও এই ব্যবধান খুব বেশি হবে না। এই অবস্থায় যেকোনো ধরনের ত্রুটি এড়াতে এ ভোট পুনঃগণনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে জর্জিয়ার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

তবে জর্জিয়ায় বাইডেনের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী অঙ্গরাজ্যটির রাজধানী আটলান্টার মেয়র কিশা লান্স বটমস। এই ডেমোক্র্যাট সিএনএনকে বলেন, ‘এটা আমাদের বছর। জর্জিয়া নীল রং ধারণ করতে যাচ্ছে। ব্যবধান কম হবে। কিন্তু আমাদের এখানে নির্বাচন এমনই হয়।’

আটলান্টা মেয়র উদাহরণ হিসেবে নিজের মেয়র নির্বাচনের উদাহরণ দেন। ওই নির্বাচনে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে মাত্র ১৩২ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে ভোট পুনঃগণনা হলেও বাইডেনের সম্ভাবনাই প্রবল বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

পেনসিলভানিয়া

আরেক অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়া নিয়েও প্রবল উত্তেজনা কাজ করছে। এই অঙ্গরাজ্যেও ভোট জালিয়াতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প ও তাঁর নির্বাচনী প্রচার শিবির। অঙ্গরাজ্যটিতে এই মুহূর্তে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাইডেন ট্রাম্প থেকে ১৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটির মোট সম্ভাব্য ভোটের ৯৬ শতাংশ এরই মধ্যে গণনা হয়ে গেছে।

অঙ্গরাজ্যটির আলেগেনি কাউন্টিতেই এখনো প্রায় ৩৫ হাজার ভোট গণনা বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। এই ভোটগুলোর সবই ডাকযোগে আসা। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোট বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের। এসব ব্যালট সবার উপস্থিতিতে গণনা করা হচ্ছে। এর বাইরে রয়েছে আরও ২৯ হাজারের মতো ব্যালট, যেগুলো ডাকযোগে পাঠানোর সময় ভোটারেরা ছোটখাটো ভুল করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেসব ভুল শুধরে এসব ব্যালট গণনা করা হবে। তবে আদালতের আদেশের কারণে এই ব্যালটগুলো গণনা একটু দেরি হবে।

গণনার বাকি থাকা এই ভোটগুলো কোনদিকে যেতে পারে—এমন প্রশ্নের উত্তরে পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল জশ শাপ্রিয় বলেন, এটা বলা মুশকিল। তবে ঐতিহাসিকভাবে অঙ্গরাজ্যের ভোটের সাধারণ চিত্রের প্রতিফলন থাকে এতে। অর্থাৎ, এই অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনে এমনিতে যে এগিয়ে থাকে, এ ক্ষেত্রেও সেই প্রার্থীকেই এগিয়ে থাকতে দেখা যায়।

জশ শাপ্রিয় নিশ্চিত নন, ঠিক কত সংখ্যক ভোট এখনো গণনার বাকি রয়েছে। তবে পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান স্পিকার ব্রায়ান কাটলারের দেওয়া তথ্যমতে, এই সংখ্যা ১ লাখের মতো হবে। আর সিএনএনের নিজস্ব হিসাব বলছে, অন্তত ৬৯ হাজার ভোট এখনো গণনা বাকি রয়েছে।

অ্যারিজোনা

অ্যারিজোনার সেক্রেটারি অব স্টেট কেটি হবস জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যটিতে এখনো ২ লাখ ৫০ থেকে ২ লাখ ৭০ হাজারের মতো ভোট গণনা বাকি রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, অঙ্গরাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত মোট সম্ভাব্য ভোটের ৯৪ শতাংশ গণনা হয়েছে। এর মধ্যে বাইডেন ৪৯ দশমিক ৯ ও ট্রাম্প ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। বাইডেন এই অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প থেকে ৩৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

অ্যারিজোনায় গণনা বাকি থাকা ভোটের একটি বড় অংশই ম্যারিকোপা কাউন্টির। সেখানকার ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যালট এখনো গণনা হয়নি বলে জানিয়েছেন কেটি হবস। তিনি বলেন, ম্যারিকোপা কাউন্টির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এই ভোট আগামী সপ্তাহান্ত (রোববার) পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছে।

নেভাদা

নেভাদা নিয়ে এখনো তেমন জটিলতা তৈরি না হলেও সেখানে জোর লড়াই চলছে। অঙ্গরাজ্যটির ৬টি ইলেকটোরাল ভোট কার দিকে যাবে, এখনো তা নিশ্চিত নয়।

রয়টার্সের তথ্যমতে, অঙ্গরাজ্যটির মোট সম্ভাব্য ভোটের ৯৩ শতাংশ এখন পর্যন্ত গণনা হয়েছে। এর মধ্যে বাইডেন ৪৯ দশমিক ৮ ও ট্রাম্প ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। বাইডেন ট্রাম্প থেকে ২২ হাজার ৬৫৪ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এখনো নির্বাচনের ফল ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো যথেষ্টসংখ্যক ভোট সেখানে গণনার বাকি রয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0