যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন

মার্কিন নির্বাচন

মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ট্রাম্প-বাইডেন

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে দুই দলের জোর প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন ছুটে গেছেন ফ্লোরিডায়। এ রাজ্যের নির্বাচনে হিস্পানিক ভোটারদের উদ্দেশ্য করে চলাচ্ছেন আগ্রাসী প্রচারণা। আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেনসিলভানিয়ার মাঠে। টাউন হল সভায় তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করে যাচ্ছেন নিজের মতো করে।

ওয়াশিংটন ত্যাগের আগেই নাগরিক প্রণোদনা নিয়ে সমঝোতায় আসার ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার। প্রণোদনা নিয়ে সমঝোতা না হলে নির্বাচনে এর প্রভাব নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছেন দুই দলের নেতারা।

গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। লকডাউন থেকে পুরো দেশ বেরিয়ে আসার পরও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে না। কোভিড-১৯ এর কারণে চাকরি হারানো অর্ধেকের বেশি মানুষ এখনো কাজে ফিরতে পারেননি। কর্মজীবী, নিম্ন আয় ও মধ্য আয়ের লোকজনের ঘর ভাড়া বাকি পড়ে আছে। বাড়ির মালিকেরা ভাড়া আদায় করতে না পারায় ব্যাংক ঋণ বকেয়া পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আবার উঠে দাঁড়ানো নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিদিনই সফলতা আর আশাবাদের কথা শোনাচ্ছেন। যদিও প্রকৃত অবস্থা অনেক খারাপ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কর্মহীনদের বেকার ভাতা সপ্তাহে ৬০০ ডলার দেওয়ার মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হয়ে গেছে। আরেক দফা নাগরিকদের সরাসরি নগদ প্রণোদনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের তিন পক্ষ-হোয়াইট হাউস, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে এ নিয়ে শুধু আলোচনাই হচ্ছে। সমঝোতা হচ্ছে না।

স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি জানিয়ে দিয়েছেন, সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত আইনপ্রণেতারা ওয়াশিংটনে অবস্থান করবেন। নির্বাচনের আর মাত্র দেড় মাস বাকি। এ সময়ে আইনপ্রণেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরে যান। পেলোসি বলেছেন, সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে প্রণোদনা নিয়ে সমঝোতা না হলে আইনপ্রণেতারা বিশেষ অধিবেশনে ওয়াশিংটনে ফিরে নাগরিক প্রণোদনা আইন পাস করবেন।

সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে প্রণোদনা নিয়ে সমঝোতা না হলে আইনপ্রণেতারা বিশেষ অধিবেশনে ওয়াশিংটনে ফিরে নাগরিক প্রণোদনা আইন পাস করবেন
ন্যান্সি পেলোসি
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্যতম ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য হিসেবে পরিচিত পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া নগরীতে টাউন হল সমাবেশ করেছেন। এবিসি নিউজ আয়োজিত এ সভায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তাঁর সাফল্যের কথা বলেছেন। সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন ফাঁস হওয়ার পর বলেছিলেন, তিনি করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার কথা জনগণের সামনে কমিয়ে বলেছিলেন। ভয় না ছড়ানোর জন্যই এমন করেছিলেন।

ফিলাডেলফিয়ার সভায় এবারে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কমিয়ে বলেননি। শক্তভাবেই শুরু থেকে করোনা মোকাবিলার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজের মতো করে বলেছেন, স্টক মার্কেট আবার ফিরে আসছে। লোকজনের আবার কর্মসংস্থান হচ্ছে দ্রুত। স্টক মার্কেটের ঊর্ধ্বগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের সবাই উপকৃত হওয়ার কথা বলেছেন ট্রাম্প।

default-image

এবিসি নিউজ তাৎক্ষণিক এক বিশ্লেষণে বলেছে, স্টক মার্কেটে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শতাংশ ধনী লোকের বিনিয়োগই বেশি। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, জো বাইডেন নির্বাচিত হলে সব পর্যায়ে কর বৃদ্ধি ঘটবে। সংবাদ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জো বাইডেন বলেছেন বছরে চার লাখের বেশি আয় যাদের, তাঁদের কর বাড়ানো হবে। অন্য কোনো কর বৃদ্ধি করা হবে না বলে বাইডেন স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এদিকে জো বাইডেন আরেক ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য ফ্লোরিডায় ছিলেন ১৫ সেপ্টেম্বর। চষে বেড়িয়েছেন রাজ্যের বেশ কিছু এলাকা। ফ্লোরিডার হিস্পানিক ভোটারদের এক সমাবেশে তিনি বক্তৃতা দিয়েছেন। ফ্লোরিডার কিসিমি শহরে জো বাইডেন হিস্পানিক ঐতিহ্যের মাস হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন। কিসিমি এলাকায় ৬০ শতাংশ ভোটারই হিস্পানিক। জো বাইডেনের জন্য ভয়ের কারণ হলো, ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিস্পানিক ভোটারদের কাছে হিলারির জনপ্রিয়তা বেশি থাকার পরও তিনি সেখানে নির্বাচনে হেরেছিলেন। হিলারি শ্বেতাঙ্গ লোকজনের ভোট কম পেয়েছিলেন।

এবারে ফ্লোরিডার শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের কাছে জো বাইডেন এখনো কিছুটা এগিয়ে আছেন। হিস্পানিক ভোটারদের কাছে বাইডেন শিবিরের প্রচার শুরু থেকে ছিল বলে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। জো বাইডেন তাঁর বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময়ে উসকে ওঠা বর্ণবৈষম্যের কথা বলেছেন। তিনি পুয়ের্তোরিকোতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলেছেন। ফ্লোরিডার হিস্পানিক কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ লোকজন নিয়ে তাঁর এ সমাবেশে হিস্পানিকদের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ট্রাম্পের চেয়ে তিনি মাত্র এক শতাংশ এগিয়ে আছেন জনমতের দিক থেকে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ডেমোক্রেটিক প্রচার শিবির থেকে হিস্পানিক রেডিও, টিভি ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়েছে। ফ্লোরিডার ভোটের রাজনীতিতে কিউবা থেকে আসা ব্যাপক লোকজনের প্রভাব। বাইডেন শিবিরের আক্রমণাত্মক প্রচার শুরু হয়েছে এসব দিক লক্ষ্য করে। ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারাতে পারলে ইলেকটোরাল ভোটের হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়া প্রায় দুরূহ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন