default-image

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আটলান্টার এক নির্বাচনকর্মী ট্রাম্প সমর্থকদের হুমকির মুখে গা-ঢাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁর ভূমিকার ভুল ব্যাখ্যা করে ভোট জালিয়াতির দায় চাপানো হয় তাঁর ওপর। এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তার জন্যই গা-ঢাকা দিতে বাধ্য হন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোট গণনার সময় একটি কাগজ মুচড়ে ছুড়ে ফেলার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ভিডিও দেখে অনেকেই ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন। কেউ কেউ ওই নির্বাচনকর্মীকে হামলার হুমকিও দেন। এ অবস্থায় তাঁর আত্মগোপনে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

জালিয়াতির অভিযোগটি ‘ভুয়া’ বলে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতেই এক সংবাদ সম্মেলনে উড়িয়ে দেন সেখানকার এক নির্বাচন কর্মকর্তা। পরে জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টির নিবন্ধন ও নির্বাচন বিভাগের পরিচালক রিচার্ড ব্যারন সিএনএনকে বলেন, ব্যালট প্রক্রিয়ার এলাকা থেকে কেউ একজন ভিডিওটি ধারণ করে টুইটারে পোস্ট করেছেন। ওই ভিডিও নির্বাচন কর্মকর্তারা দেখেছেন এবং পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁরা এটা নিশ্চিত হয়েছেন, ওই কর্মী কোনো ব্যালট নষ্ট করেননি। তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে—না, সন্দেহাতীতভাবে “না”।’

বিজ্ঞাপন
হুমকির মুখে ওই নির্বাচনকর্মী আত্মগোপন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও তিনি নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যাদি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই লজ্জাজনক
রিচার্ড ব্যারন, জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টির নিবন্ধন ও নির্বাচন বিভাগের পরিচালক

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ডাকযোগে আসা ভোট নিয়ে কাজ করছেন এক কর্মী। ব্যারন বলেন, তিনি কাটিং মেশিনে কাজ করছিলেন, যা ব্যালটভর্তি খাম খোলার কাজে ব্যবহার করা হয়। যে কাগজটি ওই কর্মী ছুড়ে ফেলেছেন, তা ভোট দেওয়ার নিয়মাবলি সম্পর্কিত একটি নির্দেশনা। বহু ভোটার ব্যালটের সঙ্গে ভুলে এই নির্দেশনাটিও পাঠান। ফলে এটি আলাদা করতে হয়। ওই কর্মী তাই করছিলেন।

সিএনএন জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি কয়েক লাখ মানুষ দেখেছে। এদের মধ্যে একটি অংশ একে ব্যালট নষ্ট করার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এ বিষয়ে ব্যারন সিএনএনকে বলেন, ‘সেখানে ওই নির্বাচনকর্মীর ব্যালট বের করার কোনো উপায় নেই। আমি এ ধরনের মেশিন চালিয়েছি। ওই ধাপে শুধু বাইরের খাম থেকে ভেতরের খামটি আলাদা করা হয়। খাম থেকে ব্যালট আলাদা করার কাজটি করা হয় পরের ধাপে।’

আত্মগোপনের যাওয়া ওই নির্বাচনকর্মী এখন তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে আছেন। তিনি কোনো অপরাধ করেননি বোঝার পর ব্যারন তাঁকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু ওই নির্বাচনকর্মী ব্যারনকে জানান, তিনি গাড়ি চালাতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ, তাঁর গাড়ি ও এর লাইসেন্স প্লেটের তথ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ব্যারন বলেন, হুমকির মুখে ওই নির্বাচনকর্মী আত্মগোপন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও তিনি নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যাদি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই লজ্জাজনক। এই কর্মী খুবই দক্ষ ছিলেন। এতটাই যে, অন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজটি তিনিই করেছিলেন। আমরা তাঁর ওপর নির্ভর করতাম। অথচ এখন এই জরুরি সময়ে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না।

মন্তব্য পড়ুন 0