মার্কিন নির্বাচনের পাঁচদিন আগে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপে বাইডেনের পক্ষে ৫৪ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। আর ট্রাম্পের পক্ষে এই সমর্থন ৪২ শতাংশ। তারপরও ২০১৬ সালের পুণরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন অনেকে। এ কারণে ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতি বাদ দেওয়ার পক্ষে বলছেন অনেকে। তবে কেউ আবার এসবের ধার ধারছে না। নির্বাচনে কে হারবে, কে জিতবে—তা নিয়ে বাজি ধরছেন তারা। তাঁরা জুয়ার সাইটে বাজি ধরে বসে আছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজনকে পাওয়া গেছে জুয়াড়িদের দলে।

কথা হয় মিয়া মোবারকের (ছদ্দ নাম) সঙ্গে। কার পক্ষে বাজি ধরলেন প্রশ্নে তাঁর সোজা উত্তর, ট্রাম্পের পক্ষে। তাঁর দাবি, তিনি নাকি ইলেকট্রোরালদের টাকা খাইয়ে সব তৈরি করে রেখেছেন। ‘ভোট’ কোন ব্যাপার না। গেলবার হিলারির জন্য মানুষ ভোট দিয়েছিল, কোন কাজ হয়নি। বললেন, সেবার জুয়ায় বেশ বড় অঙ্ক জিতেছিলেন।

সহকর্মী জামেল রুথ বয়সে তরুণ। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর তিনি ভোট দেবেন। তবে তিনি ইলেকটোরাল ভোটিং সিস্টেম বদলাতে চান। তার স্পষ্ট কথা, পর্দার আড়ালে থেকে যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর সব দেশের রাজনীতিতে নাক গলায়। তাই এমন দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে হবে জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে।

জেরি রেলি বাইডেনের পক্ষে বড় অঙ্ক হাকিঁয়েছেন। তার বিশ্বাস, গতবার হেরেছেন, এবারের জুয়ায় জিতবেন তিনি। রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল খুব খারাপ বলে তিনি মনে করেন। এই দেশ চলে ব্যবসায়ী ও আইনজীবীদের কথায়। তাই প্রেসিডেন্ট কে হল, তাতে তার কিছু যায় আসে না।

বিজ্ঞাপন

ভিক্টোরিয়া মার্কেল একজন বড় মাপের জুয়াড়ি। তিনি মনে করেন, এবার বাইডেন জিতবেন। তিনি বাইডেনের পক্ষে তিল লাখ ডলার বাজি ধরেছেন। তিনি বলেন, অ্যালেন লিখটম্যান কখনো ভুল বলেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ অধ্যাপক অ্যালেন লিখটম্যান বলেছেন, এবার প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন বাইডেন। ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের এই অধ্যাপক ১৯৮৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের ফল আগে থেকেই বলে দিয়েছেন।

কেটলিন ফেরার সুন্দরী স্মার্ট। নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, তিনি কোন ইলেকটোরালকে চেনেন না। তাই তার মতো তরুণদের ভোটে অনাগ্রহ। কোনো নির্দিষ্ট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অর্থ হল তাঁর দলের ইলেকটোরাল কলেজকে মনোনীত করা। পরে সেই ইলেকটোরাল কলেজ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন জনগণের পছন্দের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে। এই পুরো সিস্টেম তার মতো অনেকেরই পছন্দ নয়।

চেলসি টায়ার ব্যবসায়ী, আইনে বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাই বলে বাইডেন পছন্দের নয়, এমন নয়। ট্রাম্প বিদেশে তার দেশের ভাবমূর্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে খুব বেশি কিছু করেননি। ট্রাম্প ক্ষমতায় অভিষিক্ত হওয়ার এক সপ্তাহ পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাতটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত বন্ধ করে দেন। বর্তমানে ১৩টি দেশের ক্ষেত্রে কড়া ভ্রমণ বিধিনিষেধ আছে। এসব নীতির ক্ষেত্রে বাইডেনও খুব সহসা পরিবর্তন আনবেন না বলে তার ধারণা।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মেক্সিকোয় জন্ম নেওয়া অভিবাসীর সংখ্যা কমেছে, কিন্তু লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে জন্ম—এমন অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে।

অভিবাসনের দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনে অভিবাসন ইস্যুর কোন প্রাধান্য নেই। চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবারের নির্বাচনে এখনো কোন প্রার্থী অভিবাসীদের সমস্যা নিয়ে কোন কথা বলেননি। প্রার্থীদের বিতর্কে স্থান পায়নি অভিবাসীদের কোন স্বার্থ। উপরন্তু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অভিবাসীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0