আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। মূলধারার রাজনীতিতে প্রথম প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিনদের অংশগ্রহণ খুব কম। নির্বাচন নিয়েও আগ্রহ থাকলেও নিজে ভোটার কিনা, সেটিও অনেকে জানেন না। আবার নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকানরা এ দেশের রাজনীতি নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নয়। এই রাজনীতির পরিবর্তনে তাদের করণীয় কী, সে সম্পর্কেও কোনো স্পষ্ট ধারণা তাদের নেই। ভোট কেন্দ্রে যাবেন কিনা, সেটিও নিশ্চিত নন তাঁরা। নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির নতুন প্রজন্মের কয়েকজন বাংলাদেশি আমেরিকানের সঙ্গে কথা বলে তাদের এমন মনোভাব জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি ডেমোক্র্যাট প্রধান রাজ্য। ঐতিহাসিকভাবে এসব রাজ্যকে ডেমোক্র্যাটদের ভোট ব্যাংক মনে করা হয়। অভিবাসী পরিবারগুলোর বাংলাদেশি আমেরিকানদের মধ্যে পারিবারিক প্রভাব অনেক বেশি। এদের অধিকাংশের ঘরে বাংলাদেশের টিভি চলে। পরিবারের রাজনৈতিক আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনীতি প্রাধান্য পায়।

আসছে নির্বাচন নিয়ে কথা হয় কয়েক তরুণের সঙ্গে। জো বাইডেনকে নাকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পছন্দ—এমন প্রশ্নে বেশির ভাগই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। নিউইয়র্কের একটি কলেজের শিক্ষার্থী হৃদিতা মালিক বলেন, এমনিতেই নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পক্ষে ভোট বেশি পড়বে। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে যতটা না নীতিগতভাবে তার বিরোধিতা, তার চেয়েও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথাবার্তা ও আচরণ তিনি বেশি অপছন্দ করেন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকেই ভোট দেবেন বলে জানালেন।

বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্ক নগরের ব্রুকলিনের বাসিন্দা রেজওয়ার রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে সদ্য কর্মজীবনে ঢুকেছেন। এ বাংলাদেশি আমেরিকান তরুণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান রাজনীতির কড়া সমালোচক। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেনকেও তিনি পছন্দ করেন না। সাম্প্রতিক নাগরিক আন্দোলনে যোগ দেওয়া রেজওয়ান বলেন, আমেরিকার রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ছাড়া এ দেশটি একই চক্রে ঘোরপাক খাবে। প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি আমেরিকার সমাজকে বিভক্ত করে রেখেছে বলে তিনি মনে করেন। বললেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমেরিকার রাজনীতির কোন গুণগত পরিবর্তন হবে না এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে ভোট দেওয়া নিয়েও তিনি উচ্ছ্বসিত নন।

কুইন্সে বসবাসরত সাফওয়ান আহমেদ বলেন, তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের সমর্থক। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি অভিবাসনবিরোধী। যে অভিবাসীরা আমেরিকাকে গড়ে তুলেছে, তাদের লক্ষ্য করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক বক্তব্য ও পদক্ষেপে তিনি বিরক্ত।

কথা হয় নিউজার্সিতে বসবাসরত ইহরাম চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, তিনি ভোট দিতে যাবেন। তাঁর ভোটের মাধ্যমে কোন প্রার্থীর জয়–পরাজয় নির্ধারিত হবে না। আমেরিকার ইলেকটোরেল কলেজ পদ্ধতির নির্বাচন নিয়ে তরুণ এ বাংলাদেশি আমেরিকান ইহরাম বিরক্তি প্রকাশ করলেন।

নিউজার্সির আরেক বাংলাদেশি আমেরিকান তরুণ, প্রযুক্তিবিদ সামিন রহমান বলেন, নির্বাচন নিয়ে তাঁর কোনো ভাবনা নেই। ট্রাম্প ও বাইডেনকে মুদ্রার এ পিঠ–ওপিঠ মনে হয় তাঁর। নিজের ভোটকেন্দ্র কোথায়? তা জানা থাকলেও ভোট দিতেই যাবেন না। এটিকে সময়ের অপচয় মনে করেন তিনি। এ ছাড়া দিনটি কর্মদিন থাকায় তিনি নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন।

বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বসবাস করেন সুমিন পুরকায়স্থ। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প নাগরিক প্রণোদনা দিয়েছেন। সোজাসাপ্টা কথা বলেন। তারপরও রিপাবলিকানদের রাজনীতি তার পছন্দ নয়। তিনি ভোট কেন্দ্রে গেলে জো বাইডেনকেই ভোট দেবেন।

বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কমিউনিটির তরুণদের মতোই রাজনীতি নিয়ে তেমন কোন আলোচনা বা উৎসাহ নেই। প্রথম বা দ্বিতীয় প্রজন্মের আমেরিকান হিসেবে পারিবারিকভাবে তাদের ওপর ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠা, ভালো স্কুলে পড়া, ভালো চাকরিতে যাওয়ার চাপ থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত মোট ভোটারের মধ্যে ৩৯ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। যদিও এই বয়সী ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার হার ২০ শতাংশেরও কম। বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যেও অনেকেই বলছে, তাদের ভোটার তালিকাভুক্তি আছে কিনা, তাও নিশ্চিত নয় তারা।

ভোট গ্রহণের দিন কর্মদিবস থাকে। কর্মদিনের সময়সূচিতে অতিরিক্ত সময় বাঁচিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়াকে অতিরিক্ত কাজ বলেই মনে করে অধিকাংশ তরুণ।

নিউজার্সির তরুণ প্রযুক্তিবিদ নিশাত চৌধুরী বলেন, তিনি ভোট দেবেন। নাগরিক দায়িত্ব মনে করেই ভোট দেওয়ার কথা বলে নিজে কোন পক্ষে ভোট দেবেন, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর মতে, আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত দুই দলের রাজনীতি নিয়ে বহু মানুষের হতাশা রয়েছে। এই দ্বিদলীয় রাজনীতি থেকে আমেরিকা বেরিয়ে আসারও কোনো সম্ভাবনা নেই। অনেকেই উভয় দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে অপছন্দ করলেও কোন বিকল্প তাদের কাছে নেই। ফলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে তাদের কোন তাড়না থাকে না।

মন্তব্য পড়ুন 0