বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ইমারজেন্সি ফিজিশিয়ান ও সিএনএনের মেডিকেল অ্যানালিস্ট লিনা ওয়েন মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে মিশিগানে যা হচ্ছে, তা যেকোনো সময় অন্য রাজ্যেও ঘটে যেতে পারে

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, মিশিগানে এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ১৭ হাজার ৯৩৪ জনের। এদিকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ ৬১ হাজার। আর এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৭৫৬ জনের। এই সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলছে।

জন ফক্স আরও বলেন, আমার ধারণা, জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মানা ছেড়ে দিয়েছে। তারা কেউ মাস্ক পরে না, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে না এমনকি হাতও পরিষ্কার করছে না। এসব কারণেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। এই রাজ্যে করোনার নতুন ধরন বি.১.১.৭-এর সংক্রমণও ভয়ানক। সারা দেশেই এই ধরনটি ছড়িয়ে পড়ছে। করোনার নতুন ধরন বি.১.১.৭ আগের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য বলছে, বি.১.১.৭ নামের করোনার নতুন ধরনটি প্রথমে যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যেই এই ধরন ছড়িয়েছে। ফ্লোরিডায় করোনার নতুন ধরন বি.১.১.৭-এ সংক্রমণ শনাক্তের হারে প্রথম। এরপর মিশিগান ও মিনেসোটা। আর এতে মূলত তরুণেই বেশি সংক্রমিত হচ্ছে, যারা এখনো টিকার আওতায় আসেনি।

ইমারজেন্সি ফিজিশিয়ান ও সিএনএনের মেডিকেল অ্যানালিস্ট লিনা ওয়েন মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে মিশিগানে যা হচ্ছে, তা যেকোনো সময় অন্য রাজ্যেও ঘটে যেতে পারে। কারণ, মিশিগানে এখন করোনার সবচেয়ে সংক্রামক ধরন বি.১.১.৭ ছড়িয়ে পড়েছে। আর এটা এখন পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই ছড়াচ্ছে।

লিনা ওয়েন বলেন, তবে আশার কথা হলো, যুক্তরাষ্ট্রে করোনার টিকাদান কর্মসূচি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। তাই হয়তো দেশে করোনার আরও একটি ঢেউ আসা থামাতে পারে এই টিকাদান কর্মসূচি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক-চতুর্থাংশ মানুষ করোনার পূর্ণ ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে।

সিডিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ১২ কোটি ৯০ লাখ মানুষ অন্তত এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৯ শতাংশ। আর ৮ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ করোনার পূর্ণ ডোজ টিকা নিয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। জনসনের টিকা দেওয়ার পর কয়েকজনের শরীরে রক্ত জমাট বাধা ছাড়াও গুরুতর অসুস্থতা লক্ষ্য করায় সিডিসি ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এই টিকাদান বন্ধ করার সুপারিশ করে। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ৬০ লাখ ৮০ হাজার মানুষ জনসনের এই টিকা গ্রহণ করেছে।

গত মাসে জনসন অ্যান্ড জনসনের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রে মোট ছয়টি করোনার টিকা নিয়ে পরীক্ষা চলছে। অন্য টিকাগুলোর দুই ডোজ প্রয়োজন হলেও জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার মাত্র এক ডোজ প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ টিকার দ্রুত পরীক্ষা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন