default-image

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে রাজ্য সরকারের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ কোনো বড় ধরনের জালিয়াতি ও কারচুপির প্রমাণ পায়নি।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের এক সপ্তাহ পরেও ফল মেনে নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। ভুয়া ভোট গণনা করে তাঁকে পরাজিত করা হয়েছে।

প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, তারা ৪৫টি রাজ্যের নির্বাচন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কোনো রাজ্যই বড় ধরনের কোনো কারচুপির কথা জানাতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনেসোটার সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিভেন সাইমন জানিয়েছেন, তাঁদের রাজ্যে একজন মানুষও ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো বিতর্কে যাননি। কোথাও কোনো জালিয়াতি হয়নি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যের নির্বাচন রাজ্য সরকারের নির্বাচন অফিস পরিচালনা করে। এসব নির্বাচনী অফিস স্বাধীনভাবে কাজ করে। রাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট নির্বাচনী ফল প্রকাশের দায়িত্বে থাকেন।

রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ নির্বাচনী অফিসের প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কখনো সন্দেহ প্রকাশ করে না। সবাই বিশ্বাস করে, এসব প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী কাজ করে। এখানে কারও পক্ষপাত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনেসোটার সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিভেন সাইমন জানিয়েছেন, তাঁদের রাজ্যে একজন মানুষও ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো বিতর্কে যাননি। কোথাও কোনো জালিয়াতি হয়নি।

default-image

কানসাস রাজ্যের রিপাবলিকান সেক্রেটারি অব স্টেট স্কট সোয়াব বলেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কোনো ভোট জালিয়াতি, ভোট কারচুপি বা অনিয়ম তিনি প্রত্যক্ষ করেননি। তিনি রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মিশিগান রাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ট্রাম্পের প্রচার শিবির রাজ্যের অ্যাবসেন্টি ভোট ও ডাকযোগে পাওয়া ভোটের গণনা নিয়ে মামলা করার কথা বলেছে। তবে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো জালিয়াতি-কারচুপির অভিযোগ বা প্রমাণ তাঁদের কাছে নেই।

নির্বাচনের রাত থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রচার শিবির পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ভোট গণনা নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন। এ রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল জোস শাপিরো নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, পেনসিলভানিয়ার ভোট নিয়ে ট্রাম্পের একাধিক মামলা এর মধ্যেই বাতিল হয়ে গেছে। এসব মামলার কোনো ভিত্তি নেই বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

জর্জিয়া রাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট ব্র্যাড রাফেনসপার্গার পড়েছেন তোপের মুখে। ১৯৯২ সালের পর এ রাজ্যে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেননি। এবারের নির্বাচনে জো বাইডেন এগিয়ে থাকার পরই রাজ্যের দুজন রিপাবলিকান সিনেটর ব্র্যাড রাফেনসপার্গারের পদত্যাগ দাবি করেন। রাজ্যের ৯৯ শতাংশ কেন্দ্রের ভোট গণনার পর জো বাইডেন ১০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন ট্রাম্পের চেয়ে।

ব্র্যাড রাফেনসপার্গার নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তাঁর পদত্যাগের দাবি হাস্যকর। দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া জর্জিয়া রাজ্যের ভোট গ্রহণ বা গণনায় কোনো ধরনের কারচুপি বা জালিয়াতি হওয়ার ন্যূনতম আশঙ্কার কথাও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

প্রতিটি রাজ্যের নির্বাচনী অফিসের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রধান সংবাদমাধ্যম জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করে। রাজ্যগুলো থেকে সব দাপ্তরিক বাধ্যবাধকতা অবলম্বনের পর রাজ্য থেকে যাচাই করে ফল কেন্দ্রে পাঠানো হয়। নির্বাচনের রাতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি সংবাদমাধ্যমে ঘোষিত ফলাফল মানেন না। আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেন তিনি।

মন্তব্য পড়ুন 0