default-image

উদ্বেগ উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটাররা কেন্দ্রে লাইন দিচ্ছেন। বিশেষ করে সুইং স্টেটগুলোতে আজ মঙ্গলবার ভোর থেকেই এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। মধ্যরাত পেরিয়ে প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়েছেন। নির্ঘুম রাত কেটেছে নির্বাচন আর সংবাদকর্মীদের। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে এমন উত্তেজনা আর তোড়জোড় আগে কখনো দেখা যায়নি।

মহামারির সময়ে দুই লাখ ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যুর নিশ্বাসের মধ্যে মার্কিনরা এবার রেকর্ড সংখ্যক ডাকযোগে ভোট দিয়েছে। প্রায় ১০ কোটি আগাম ভোট পড়েছে যা, ২০১৬ সালে পড়া মোট ভোটের দুই তৃতীয়াংশ। নিউইয়র্কে সকাল থেকে লোকজন ভোটকেন্দ্রের দিকে যাচ্ছেন। তবে টানা নয় দিন আগাম ভোট দেওয়ার পর আজ সকালে ভোটকেন্দ্রে এখনো দীর্ঘ কোনো লাইন দেখা যায়নি।

এ রিপোর্ট লেখার সময় (নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টা) ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা ভিড় হতে পারে বলে তাঁরা ধারনা করছেন।

নিউইয়র্কের জ্যামাইকার একটি কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন বাংলাদেশি মার্কিন খায়রুল আলম। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, অসুস্থতার কারণে আগাম ভোট দিতে পারেননি। ভোট দিয়ে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের শেষ সকালটা দেখতে দেখতে ঘরে ফিরে টিভি দেখতে বসে পড়বেন।

নিউজার্সি রাজ্যের ৯০ শতাংশ তালিকাভুক্ত ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়ে দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সেন্ট্রাল নিউজার্সির তিনটি ভোট কেন্দ্রে এই প্রতিবেদক গিয়ে একজন ভোটারের দেখা পান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্বেতাঙ্গ এই নারী ভোটার বলেন, ডাকযোগে পাওয়া ভোটটি তিনি ড্রপ করতে এসেছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

নিউইয়র্ক–নিউজার্সি ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য। ধরেই নেওয়া হচ্ছে, এই দুই রাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ব্যাপক ভোটে জয়ী হবেন। তবে পাশের রাজ্য পেনসিলভানিয়ার অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধি হৃদয় অনির্বাণ খন্দকার রাতভর রাজ্যের ফিলাডেলফিয়া এলাকায় ছিলেন। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গ প্রধান এলাকাগুলোর ভোটকেন্দ্রে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী জো বাইডেনে কর্মীদের আধিক্য দেখে বোঝাই যাচ্ছিল, সে সব এলাকায় তাঁর পাল্লা ভারী। সকালে লোকজনকে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেখা যায়।

জো বাইডেনের জন্ম এলাকা পেনসিলভানিয়ার স্ক্র্যানটন শ্বেতাঙ্গবহুল এলাকা। সকাল ১০টার দিকে লোকজনকে হালকাভাবে ভোটকেন্দ্রের দিকে যেতে দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রে কোনো ভিড় দেখা যায়নি। দিনের মধ্যভাগে এই এলাকায় জো বাইডেন আসার কথা। তবে নগরের বেশ কিছু বাড়ির সামনে ট্রাম্পের সমর্থনে পোস্টার দেখা গেছে।

এবারের নির্বাচনে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য পেনসিলভানিয়া নির্বাচনী লড়াইয়ের উত্তপ্ত মাঠ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পকে আটকাতে হলে পেনসিলভানিয়ায় হারাতে হবে। রাত আটটায় ভোট গ্রহণ বন্ধ হবে। কয়েক লাখ ভোটার ডাকযোগে আগাম ভোট দিয়ে দিয়েছেন।

এ রাজ্যে প্রচারণার শুরুতে জনমত জরিপে বেশ এগিয়ে ছিলেন জো বাইডেন। শেষ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। কে জিতবেন কেউ বলতে পারছে না। রাজ্যের শ্বেতাঙ্গ এলাকার লোকজন সশরীরে ভোট দেবে বেশি। নির্বাচন কর্মীদের মতে, কেন্দ্রে পাওয়া ভোটে ট্রাম্পের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি। সে ক্ষেত্রে ডাকযোগে পাওয়া আগাম ভোট গণনা শেষে হওয়ার আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে এ রাজ্যে বিজয়ী ঘোষণা করে দিতে পারেন। যদি তাই হয়, এখান থেকেই শুরু হবে আইনি লড়াই। এমন আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। ফলে আগেই রাজ্যের গভর্নর ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, ফলাফল নিখুঁতভাবে গণনায় সময় লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে ফল ঘোষণায় বিলম্ব হতে পারে।

default-image
সব ছাপিয়ে আজ রাত থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হতে পারে। সব নগরকেন্দ্রে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। বিক্ষোভ ও সহিংসতা দমনে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে অধিকাংশ নগরে ন্যাশনাল গার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে

নির্বাচনের দিন সবার দৃষ্টি উইসকনসিন, মিশিগান, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, অ্যারিজোনা, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও পেনসিলভানিয়ায়। উইসকনসিন ও মিশিগানে বাইডেন নিশ্চিত এগিয়ে থাকার কথা জানাচ্ছেন আমাদের প্রতিনিধিরা।

মিশিগান থেকে ফারজানা চৌধুরী জানান, ভোটাররা ভোর থেকেই কেন্দ্রে যাচ্ছেন। এখনো ভিড় দেখা যাচ্ছে না। মধ্যরাতের পরও এই রাজ্যে প্রচারণায় ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজ্যের শ্বেতাঙ্গ এলাকায় ট্রাম্প ভোট পাবেন। তবে ঠিক কতটা জরিপের ফারাক কমাতে পারবেন, তা নিয়ে নিশ্চিত নন কেউ।

যুক্তরাষ্ট্রে এবারের ভোট আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণভাবে রাজনীতি বিমুখ মার্কিনরা হঠাৎ করে ভোট নিয়ে এমন আগ্রহী হয়ে ওঠার নানা কারণ খোঁজা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে যেমন বিরোধীরা মরিয়া, তেমনি ট্রাম্পের অন্ধ সমর্থকরাও এ নির্বাচনকে তাদের বাঁচা–মরার লড়াই হিসেবে নিচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার রাতেই এই লড়াইয়ের ফলাফল হয়তো জানা যাবে না। জো বাইডেন হয়তো ভূমিধস বিজয় পাবেন। কেউ কেউ মনে করছেন, সব জরিপকে বোকা বানিয়ে ট্রাম্প আবারও প্রেসিডেন্ট হবেন।

সব ছাপিয়ে আজ রাত থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হতে পারে। সব নগরকেন্দ্রে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। বিক্ষোভ ও সহিংসতা দমনে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে অধিকাংশ নগরে ন্যাশনাল গার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0