মার্কিন নির্বাচনে ত্রিমুখী বিতর্কে করোনার ভ্যাকসিন

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বাস্থ্য এখন নির্বাচনী রাজনীতির বিতর্কে জায়গা করে নিয়েছে। মানুষের জীবন মরণ সমস্যা নিয়ে নির্বাচনী বিতর্ক চলছে। কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন এক কথা, আর তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন আরেক কথা। এদিক ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন বলছেন, ভ্যাকসিন নিয়ে চিকিৎসকদের কথা বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু ট্রাম্পের কথায় কোনো বিশ্বাস নেই। জনগণও প্রেসিডেন্টের কথা বিশ্বাস করে না বলে তিনি বলেছেন।

করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। এই মুহূর্তে কোনো ভ্যাকসিন বাজারে আসলে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আগাম ঘোষণা দেবেন। এটিকে তাঁর রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখাবেন। যদিও ট্রাম্পের ঘোষণায় বাজারে আসা ভ্যাকসিন সাধারণ লোকজন নিশ্চিন্তে গ্রহণ করবে কিনা, এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রচার শিবির দেশের করোনা পরিস্থিতিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। করোনা মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো ব্যর্থতা নেই। দ্রুত ভ্যাকসিন আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এমন প্রচারণা ট্রাম্প শিবির থেকে চালালেও বাস্তব অবস্থা পুরোই ভিন্ন।

এখনো যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতিদিন এক হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে করোনায়। সংক্রমণ প্রতিদিন বাড়ছে। এর মধ্যেই প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমণের তালিকায়। বয়স্ক লোকজন কার্যত নিজেদের লকডাউনে রেখেই সময় কাটাচ্ছেন। সভা-সমাবেশ ও পারিবারিক অনুষ্ঠান বন্ধ।

ভ্যাকসিন নিয়ে চিকিৎসকদের কথা বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু ট্রাম্পের কথায় কোনো বিশ্বাস নেই। জনগণও প্রেসিডেন্টের কথা বিশ্বাস করে না
জো বাইডেন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

শীত আসতে শুরু করেছে। বছরের এ সময়কে ফ্লু মৌসুম বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবীরা আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছেন, এ সময়ে করোনাভাইরাস আর ফ্লু মিলে পরিস্থিতি আবারও নাজুক হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্যসেবীরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। সিডিসি ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এ নিয়ে লোকজনকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, করোনাভাইরাস বিষয়ে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ডের দেওয়া বক্তব্য ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের মানুষের কাছে সিডিসিকেই এসব নিয়ে দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে মনে করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনাভাইরাস বিপর্যয় মোকাবিলার ব্যর্থতা ঢাকতে ভ্যাকসিন আসছে বলে ঘোষণা দিয়ে আসছেন।

সিডিসির পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য ভ্যাকসিন সহজলভ্য হলেও তা আগামী বছরের শেষের দিকে হবে। ভ্যাকসিন ৭০ শতাংশ কার্যকর হলেও জনগণকে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ বছরের মধ্যে ভ্যাকসিন আসলেও তা অতি ঝুঁকিপূর্ণ লোকদের মধ্যেই প্রথমে দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য ভ্যাকসিন সহজলভ্য হলেও তা আগামী বছরের শেষের দিকে হবে
সিডিসির পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, তাঁর মনে হচ্ছে সিডিসি পরিচালক ভুল করেছেন। মাস্ক ব্যবহার নিয়ে সিডিসি পরিচালকের বক্তব্যের সঙ্গেও তিনি একমত নন। রবার্ট রেডফিল্ডের সঙ্গে কথা বলবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেডফিল্ড হয়তো প্রশ্নটি বোঝেননি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস কনফারেন্সের পরই সিডিসি পরিচালক কয়েক দফা টুইট করেন। সেখানে তিনি বলেন, ভ্যাকসিন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় শতভাগ জরুরি বলে তিনি বিশ্বাস করেন। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ভিড় এড়িয়ে চলা ভাইরাস মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

default-image

একাধিক ভ্যাকসিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একটি স্বাধীন সংস্থা তথ্য বিশ্লেষণ করে ভ্যাকসিন পুরো নিরাপদ মনে করলেই বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেবে। এর আগে শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজেসের পরিচালক অ্যান্থনি ফাউসি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর হবে এখনই বলা যাচ্ছে না। সর্বোচ্চ ৭০ ভাগ কার্যকর হবে এমন আশাবাদ করলেও ফাউসি আগেই বলেছেন, ভ্যাকসিন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কার্যকর হলেও এটাকে সাফল্য মনে করা হবে। ভ্যাকসিনের দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েও স্বাস্থ্যসেবীরা প্রকাশ্যে তেমন কিছু এখনো বলছেন না। শেষ ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই তা জানা যাবে বলে বলা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এর মধ্যে নির্বাচনের মাঠে ভ্যাকসিন নিয়ে নানামুখী প্রচার লোকজনকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিয়েছে। জো বাইডেন ১৬ সেপ্টেম্বর করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন এবং ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে একদল বিশেষজ্ঞের ভার্চ্যুয়াল পরামর্শ গ্রহণ করেন। এরপর উইলমিংটন শহরে নিজ বাড়ি থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলে ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই ভ্যাকসিন সঠিকভাবে বিতরণের জন্য নির্দেশনা দেবেন।

জো বাইডেন আবারও বলেছেন, ‘আমি ভ্যাকসিন বিশ্বাস করি, বিজ্ঞান বিশ্বাস করি-ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্বাস করি না। জনগণও তেমনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্বাস করে না। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়। ভ্যাকসিন দ্রুত বাজারে নিয়ে আসার জন্য কোনো চাপও দেওয়া ঠিক নয়।’

জো বাইডেন ও ডেমোক্রেটিক দল ভ্যাকসিন নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার করছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করছেন, জো বাইডেন ও ডেমোক্রেটিক দল ভ্যাকসিন নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার করছে। ‘অ্যান্টি ভ্যাকসিন থিওরি’ প্রচার থেকে বাইডেনকে বিরত থাকার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

গালাপো নামের সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ভাইরাস গ্রহণ করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) অনুমোদন করার পরও বিনা মূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও ৩৫ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিন গ্রহণ করবে না বলে জরিপে দেখা গেছে। চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাকসিন গ্রহণের হার আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন