বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায় বিশ্বাস করেন না ডেমোক্রেটিক দল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে ভ্যাকসিন চলে এসেছে ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাচ্ছেন। এতে ভাইরাসের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। নিজেকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এটা দেখানোর জন্যই ট্রাম্প এমন করছেন।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কমলা হ্যারিস আরও বলেন, ‘আমি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ নিয়ে বিশ্বাস করব না। তিনি এর কার্যকারিতা বা বিশ্বস্ততা নিয়ে যে কথাই বলুন না কেন, তা বিশ্বাস করা যায় না।’

সিএনএন গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনের আগেই ভ্যাকসিন নিয়ে আসার জন্য চাপ দিচ্ছেন। ভ্যাকসিন উৎপাদন দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য ট্রাম্প উৎপাদনকারীদেরও চাপ দিচ্ছেন। এ কাজ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে দেখাতে চান, কোভিড-১৯ সংকট শেষ হওয়ার পথে।

আমি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ নিয়ে বিশ্বাস করব না। তিনি এর কার্যকারিতা বা বিশ্বস্ততা নিয়ে যে কথাই বলুন না কেন, তা বিশ্বাস করা যায় না
কমলা হ্যারিস
default-image

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) গত সপ্তাহে সব রাজ্যে এ নিয়ে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে যেসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন প্রদান করবে, নির্বাচনের আগেই সব প্রতিষ্ঠানকে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ চিঠি রাজ্য সরকারের পৌঁছানোর পরই নানা কথা শুরু হয়েছে। ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর হবে, এ নিয়ে এখনো কোনো সঠিক তথ্য নেই কারও কাছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা তৃতীয় পর্যায়ে বা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে বলে জানানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই বলেছেন, অক্টোবর মাসের মধ্যে ভ্যাকসিন চলে আসবে। যদিও সিডিসি থেকে একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁরাও এমনটি আসা করছেন। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারছেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদেরও করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে নানা সন্দেহ বিরাজ করছে। গত মাসে পলিটিকো নামের সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে একটি জরিপ করেছে। জরিপে দেখানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিলেও মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ শুরুতেই এ ভ্যাকসিন গ্রহণ করবে। ৪৬ শতাংশ লোকজন বলেছে, তারা কেবল পরিবারের পরামর্শেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করবে। ৪৩ শতাংশ লোকজন বলেছে, সিডিসি বা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসির পরামর্শেই তারা ভ্যাকসিন গ্রহণ করবে।

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে রীতিমতো রাজনীতি শুরু হয়েছে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা চার্লস শুমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লোকজন দ্রুত একটি কার্যকর এবং নিরাপদ ভ্যাকসিন আসুক এমন প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, যদি মানুষের জীবন ও মৃত্যুর বিষয়টা রাজনৈতিক হয়ে ওঠে, তখন মানুষের আস্থার সংকট দেখা দেয়।

default-image

হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের সদস্য অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, তিনি আশা করছেন, সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন চলে আসতে পারে। তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকর হলেই অনুমোদন দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি নিজেই ভ্যাকসিন গ্রহণ করে জনগণকে ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য বলবেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন